Dhaka , Wednesday, 19 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নীলফামারীতে হামলার শিকার চবির চারুকলা শিক্ষার্থী, মাথায় চার সেলাই সাইনবোর্ডে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, যানজট নিরসনে অভিযান তীব্র সমালোচনার মুখে রাহাত ফতেহ আলী খান, নেপথ্যে যে কারণ কোচের যে ৬ শব্দে পাল্টে গেল টাইগাররা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নেমে এলো সর্বনিম্নে চট্টগ্রামে নারীদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাসসেবা আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়নস’ জোড়া মুকুট জয় রামু সেনানিবাসের শিক্ষার্থী আফিয়ার রূপগঞ্জে বিক্রমপুর স্টিলে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার প্রমাণ পেয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের আড়াইহাজারে ম্যাজিস্ট্রেট দেখে ওষুধের দোকান বন্ধ করে পালালো ওষুধ ব্যবসায়ীরা ভোলায় বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কমিটি গঠন নিয়ে প্রশ্ন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ কাউখালীতে কাঠের ডাসার আঘাতে মায়ের মৃত্যু, ছেলে গ্রেপ্তার ১৮ আগস্ট ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথায় ভাড়া নৈরাজ্য , ঘাটে ঘাটে যাত্রী নামিয়ে ‘ভেঙে ভেঙে’ দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ কোম্পানীগঞ্জে মার্কেটে অগ্নিকান্ডে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি, ৯ দোকান ক্ষতিগ্রস্থ হাটহাজারীতে দিনদুপুরে তরুণকে ধাওয়া করে গুলি রামুতে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী আটক নেত্রকোণায় ৪০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার স্থায়ী কমিটির নতুন ৪ সদস্যের মহাসড়কে কোনো ধরনের থ্রি হুইলার চলতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাইল পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান: ইয়াবা-গাঁজা ও চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার ৯ পাইকগাছায় টেকসই মৎস্য উৎপাদনে মতবিনিময় মধুপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘হলদে পাখি’ সম্প্রসারণে মতবিনিময় সভা ঢাকায় নারীদের জন্য বিশেষ বাসসেবা চালু করছে বিআরটিসি প্রশিক্ষণ শেষে খালি হাতে ফিরবেন নারীরা, জানতে পেরেই উদ্যোগ নিলেন মানবিক ডিসি জাহিদ ভাতগ্রাম কে আর এস ইনস্টিটিউশনে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের অভিভাবকদের সংবর্ধনা পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে কক্সবাজারকে গড়ে তুলতে জনসচেতনতা জরুরি: রামুতে এমপি কাজল কক্সবাজার শহরের আবাসিক হোটেল থেকে ঢাকা মিরপুরের হানিফের মরদেহ উদ্ধার সরাইল উপজেলা প্রেসক্লাবে মতবিনিময় করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সরকারের গতি ও অগ্রগতি হতাশাজনক: এবি পার্টি পে স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে যা জানালেন মন্ত্রী

‎লক্ষ্মীপুরে পানির অভাবে ফেটে চৌচির বোরো ধানের খেত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:16:31 pm, Sunday, 15 March 2026
  • 79 বার পড়া হয়েছে

মোঃ মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

‎লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে বোরো ধানের ক্ষেত। সেচ খাল শুকিয়ে যাওয়ায় পানি সংকটে বোরো ধানের চারা লাল হয়ে পুড়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও চাষ করা জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে বোরো ধানের উৎপাদন নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে রামগঞ্জ উপজেলার হাজারো কৃষকের মাঝে। চাঁদপুর সেচ প্রকল্প থেকে লক্ষ্মীপুরে পানি না আসায় বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।
‎১৪ মার্চ (শনিবার) সরজমিনে গিয়ে রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর, চন্ডীপুর, লামচর ও পৌর শহরের কয়েকটি এলাকায় এই চিত্র দেখা গেছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত খাল পুনঃখনন ও বিকল্প সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান জানান, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের আওতায় রামগঞ্জ ও রায়পুরে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার খালে সেচ সুবিধা দেওয়া হলেও ১৯৭৮ সালে স্থাপিত বাগাতি পাম্প হাউজের পাম্পগুলোর কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে বর্তমানে প্রায় ৩০শতাংশে নেমেছে।ফলে আগের তুলনায় পানি উত্তোলন কমে গেছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে এবং রামগঞ্জ উপজেলায় ৯ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
‎কিন্তু পানির অভাবে অন্তত ১২৫ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্ভব হয়নি। আবাদ হওয়া জমিতেও তীব্র পানি সংকট চলছে। উত্তর চন্ডীপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রায় ৩ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। মৌসুমের শুরুতে খালে কিছু পানি ছিল, সেই পানি দিয়ে কোনোভাবে চারা লাগিয়েছি। এখন খালে একেবারেই পানি নাই। চারা বাঁচিয়ে রাখা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত পানি না পেলে পুরো জমির ধান নষ্ট হয়ে যাবে।
‎পশ্চিম চন্ডীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। সার-বীজ কিনতে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন যদি সময়মতো সেচের পানি না দিতে পারি তাহলে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। ঋণের টাকাও শোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।’ আবার খালে পানি না থাকায় প্রস্তুত জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। শিবপুর-ইছাপুর এলাকার কৃষক মঙ্গল গাজী বলেন, ‘প্রায় ২ বিঘা জমি প্রস্তুত করে রেখেছি বোরো রোপণের জন্য। কিন্তু খালে পানি না থাকায় এখনও রোপণ করতে পারছি না। সময় চলে গেলে ফলন কমে যাবে, তখন আমাদের লোকসান গুনতে হবে।’ একই এলাকার কৃষক শাহনেওয়াজ বলেন, ‘আমরা ধার-দেনা করে চাষ করি। পানি না থাকলে সব খরচ জলে যাবে, পরিবার পরিজন নিয়ে বিপদে পড়তে হবে।’
‎চন্ডীপুর এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের বিকল্প সেচ পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।’
‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাব্বির আহম্মদ সিফাত বলেন, ‘সেচ সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যসংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘চাঁদপুর সেচ প্রকল্প থেকে লক্ষ্মীপুরে পানি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। মেঘনা নদীর রায়পুর অংশের অপেক্ষাকৃত মিষ্টি পানি খালের মাধ্যমে আনার প্রকল্প যদি হাতে নেওয়া হয় তাহলে হয়ত এ এলাকার চাষীরা বোরো আবাদ চাষে কিছুটা নিশ্চিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে হামলার শিকার চবির চারুকলা শিক্ষার্থী, মাথায় চার সেলাই

