
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রামের কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে বহাদ্দারহাট, চকবাজার হয়ে রিয়াজউদ্দীন বাজারের আমতল পর্যন্ত একসময় সরাসরি গাড়ি চলাচল করলেও এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। অভিযোগ উঠেছে,
আমতল, তিন পুলের মাথা থেকে যাত্রী উঠিয়ে মাঝ পথে গাড়ির সমস্যার কথা বলে যাত্রী নামিয়ে আবার নতুন করে যাত্রী গাড়িতে তুলে ‘ভেঙে ভেঙে’ গন্তব্যে পৌঁছানোর কৌশলে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে বহদ্দারহাট ১৫ টাকা, বহদ্দারহাট থেকে চকবাজার ১০ টাকা, চকবাজার থেকে আনন্দকিল্লা ১৫ টাকা এবং আনন্দকিল্লা থেকে আমতল ১৫ টাকা—এভাবে কয়েক দফায় ভাড়া গুনতে গিয়ে একই যাত্রায় প্রায় ৪৫ টাকা বা তারও বেশি দিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে ফুলতল-শাকপুরা পর্যন্ত দুপুরের দিকে ৪০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গ্যাস সংকটকে অতিরিক্ত ভাড়ার কারণ হিসেবে দেখানো হলেও, সরকারি অনুমোদন ছাড়া এভাবে ভাড়া বাড়ানোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ, বোয়ালখালী-কালুরঘাট-কাপ্তাই রাস্তার মাথা রুটে চলাচলকারী কিছু টুকটুকি ও অন্যান্য যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র ও বিআরটিএ অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদি এসব যানবাহনের অনুমোদন না থাকে, তাহলে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করছে কীভাবে—এ প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।
যাত্রীদের ভাষ্য, গাড়িচালকরা প্রথমে সরাসরি গন্তব্যে যাওয়ার কথা বললেও পথে গিয়ে বিভিন্ন ঘাটে যাত্রী নামিয়ে দেন। পরে আবার নতুন যাত্রী তুলে অন্য গাড়িতে পাঠানো হয়। ফলে যাত্রীরা একদিকে সময় হারাচ্ছেন, অন্যদিকে একই পথের জন্য বারবার ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ ব্যবস্থার পেছনে কথিত ‘সমিতি’, লাইনম্যান ও টোকেন ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। কারা গাড়ির লাইন নিয়ন্ত্রণ করেন, কারা ভাড়া নির্ধারণ করেন এবং কোনো ধরনের টোকেন বা অর্থ আদায় হলে তার বৈধ ভিত্তি কী—তা তদন্ত করে প্রকাশ করা জরুরি।
আরও প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাফিক অভিযান পরিচালনার সময় কথিত সমিতির লোকজনের উপস্থিতি দেখা গেলে তারা কোন সরকারি বা আইনগত ক্ষমতাবলে সেখানে থাকেন। যানবাহনের বৈধতা, রুট পারমিট, ফিটনেস, চালকের লাইসেন্স ও ভাড়া নির্ধারণ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়; কোনো বেসরকারি ব্যক্তি বা সংগঠনের নিজস্ব ‘আইন’ চালানোর সুযোগ থাকার কথা নয়।
স্থানীয়দের দাবি, কাপ্তাই রাস্তার মাথা-বোয়ালখালী রুটে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে প্রতিটি যানবাহনের কাগজপত্র, অনুমোদন, রুট পারমিট ও ভাড়া যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে কথিত সমিতি ও লাইনম্যানদের কার্যক্রমের বৈধতাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সবশেষে প্রশ্ন একটাই—সড়কে চলবে সরকারি নির্ধারিত আইন, নাকি চালক-লাইনম্যান ও কথিত সমিতির ‘নিজস্ব আইন’? সরাসরি গণপরিবহন ও নির্ধারিত ভাড়া নিশ্চিত না হলে কাপ্তাই রাস্তার মাথা-বোয়ালখালী রুটসহ অন্যান্য সড়কে এইসব নৈরাজ্য যাত্রী হয়রানি বন্ধ হবে না—এমনটাই মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

























