Dhaka , Wednesday, 8 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ভোজ্য তেলের মজুদ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও র‍্যাব-১১ তদারকি ; অবৈধ মজুদে কোন ছাড় নেই ইউএন সিএমপি’র পাঁচলাইশ মডেল থানা এলাকায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা’র শুভ উদ্বোধন কাউখালীতে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমেলা শুরু সায়েদাবাদে বাস টার্মিনাল এলাকায় ডিএসসিসির বড় অভিযান: ২৪০টি অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদ শুরু ফেনীতে ভোজ্যতেলের মজুদ এবং অনুমোদন বিহীন লেভেলিং’র বিরুদ্ধে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম’র উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও  নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান ১১ এপ্রিল ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচন লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে বিজিবির বিশেষ অভিযান: মাদক ও মালামাল জব্দ পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তে ইটিসি রেজিষ্ট্রেশন শুরু; দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন দিগন্ত রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা থেকে অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার পুষ্টিকর খাবারের নামে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে নষ্ট কলা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত: পতাকা বৈঠকে বিজিবির তীব্র প্রতিবাদ আবারও চবির শাটলে পাথর হামলা: শিক্ষার্থী নয়, এবার রক্তাক্ত অভিভাবক খাদ্যের খোঁজে গাজীপুরে পাখির আনাগোনা, অতিথি পাখি হারানোর শঙ্কা তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনে হামলা-ভাংচুর, আটক ২ পরিবেশ সংকট মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করার আহবান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্বজুড়ে কাজ করবে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যালাইভ’: গুলশানে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা হাটহাজারীতে রামদার কোপে আঙুল বিচ্ছিন্ন, দেড় লাখ টাকা ছিনতাই,বেপরোয়া সন্ত্রাসে আতংকিত মানুষ র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিএসটিআই কর্তৃক মোবাইল কোট পরিচালনা করে ২২৬৪২ লিটার তেল জব্দ এবং ০২ প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আসন্ন পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপনকে ঘিরে সিএমপিতে নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রুপগন্জে শরিয়ত উল্লাহর নেতৃত্বে গ্রীন টিভির ক্যামেরাম্যানের ওপর হামলা। চট্টগ্রামের বর্জ্য ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে চসিক ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত আসন্ন বরকল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া কামনা করেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আলমগীর পাইকগাছায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত পাইকগাছায় এসিল্যান্ডের অভিযান; অবৈধ দখল অপসারণ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ছেংঙ্গারচর শাখার শুভ উদ্বোধন রাজাপুরে খাল দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের ভাঙার নির্দেশ পাইকগাছায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন সোনারগাঁ-এ পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, আহত ৫ বিজ্ঞান চর্চায় নতুন উদ্দীপনা: পাইকগাছায় জাতীয় বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

দুর্গাপুরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পাহাড়ের বাসিন্দারা।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:58:56 am, Sunday, 28 April 2024
