
সজল চন্দ্র রায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি,
নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ আগস্ট নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় বাঁশের সাঁকো নির্মাণের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী রিপন রায়কে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত রিপনের মাথায় চারটি সেলাই পড়েছে। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণের জন্য স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সবার সম্মতিক্রমে সংগৃহীত অর্থ চবির চারুকলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিপন রায়ের বাবার কাছে জমা রাখা হয়। এ বিষয়টি একটি পক্ষ মেনে না নেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
পরে বিরোধের সমাধানে গ্রামের মাতব্বরদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে। আলোচনার একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি হলে শুসেন রায়ের (৪২) নেতৃত্বে কয়েকজন রিপন রায়সহ উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালান। এ সময় রিপন রায় ও তাঁর চাচি শান্তি বালা (৪৫) আহত হন।
রিপন রায় বলেন, ‘মায়ের অসুস্থতার কারণে আমি গ্রামের বাড়িতে আসি। আসার পর দেখি, গ্রামের সাঁকো সংস্কার নিয়ে বিরোধ চলছে। যেহেতু এর সঙ্গে আমার বাবা যুক্ত আছেন, তাই একজন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিই।’
তিনি বলেন, ‘আলোচনা চলাকালে কয়েকটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হলে তারা অতর্কিতভাবে হামলা চালায় এবং আমাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে আমি ও আমার চাচি শান্তি বালা গুরুতর আহত হই। আমি মাথায় ও হাতে আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হই। আমার মাথায় চারটি সেলাই পড়েছে।’
রিপন আরও বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আগে থেকেই আমাদের মনোমালিন্য ছিল। আমাদের ওপর হামলার উদ্দেশ্য তাদের আগে থেকেই ছিল। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রতিনিয়ত আমাদের মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
হামলায় উপস্থিত কয়েকজনকে শনাক্ত করেছেন রিপন রায়। তারা হলেন—শুসেন রায় (৪২), ভূপেন রায় (৩৫), জীবন রায় (২৬), সুমন রায় (১৯), ললিত রায় (৪৫), হরি রায় (২৮), গৌরাঙ্গ রায় (২০) ও সীতানাথ রায় (৩২)।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে অবগত ছিলাম না। আপনি বলার পরই প্রথম জানলাম। এখন ওই শিক্ষার্থীর খোঁজখবর নিয়ে সব ধরনের সহায়তা করব।’

























