
শওকত আলম, কক্সবাজার,
কক্সবাজারের আলোচিত ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় ডাকাতির ঘটনায় ঈদগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (SRB) পৃথক অভিযানে একজন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত ১৯ অক্টোবর সকালে ও দুপুরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হিমছড়ি ঢালায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রীদের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে। পরপর এসব ঘটনায় ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে ঈদগাঁও থানা পুলিশ। পুলিশের অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, SRB-এর পৃথক অভিযানে একজন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আরও দুজন আটক হওয়ায় এ ঘটনায় মোট ছয়জন আটক হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার দিন তিনটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ডাকাতির তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। দেশজুড়ে একাধিক সিএনজিতে গণডাকাতির ঘটনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও জবানবন্দিতে উঠে আসা তথ্য ডাকাতির প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার বলেন, “হিমছড়ি ঢালায় ডাকাতির ঘটনায় ঈদগাঁও থানা পুলিশ সফল অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে, যাতে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়। সড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
পুলিশের অভিযান ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির সূত্র ধরে আলোচিত ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

