  • 119 বার পড়া হয়েছে

দুর্গাপুরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পাহাড়ের বাসিন্দারা।।

পলাশ সাহা
দুর্গাপুর-নেত্রকোনা-প্রতিনিধি।।
সীমান্তবর্তী নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় পাহাড়ি গ্রামগুলোতে শুকনো মৌসুমে পানির সংকট পুরোনো। কিন্তু এবারের তীব্র দাবদাহে সেই সংকট আরও বেড়েছে। পাহাড়ে প্রায় প্রতিটি ঘরে এখন বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চলছে। পাহাড়ি ঝরনার ছড়ার ময়লাযুক্ত পানি ও পুকুরের ঘোলা পানিই এখন একমাত্র ভরসা।
দুর্গাপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে দুর্গাপুর সদর ইউনিয়ন ও কুল্লাগড়া ইউনিয়ন ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা পাহাড়ি অঞ্চল। সেখানকার ১০ থেকে ১২টি গ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। তবে তাদের কষ্টের অপর নাম পানি। পাহাড়ি ঝরনা ছড়ার ও পুকুরের দূষিত পানি দিয়ে করতে হচ্ছে রান্নাবান্না-গোসলসহ সব ধরনের কাজ। খেতেও হচ্ছে সেই পানি। এতে দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। বর্তমানে ওই সব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের কষ্ট এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে-সদর ইউনিয়নের গোপালপুর-ভবানীপুর-ফান্দা-বারমারী-ভরতপুর-গাজিকোনা গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় শুকনো মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে সাধারণ নলকূপ দিয়ে পানি আসে না। এজন্য তাঁরা বাধ্য হয়ে পুকুর বা পাহাড়ি ছড়ার পানি খেতে হয়। আর এতে পেটের অসুখ-চর্ম রোগসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। ওই গ্রামগুলোতে দিন আনে দিন খায় এমন হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় তাদের পক্ষে গভীর নলকূপ বসানো কিংবা গভীর কুয়া তৈরি করা সম্ভব নয়। গ্রামে দু-একজন অধিক অর্থ ব্যয় করে সাবমারসিবল বসালেও বেশিরভাগ মানুষের ভাগ্যে জুটছে না বিশুদ্ধ পানি। 
এদিকে গত কয়েক বছর ধরে পানি পেতে হতদরিদ্র পরিবারগুলো তিন চাকের রিং বসিয়ে অগভীর কুয়া তৈরি করে খাবার পানি সংগ্রহ করলেও শুকনো মৌসুমে সেখানে পানি থাকে না। কোনো কোনোটাই পানি থাকলেও সেটা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। একটু ভালো পানির আশা করলেও দূরদূরান্ত থেকে কাঁধে করে বয়ে এনে পান করতে হয় ।
গ্রামগুলোতে গিয়ে বিশুদ্ধ পানির অভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিবারগুলো জানায়-তাদের পানির খুবই কষ্ট করতে হচ্ছে। পাহাড়ি ছড়ার পানি আর পুকুরের ঘোলা পানিই এখন খেতে হচ্ছে। তাও দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়। সরকারিভাবেও কোনোরকম সহযোগিতা পাচ্ছে না তারা।
দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের ভরতপুর গ্রামের আদিবাসী নারী বুবু মারাক। তিনি দরিদ্র মানুষ। তাঁর বাড়িতে নলকূপ না থাকায় পানির জন্য সারা বছরই কষ্ট করতে হয়। তিনি বলেন-আমরার কল-টিউবওয়েল-নাই। আমরা অনেক আগে থাইকা পাহাড়ের ঝড়নার যে ছড়ার পানি আছে ওইডাই খাই। রান্নাবান্নাসহ সব কাজ করি। খালি আমি না সবারই এই অবস্থা।  
একই এলাকার প্রবন্দ হাজং বলেন-আমি দীর্ঘদিন পাহাড়ি ছড়ার পানি ব্যবহার করেছি। এই পানি খেয়ে অসুস্থ হতে হয়েছে অনেকবার। এখন একটু ভালো পানি খাওয়ার জন্য ৪০ হাজার টাকা ঋণ করে বাড়ির সামনে সাবমারসিবল বসিয়েছি।
