
সোহানুর রহমান বাপ্পি,
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের মতলবপুর গ্রামের মোঃ কাজল মিয়ার ছেলে জয়। দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দশত বাজারে একটি বরফ কলের আড়ালে অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করে আসছে মানহীন শিশু খাদ্য—আইসক্রিম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আইসক্রিম তৈরির আড়ালে সেখানে চলছে চরম জনস্বাস্থ্যবিরোধী কর্মকাণ্ড।
মাছ ও আইসক্রিম মিলেমিশে একাকার:
সরেজমিনে তদন্তে উঠে আসে এক ভয়াবহ চিত্র। যেখানে পচা মাছের বরফ তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয়, ঠিক সেই একই স্থানে ও একই প্রক্রিয়ায় শিশুদের আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছে। পচা মাছ ও আইসক্রিম মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকা এই পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত। কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই সেখানে।
ক্ষতিকারক বিষাক্ত রঙের ব্যবহার:
এই আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের কৃত্রিম রাসায়নিক ও কাপড়ে ব্যবহৃত টেক্সটাইল রঙ, যা কোনোভাবেই মানুষের খাবারের জন্য উপযোগী নয়। আকর্ষণীয় রঙ ও ফ্লেভার দিয়ে শিশুদের আকৃষ্ট করতে তৈরি করা হচ্ছে এই বিষাক্ত খাবার, যা খেলে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, কিডনির সমস্যাসহ দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে কোমলমতি শিশুরা।
স্কুলপড়ুয়া ছোট সোনামণিরাই প্রধান টার্গেট:
তাদের নিজস্ব হকারদের মাধ্যমে গ্রামের ও আশেপাশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ছোট ছোট সোনামণিদের টার্গেট করে এসব বিষাক্ত আইসক্রিম বাজারজাত করা হচ্ছে। টিফিনের সময় বা স্কুল ছুটির পর না বুঝে অবোধ শিশুরা স্বল্প মূল্যে কিনে খাচ্ছে এই মারাত্মক ক্ষতিকর আইসক্রিম।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রদেয় জরুরি দাবি:
একটি বরফ কলের আড়ালে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য তৈরি হয়ে আসছে, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও শিশুদের জীবন সুরক্ষায় অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং খাদ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অননুমোদিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব মানহীন আইসক্রিমে ব্যবহৃত শিল্প কারখানার টেক্সটাইল রঙ ও কৃত্রিম কেমিক্যাল শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি।
মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের মতে:
তাৎক্ষণিক প্রভাব: এই ধরনের নোংরা ও দূষিত পরিবেশে তৈরি আইসক্রিম খেলে শিশুরা তাৎক্ষণিকভাবে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটে তীব্র ব্যথা ও বমিভাব সহ বিভিন্ন গ্যাস্ট্রোঅন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি: খাবারে অনোপযোগী অননুমোদিত রঙ ও বিষাক্ত রাসায়নিক দীর্ঘদিন শরীরে প্রবেশের ফলে শিশুদের কিডনি ও লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া রক্তস্বল্পতা, মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং অ্যালার্জিজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জোর তাগিদ দিয়ে জানান, শিশুদের কোমল পরিপাকতন্ত্র এ জাতীয় বিষাক্ত রাসায়নিক সহ্য করতে পারে না। তাই শিশুদের জীবন রক্ষায় দ্রুত এই অবৈধ কারখানাটি বন্ধ করা এবং হকারদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে এর বিপণন স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান ।

























