
ফরিদপুর প্রতিনিধি,
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কারী মো. মাছুদ (২৭) নামে এক মাদ্রাসার মুহতামিমকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে মারধর করে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নেয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব বিএসডাঙ্গী এলাকার জামিয়া ইসলামীয়া দারুল কোরআন মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কারী মো. মাছুদ খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গদাগাড়া গ্রামের মাহবুর গোলদারের ছেলে। তিনি ওই মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগকারী শিশুটি ওই মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি চরভদ্রাসন উপজেলার সব্যুল্যা মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকায়।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করে। পরিবারের সদস্যদের কাছে সে জানায়, এর আগেও তাকে কয়েকবার যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর তার বাবা ও স্থানীয় কয়েকজন লোক মাদ্রাসায় গিয়ে কারী মাছুদকে ধরে ফেলেন। এ সময় উত্তেজিত লোকজন তাকে মারধর করে মাদ্রাসার একটি গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
চরভদ্রাসন থানার এসআই করিম ও এসআই গোলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় থাকা কারী মাছুদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী বলেন, “মাদ্রাসায় ছুটি চলছিল। এর আগেও ছেলেটিকে কয়েকবার যৌন নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আজ ঘটনাটি শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে জানায়। পরে তার বাবা লোকজন নিয়ে মুহতামিম কারী মাছুদকে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। তবে ঘটনাটি সদরপুর থানার অন্তর্গত, অভিযুক্তকে সদরপুর থানায় দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

























