
অরবিন্দ রায়,
গ্যাস সংকটের কারনে ২০২৫- ২০২৬ অর্থ বছরে নরসিংদীর ঘোড়াশাল – পলাশ ইউরিয়া সারকারখানা নির্ধারিত লক্ষমাএা অর্জন করতে পারেনি। গ্যাস সংকটের কারণে টানা ৪০ দিন বন্ধথাকার কারণে দক্ষিন এশিয়ার বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী এ প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ্যমাত্রার উৎপাদন হয়নি বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কারখানাটিতে ৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে ৪০ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে মোট উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো: ফখরুল ইসলাম।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন ২ হাজার ৮ শত মেট্রিক টন এবং বছরে ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টনইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা সম্পন্ন পরিবেশ বান্ধব এই কারখানাটিতে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে উৎপাদনলক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে উৎপাদন ঘাটতিতে পড়েছে কারখানাটি। গ্যাস সংকটের কারণেটানা ৪০ দিন গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উৎপাদন নেমে দাড়ায় ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টনে।প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন সার উৎপাদন ঘাটতি দেখা দেয়।
ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নতুন অর্থবছরে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সারকারখানা কর্তৃপক্ষ। আগামী২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণকরা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং কারখানার যন্ত্রপাতির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতকরা গেলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের।
উৎপাদন শুরুর প্রথম বছরেই ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা করে কারখানাটি। ২০২৪-২৫অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন পাঁচটি ইউরিয়া সারকারখানার মধ্যে এটিই একমাত্র মুনাফা অর্জন করে।
উল্লেখ্য, সরকার ক্রমাগত লোকসানে থাকা ১ হাজার চারশত মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনকারী ঘোড়াশালসার কারখানা ও ৩ শত মেট্রিক টন সার উৎপাদনকারী পলাশ সারকারখানা দুটি ভেঙে ঘোড়াশাল –
পলাশইউরিয়া সার কারখানা নামে একটি বৃহৎ কারখানা করে।
প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিসিআইসির অধীনে ১১০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত করাকারখানাটি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে কারখানাটির উদ্বোধন হলেও ২০২৪ সালের ১১ মার্চ কারখানাটিতে বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদন শুরু হয়। এতে কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় দৈনিক দুই হাজার ৮শ টন।
সারকারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২০২৬- ২০২৭ অর্থ বছরে ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে নতুন অর্থ বছরে লক্ষ্যমাএা অর্জনের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ লক্ষমাএা অতিক্রম করারও আশা প্রকাশ করছেন।

























