
নুর মোহাম্মদ, কক্সবাজার,
কক্সবাজারের রামুতে মাত্র আট বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশের খুদে শিক্ষার্থী আরশি আমিন আফিয়া। বিশ্বের ১২টি দেশের সহস্রাধিক প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সে একই সঙ্গে অর্জন করেছে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়নস’ ও সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব।
মানসিক গণনা, একাগ্রতা ও দ্রুত চিন্তাশক্তির দক্ষতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে অংশ নেয় প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী। শুরু থেকেই অসাধারণ নির্ভুলতা ও দ্রুততার পরিচয় দিয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করে আফিয়া। এর ফলে সে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়নস’ খেতাবের পাশাপাশি সরাসরি ফাইনাল রাউন্ডে জায়গা করে নেয়।
চূড়ান্ত পর্বে মাত্র পাঁচ মিনিটে ১০০ থেকে ১৫০টি জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানের চ্যালেঞ্জ ছিল। স্বল্প সময়ের এই কঠিন পরীক্ষায় আফিয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ নির্ভুলতার সঙ্গে উত্তর দিয়ে বিচারকদের মুগ্ধ করে। তার অসাধারণ নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে আসরের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষণা করা হয়।
প্রতিযোগিতার পরীক্ষা ও ফলাফল আগেই সম্পন্ন হলেও সম্প্রতি রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আফিয়ার হাতে ক্রেস্ট, ট্রফি, মেডেল ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। এডুটিউন (EduTune) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তার এই আন্তর্জাতিক সাফল্য উদযাপন করা হয়।
এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একটি বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টিরও অংশীদার হয়েছে আফিয়া। এ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ইনফ্লুয়েন্সার বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এর পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা সনদ।
পুরস্কার গ্রহণের পর আফিয়া বলে, “নিয়মিত অনুশীলন করলে কঠিন বিষয়ও সহজ হয়ে যায়।” তার এ বক্তব্যে সাফল্যের পেছনে নিয়মিত অনুশীলন, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম আরও উজ্জ্বল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সে সবার কাছে দোয়া চেয়েছে।
আরশি আমিন আফিয়া পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। তার বাবা নায়েক মো. আল-আমিন একজন বিজিবি সদস্য এবং মা কহিনুর আকতার। আফিয়া বর্তমানে কক্সবাজার জেলার রামু সেনানিবাসের শহীদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
আফিয়ার এই সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রামুবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পেলে বাংলাদেশের আরও অনেক খুদে শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন সাফল্য অর্জন করতে পারবে।

























