
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, ক্রীড়া, বেসামরিক প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর ও পারমাণবিক জ্বালানি খাত নিয়ে ছয়টি বড় ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দিল্লির লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে তিনি আগামী এক বছরে ১ কোটি তরুণকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং, আধুনিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, শিশুদের নিয়ে দেশব্যাপী ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানো এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেন।
১. ১ কোটি তরুণকে এআই প্রশিক্ষণ
আগামী এক বছরে দেশের ১ কোটি তরুণকে এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানান মোদি। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক এআই খাতে ভারতের তরুণদের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২. প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং
দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর কোচিংয়ের আর্থিক চাপ কমাতে বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। দক্ষ শিক্ষক ও ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহার করে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
৩. আধুনিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
জরুরি ও পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণসমৃদ্ধ বেসামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান মোদি। এর আওতায় বড় একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৪. শিশুদের ক্রীড়া প্রতিভা খোঁজা
৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্য থেকে সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করতে দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। লক্ষ্য, ভবিষ্যতে বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ তৈরি করা এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিকে ভারতের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো।
৫. সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানো
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে চিপের গুরুত্ব তুলে ধরে সেমিকন্ডাক্টর খাতে ভারতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান মোদি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ইতোমধ্যে তিনটি বড় সেমিকন্ডাক্টর কারখানা স্থাপিত হয়েছে এবং আগামী ৭ থেকে ৮ বছরে আরও পাঁচ থেকে আটটি কারখানা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
৬. পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় লক্ষ্য
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন মোদি। চলতি দশকের মধ্যেই পাঁচটি নতুন পারমাণবিক চুল্লু চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মোদির এসব ঘোষণা মূলত ভারতের তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা, ক্রীড়া সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে দেওয়া হয়েছে।

























