Dhaka , Saturday, 14 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
শনিবারের অঙ্গীকার, বাসা-বাড়ি রাখি পরিষ্কার” স্লোগানে চসিকের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান উদ্বোধন মধুপুরে বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক ও ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল হরিপুরে অনলাইন প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল পাইকগাছায় তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মোবাইল কোর্টে জরিমানা রূপগঞ্জে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন ঝালকাঠিতে নৌ কর্মকর্তা’র প্রাইভেটকার খাদে পড়ে দেড় বছরের শিশু নিহত কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীতে ইয়াবা পাচার, গ্রেপ্তার-২ ঈদে নৌ-যাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোংলায় কোস্ট গার্ডের বিশেষ টহল ঝালকাঠিতে মাহে রমজান উপলক্ষে কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন সোনাইমুড়ীতে হিযবুত তওহীদের দুই সদস্য হত্যার ১০ বছরেও বিচার হয়নি: মামলা প্রত্যাহারে ক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি নোয়াখালীতে নিখোঁজের দুইদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার মির্জাপুরে নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রী অপহরণ শ্রীপুরে ঝড়ো হাওয়ায় গাছের ডাল পরে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু। লক্ষ্মীপুরে দোকানের তালা ভেঙ্গে ২৬ লাখ টাকার মালামাল চুরি রূপগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাড়ির মালিকের মৃত্যু, দগ্ধ ২ শরীয়তপুরে দাদির সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু পাইকগাছায় ৭৭টি মাদ্রাসায় সৌদি বাদশাহর উপহারের খেজুর বিতরণ ঝালকাঠিতে ১৬০টি গাছ কাটার পর স্থগিত প্রায় দুই হাজার গাছ কাটার প্রকল্প রাজাপুরে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতামূলক অভিযান মধুপুরে এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে সৌদির খেজুর বিতরণ রূপগঞ্জে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন ১৭ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হবে : পানিসম্পদ মন্ত্রী। অফিসে সময়মতো উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, অন্যথায় শাস্তির হুঁশিয়ারি ত্রাণমন্ত্রীর তারাগঞ্জে আলোচিত জোড়া খুনের আসামি মজিদুল গ্রেফতার: র‍্যাবের ঝটিকা অভিযানে সাফল্য রূপগঞ্জে আগুনে চার দোকান পুড়ে ছাই ॥ অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি রূপগঞ্জে তিন মাদককারবারির আত্মসমর্পণ হাকিমপুরে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল হিলিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ৫ টাকায় ৫০০ মানুষের ইফতার দিল উদ্দীপ্ত তরুণ আড়াইহাজারে ইফতার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

সোনাইমুড়ীতে হিযবুত তওহীদের দুই সদস্য হত্যার ১০ বছরেও বিচার হয়নি: মামলা প্রত্যাহারে ক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:30:02 pm, Saturday, 14 March 2026
  • 3 বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হিযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে চোখ উপড়ে, হাত-পায়ের রগ কেটে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যার ঘটনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে মামলাগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে দাবি করে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৪ মার্চ)দেুপুরে উপজেলার শহীদি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার ও সংগঠনটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হিযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ সোনাইমুড়ীর পোরকরা গ্রামে সংগঠনের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে হিযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির আঙিনায় নির্মাণাধীন একটি মসজিদকে গির্জা বলে অপপ্রচার চালিয়ে তা ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট চালায়। পরে বাড়িগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় ১৮টি মোটরসাইকেল, গোলার ধান, গবাদিপশুসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ওইদিন মসজিদ নির্মাণের কাজে আসা সংগঠনের দুই সদস্য রুবেল ও সোলায়মান খোকনকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তাদের চোখ তুলে নেওয়া হয় এবং হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। পরে লাশে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো বিচার হয়নি। ঘটনার দুই বছর পর একটি মামলা দায়ের হলেও অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি কাউকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়নি। আসামিরা এখনও ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এর মধ্যে এ ঘটনায় দায়ের করা জিআর-৬১৭/১৬, জিআর-৮১২/১৬, জিআর-৬৮১/১৬ ও জিআর-৮৬৬/১৬ নম্বর মামলাগুলোও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি প্রকাশ্যে ঘটেছে। কারা হত্যা করেছে, কারা অর্থায়ন করেছে এবং কারা মিছিল করে হামলা চালিয়েছে—তার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। ছবি, ভিডিও ও অডিওসহ সংশ্লিষ্টদের নাম-ঠিকানা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব আসামিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়।”
তিনি দ্রুত প্রকৃত তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরও ওই এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। মসজিদ, গার্মেন্টস কারখানা, স্কুল, হাসপাতাল ও খামারসহ অন্তত ৪২টি প্রকল্পে বর্তমানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

তবে তিনি পুনরায় হামলার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। তার দাবি, একটি উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী এখনও বিভিন্ন সময় এলাকায় বেআইনি সমাবেশ করে হামলার হুমকি দিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত রুবেল ও সোলায়মান খোকনের পরিবারের সদস্যসহ ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শনিবারের অঙ্গীকার, বাসা-বাড়ি রাখি পরিষ্কার” স্লোগানে চসিকের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান উদ্বোধন

সোনাইমুড়ীতে হিযবুত তওহীদের দুই সদস্য হত্যার ১০ বছরেও বিচার হয়নি: মামলা প্রত্যাহারে ক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

আপডেট সময় : 07:30:02 pm, Saturday, 14 March 2026

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হিযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে চোখ উপড়ে, হাত-পায়ের রগ কেটে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যার ঘটনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে মামলাগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে দাবি করে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৪ মার্চ)দেুপুরে উপজেলার শহীদি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার ও সংগঠনটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হিযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ সোনাইমুড়ীর পোরকরা গ্রামে সংগঠনের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে হিযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির আঙিনায় নির্মাণাধীন একটি মসজিদকে গির্জা বলে অপপ্রচার চালিয়ে তা ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট চালায়। পরে বাড়িগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় ১৮টি মোটরসাইকেল, গোলার ধান, গবাদিপশুসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ওইদিন মসজিদ নির্মাণের কাজে আসা সংগঠনের দুই সদস্য রুবেল ও সোলায়মান খোকনকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তাদের চোখ তুলে নেওয়া হয় এবং হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। পরে লাশে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো বিচার হয়নি। ঘটনার দুই বছর পর একটি মামলা দায়ের হলেও অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি কাউকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়নি। আসামিরা এখনও ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এর মধ্যে এ ঘটনায় দায়ের করা জিআর-৬১৭/১৬, জিআর-৮১২/১৬, জিআর-৬৮১/১৬ ও জিআর-৮৬৬/১৬ নম্বর মামলাগুলোও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি প্রকাশ্যে ঘটেছে। কারা হত্যা করেছে, কারা অর্থায়ন করেছে এবং কারা মিছিল করে হামলা চালিয়েছে—তার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। ছবি, ভিডিও ও অডিওসহ সংশ্লিষ্টদের নাম-ঠিকানা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব আসামিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়।”
তিনি দ্রুত প্রকৃত তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরও ওই এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। মসজিদ, গার্মেন্টস কারখানা, স্কুল, হাসপাতাল ও খামারসহ অন্তত ৪২টি প্রকল্পে বর্তমানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

তবে তিনি পুনরায় হামলার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। তার দাবি, একটি উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী এখনও বিভিন্ন সময় এলাকায় বেআইনি সমাবেশ করে হামলার হুমকি দিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত রুবেল ও সোলায়মান খোকনের পরিবারের সদস্যসহ ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।