বারোমারি গ্রামের হারিজ উদ্দিন বলেন-আমার বাড়িতে একটি নলকূপ আছে। কিন্তু তাতে পানি আসে না। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন পুকুরের পানি ছাঁকনি করে তা দিয়েই রান্নাবান্না-খাবারসহ সব চলে। পানির জন্য খুবই কষ্ট করতে হচ্ছে।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক রেগুলার মানকিন বলেন-আমাদের পানির খুবই অভাব। পাহাড়ি ছড়ায় গর্ত করে সে জায়গা থেকেই পানি সংগ্রহ করি সবাই। কিন্তু এই পানি বিশুদ্ধ না হওয়ার নানারকমের রোগের দেখা দেয় সবসময়ই। আমাদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি আমি।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রীতা নকরেক বলেন-আমাদের গ্রামে পানির তীব্র সংকট। পানির অভাবে গোসল-রান্নাবান্না কাপড় চোপড় পরিষ্কারসহ নিত্যদিনের কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একদিকে যেমন পানির অভাব অন্যদিকে এবারের তীব্র গরমের কারণে পাহাড়ি ছড়া বা পুকুরের পানি দিনের বেলায় অনেক গরম হয়ে থাকায় রাতে আনতে হয় সবার। সরকারিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলে এলাকার মানুষের উপকার হতো।
দুর্গাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বলেন-সীমান্তবর্তী আদিবাসী গ্রামগুলোতে গভীর টিউবওয়েল বসাতে হলে পাথর সরিয়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ’শ ফুট নিচে পর্যন্ত যেতে হয়। তার জন্য ব্যয়বহুল খরচ যা সেখানকার মানুষের কষ্টসাধ্য। তবে বিকল্প হিসেবে গভীর রিং টিউবওয়েল বসানো যায় তাহলে আদিবাসীদের সুপেয় পানির সমস্যা কিছুটা দূর হবে।
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুজ্জামান  বলেন-পাহাড়ি এলাকায় পাথরের জন্য গভীর নলকূপ বসানো সম্ভব হয় না। পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকট নিরসনে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এই পানির সংকট দূর করতে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করতে চাচ্ছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানিয়েছি।
এ নিয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. রকিবুল হাসান  বলেন-পানির সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ওই গ্রামগুলোতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোজ্য তেলের মজুদ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও র‍্যাব-১১ তদারকি ; অবৈধ মজুদে কোন ছাড় নেই ইউএন

দুর্গাপুরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পাহাড়ের বাসিন্দারা।।

আপডেট সময় : 04:58:56 am, Sunday, 28 April 2024
পলাশ সাহা
দুর্গাপুর-নেত্রকোনা-প্রতিনিধি।।
সীমান্তবর্তী নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় পাহাড়ি গ্রামগুলোতে শুকনো মৌসুমে পানির সংকট পুরোনো। কিন্তু এবারের তীব্র দাবদাহে সেই সংকট আরও বেড়েছে। পাহাড়ে প্রায় প্রতিটি ঘরে এখন বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চলছে। পাহাড়ি ঝরনার ছড়ার ময়লাযুক্ত পানি ও পুকুরের ঘোলা পানিই এখন একমাত্র ভরসা।
দুর্গাপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে দুর্গাপুর সদর ইউনিয়ন ও কুল্লাগড়া ইউনিয়ন ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা পাহাড়ি অঞ্চল। সেখানকার ১০ থেকে ১২টি গ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। তবে তাদের কষ্টের অপর নাম পানি। পাহাড়ি ঝরনা ছড়ার ও পুকুরের দূষিত পানি দিয়ে করতে হচ্ছে রান্নাবান্না-গোসলসহ সব ধরনের কাজ। খেতেও হচ্ছে সেই পানি। এতে দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। বর্তমানে ওই সব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের কষ্ট এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে-সদর ইউনিয়নের গোপালপুর-ভবানীপুর-ফান্দা-বারমারী-ভরতপুর-গাজিকোনা গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় শুকনো মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে সাধারণ নলকূপ দিয়ে পানি আসে না। এজন্য তাঁরা বাধ্য হয়ে পুকুর বা পাহাড়ি ছড়ার পানি খেতে হয়। আর এতে পেটের অসুখ-চর্ম রোগসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। ওই গ্রামগুলোতে দিন আনে দিন খায় এমন হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় তাদের পক্ষে গভীর নলকূপ বসানো কিংবা গভীর কুয়া তৈরি করা সম্ভব নয়। গ্রামে দু-একজন অধিক অর্থ ব্যয় করে সাবমারসিবল বসালেও বেশিরভাগ মানুষের ভাগ্যে জুটছে না বিশুদ্ধ পানি। 
