
আঃ হামিদ, (মধুপুর) টাঙ্গাইল,
টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঞ্চল্যকর জালেমন বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমকে (৩২) নরসিংদীর বেলাব থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া জবানবন্দির বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে কুড়াল ও রড দিয়ে আঘাত করে জালেমন বেগমকে হত্যা করা হয়। এ সময় তার গলায় থাকা চেইন ও কানের দুল নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়ালটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মধুপুর থানায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম। এ সময় মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক ও ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ জুলাই মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়নের দিঘিরপাড় এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ মিঠুর মা জালেমন বেগমকে (বৃদ্ধা) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তিনি বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। ওই বাড়িতে এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছিল।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জবানবন্দিতে শাহ আলম দাবি করেন, তিনি সহযোগী সজিবকে সঙ্গে নিয়ে চুরির উদ্দেশ্যে জালেমন বেগমের ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় কুড়াল ও রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার গলায় থাকা চেইন ও কানের দুল নিয়ে তারা পালিয়ে যান।
ঘটনার পর প্রতিদিনের মতো পান খাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী রেজাউলের স্ত্রী জালেমন বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে জালেমন বেগমের মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় মধুপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে মধুপুর থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে শাহ আলমকে শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার নরসিংদীর বেলাব থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম আরও জানান, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামছুল আলম সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং তার ও মধুপুর থানার ওসি এ কে এম ফজলুল হকের দিকনির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।

