‎লক্ষ্মীপুরে পানির অভাবে ফেটে চৌচির বোরো ধানের খেত

আপডেট সময় : 02:16:31 pm, Sunday, 15 March 2026

মোঃ মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

‎লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে বোরো ধানের ক্ষেত। সেচ খাল শুকিয়ে যাওয়ায় পানি সংকটে বোরো ধানের চারা লাল হয়ে পুড়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও চাষ করা জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে বোরো ধানের উৎপাদন নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে রামগঞ্জ উপজেলার হাজারো কৃষকের মাঝে। চাঁদপুর সেচ প্রকল্প থেকে লক্ষ্মীপুরে পানি না আসায় বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।
‎১৪ মার্চ (শনিবার) সরজমিনে গিয়ে রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর, চন্ডীপুর, লামচর ও পৌর শহরের কয়েকটি এলাকায় এই চিত্র দেখা গেছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত খাল পুনঃখনন ও বিকল্প সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান জানান, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের আওতায় রামগঞ্জ ও রায়পুরে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার খালে সেচ সুবিধা দেওয়া হলেও ১৯৭৮ সালে স্থাপিত বাগাতি পাম্প হাউজের পাম্পগুলোর কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে বর্তমানে প্রায় ৩০শতাংশে নেমেছে।ফলে আগের তুলনায় পানি উত্তোলন কমে গেছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে এবং রামগঞ্জ উপজেলায় ৯ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
‎কিন্তু পানির অভাবে অন্তত ১২৫ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্ভব হয়নি। আবাদ হওয়া জমিতেও তীব্র পানি সংকট চলছে। উত্তর চন্ডীপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রায় ৩ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। মৌসুমের শুরুতে খালে কিছু পানি ছিল, সেই পানি দিয়ে কোনোভাবে চারা লাগিয়েছি। এখন খালে একেবারেই পানি নাই। চারা বাঁচিয়ে রাখা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত পানি না পেলে পুরো জমির ধান নষ্ট হয়ে যাবে।
‎পশ্চিম চন্ডীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। সার-বীজ কিনতে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন যদি সময়মতো সেচের পানি না দিতে পারি তাহলে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। ঋণের টাকাও শোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।’ আবার খালে পানি না থাকায় প্রস্তুত জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। শিবপুর-ইছাপুর এলাকার কৃষক মঙ্গল গাজী বলেন, ‘প্রায় ২ বিঘা জমি প্রস্তুত করে রেখেছি বোরো রোপণের জন্য। কিন্তু খালে পানি না থাকায় এখনও রোপণ করতে পারছি না। সময় চলে গেলে ফলন কমে যাবে, তখন আমাদের লোকসান গুনতে হবে।’ একই এলাকার কৃষক শাহনেওয়াজ বলেন, ‘আমরা ধার-দেনা করে চাষ করি। পানি না থাকলে সব খরচ জলে যাবে, পরিবার পরিজন নিয়ে বিপদে পড়তে হবে।’
‎চন্ডীপুর এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের বিকল্প সেচ পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।’
‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাব্বির আহম্মদ সিফাত বলেন, ‘সেচ সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যসংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘চাঁদপুর সেচ প্রকল্প থেকে লক্ষ্মীপুরে পানি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। মেঘনা নদীর রায়পুর অংশের অপেক্ষাকৃত মিষ্টি পানি খালের মাধ্যমে আনার প্রকল্প যদি হাতে নেওয়া হয় তাহলে হয়ত এ এলাকার চাষীরা বোরো আবাদ চাষে কিছুটা নিশ্চিত হবে।