এদিকে গত কয়েক বছর ধরে পানি পেতে হতদরিদ্র পরিবারগুলো তিন চাকের রিং বসিয়ে অগভীর কুয়া তৈরি করে খাবার পানি সংগ্রহ করলেও শুকনো মৌসুমে সেখানে পানি থাকে না। কোনো কোনোটাই পানি থাকলেও সেটা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। একটু ভালো পানির আশা করলেও দূরদূরান্ত থেকে কাঁধে করে বয়ে এনে পান করতে হয় ।
গ্রামগুলোতে গিয়ে বিশুদ্ধ পানির অভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিবারগুলো জানায়-তাদের পানির খুবই কষ্ট করতে হচ্ছে। পাহাড়ি ছড়ার পানি আর পুকুরের ঘোলা পানিই এখন খেতে হচ্ছে। তাও দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়। সরকারিভাবেও কোনোরকম সহযোগিতা পাচ্ছে না তারা।
দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের ভরতপুর গ্রামের আদিবাসী নারী বুবু মারাক। তিনি দরিদ্র মানুষ। তাঁর বাড়িতে নলকূপ না থাকায় পানির জন্য সারা বছরই কষ্ট করতে হয়। তিনি বলেন-আমরার কল-টিউবওয়েল-নাই। আমরা অনেক আগে থাইকা পাহাড়ের ঝড়নার যে ছড়ার পানি আছে ওইডাই খাই। রান্নাবান্নাসহ সব কাজ করি। খালি আমি না সবারই এই অবস্থা।  
একই এলাকার প্রবন্দ হাজং বলেন-আমি দীর্ঘদিন পাহাড়ি ছড়ার পানি ব্যবহার করেছি। এই পানি খেয়ে অসুস্থ হতে হয়েছে অনেকবার। এখন একটু ভালো পানি খাওয়ার জন্য ৪০ হাজার টাকা ঋণ করে বাড়ির সামনে সাবমারসিবল বসিয়েছি।
বারোমারি গ্রামের হারিজ উদ্দিন বলেন-আমার বাড়িতে একটি নলকূপ আছে। কিন্তু তাতে পানি আসে না। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন পুকুরের পানি ছাঁকনি করে তা দিয়েই রান্নাবান্না-খাবারসহ সব চলে। পানির জন্য খুবই কষ্ট করতে হচ্ছে।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক রেগুলার মানকিন বলেন-আমাদের পানির খুবই অভাব। পাহাড়ি ছড়ায় গর্ত করে সে জায়গা থেকেই পানি সংগ্রহ করি সবাই। কিন্তু এই পানি বিশুদ্ধ না হওয়ার নানারকমের রোগের দেখা দেয় সবসময়ই। আমাদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি আমি।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রীতা নকরেক বলেন-আমাদের গ্রামে পানির তীব্র সংকট। পানির অভাবে গোসল-রান্নাবান্না কাপড় চোপড় পরিষ্কারসহ নিত্যদিনের কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একদিকে যেমন পানির অভাব অন্যদিকে এবারের তীব্র গরমের কারণে পাহাড়ি ছড়া বা পুকুরের পানি দিনের বেলায় অনেক গরম হয়ে থাকায় রাতে আনতে হয় সবার। সরকারিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলে এলাকার মানুষের উপকার হতো।
দুর্গাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বলেন-সীমান্তবর্তী আদিবাসী গ্রামগুলোতে গভীর টিউবওয়েল বসাতে হলে পাথর সরিয়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ’শ ফুট নিচে পর্যন্ত যেতে হয়। তার জন্য ব্যয়বহুল খরচ যা সেখানকার মানুষের কষ্টসাধ্য। তবে বিকল্প হিসেবে গভীর রিং টিউবওয়েল বসানো যায় তাহলে আদিবাসীদের সুপেয় পানির সমস্যা কিছুটা দূর হবে।
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুজ্জামান  বলেন-পাহাড়ি এলাকায় পাথরের জন্য গভীর নলকূপ বসানো সম্ভব হয় না। পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকট নিরসনে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এই পানির সংকট দূর করতে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করতে চাচ্ছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানিয়েছি।
এ নিয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. রকিবুল হাসান  বলেন-পানির সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ওই গ্রামগুলোতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।