
রাশেদ আহমেদ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যসহ উজানের টানা প্রবল বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে মৌলভীবাজার জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত পানির চাপে মনু নদীর পানি স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ায় রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হঠাৎ করেই পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি মানুষ উদ্ধারের জন্য নৌকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ইউপি সদস্য কাজি আপ্তাব রুহুল ও শাওন আহমেদ বলেন, জনপ্রতিনিধিরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের পাশে রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ সময় ইউপি সদস্য তছকির মিয়া, মাহবুবুর রহমান ও ফজলুর রহমানসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কদমহাটা উচ্চ বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে বন্যাদুর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানান, মনু নদীর তীররক্ষা বাঁধের দুর্বলতার কারণে প্রায় প্রতিবছরই একই ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। তাঁদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাঁধ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ জন্য তাঁরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও তুলেছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান-এর কাছে মনু নদীর টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে প্রতি বছরের বন্যা ও নদীভাঙনের দুর্ভোগ থেকে হাজারো মানুষ রক্ষা পাবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

























