Dhaka , Tuesday, 30 June 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছায় জনগুরুত্বপূর্ণ বাইনতলা-খড়িয়া সড়ক সংস্কারহীন; চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী চন্দনাইশ প্রবাসী সমিতি-দাম্মাম এর সহযোগিতায় বরকল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান কিশোর বয়সে প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আশেকানে গাউছিয়া সুলতানপুরী পরিষদ রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর লুটপাট ও জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মধুপুরে পরিত্যক্ত গর্ত থেকে ছাগল তুলতে গিয়ে বাবা-ছেলে – মামা সহ প্রাণ গেল ৪ জনের রায়পুরে বর্ণমালা একাডেমীতে ফল উৎসব ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। তারুণ্যের মেধা ও প্রযুক্তির শক্তিতেই গড়ে উঠবে সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ: ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল কঠিন সময়ে সতীর্থকে পাশে পাচ্ছেন রোনালদো ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যা করছে, তা ‘বিশ্বকাপের ইতিহাসে কালো অধ্যায়’ মোহাম্মদপুরের অপরাধীদের নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে খুশি করতে মিথ্যা সংবাদ লেখার প্রয়োজন নেই: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্নের নিউক্লিয়াস বদলে যাওয়া ভিনি নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির অভিযানে ৩ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ইয়াবা উদ্ধার সরাইলে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক প্রযুক্তি নির্ভর কৃষিই উন্নয়নের চাবিকাঠি: ড. মঈন খান সাতকানিয়ার আমিলাইশে রাতের অন্ধকারে বাড়িতে আগুন নন্দিনী হত্যার বিচার হবে দ্রুততম সময়ে, ফলিমারীতে নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে ত্রাণমন্ত্রী দুলুর ঘোষণা ক্যাবের চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলে বিশেষ অভিযান বিপুল পরিমাণ অবৈধ তিতাস গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন মধুপুরে কারিতাসের দিনব্যাপী কৃষি ও খাদ্য মেলা অনুষ্ঠিত মধুপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ মধুপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ মধুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা জেল, জরিমানা ঘাটাইলে ব্র্যাকের বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষে হাঁসের বাচ্চা বিতরণ রূপগঞ্জের অপহৃত ব্যবসায়ী ১৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি রূপগঞ্জ বালু নদের কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু আগামী এক বছরের মধ্যে চালু করা হবে – প্রতিমন্ত্রী নারী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী সহিতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রূপগঞ্জে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মা সমাবেশ রূপগঞ্জে অপহৃত ব্যবসায়ী উদ্ধারের দাবিতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন খুনিয়াপালংয়ের ছাদিরকাঠার সড়ক বর্ষায় চলাচলের অনুপযোগী, দুর্ভোগে পথচারীরা

জলাবদ্ধতা কমাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:04:19 pm, Sunday, 8 March 2026
  • 134 বার পড়া হয়েছে

ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে সব সেবা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে গত বর্ষায় নগরীতে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে এসেছে। সেই সাফল্য ধরে রেখে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রোববার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু খাল-নালা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেগুলো পরিষ্কার রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, অনেক সময় প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য খাল-নালায় ফেলার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, “আমরা খাল পরিষ্কার করলাম, পলি অপসারণ করলাম—কিন্তু পরে আবার যদি সেখানে ময়লা বা বর্জ্য পড়ে, তাহলে সেই প্রচেষ্টা বৃথা যাবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”
মেয়র জানান, নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে ইতোমধ্যে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যাতে কেউ যত্রতত্র ময়লা না ফেলে। একই সঙ্গে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। হালিশহর এলাকায় একটি কোরিয়ান কোম্পানি গত ছয় মাস ধরে বায়োগ্যাস উৎপাদন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ তিন বছরের সমীক্ষা শেষে বর্জ্য থেকে প্রায় ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। একইভাবে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের বিষয়ে চসিকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে খাল পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ৩৬টি খালের উন্নয়নকাজ চলছে। এর বাইরে নগরীতে বাকি ২১টি খালের উন্নয়ন পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম সভায় জানান, প্রকল্পটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও এর আগেই অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
এ সময় মেয়র প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “১৫ মে’র মধ্যে আমাকে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি বুঝিয়ে দিতে হবে। কারণ মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, বারইপাড়া খালের কাজ সফলভাবে শেষ করা গেলে বাকি ২১টি খালের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান চট্টগ্রামবাসীকে উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
সভায় জানানো হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ২১টি রেগুলেটর বা স্লুইস গেটের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭টির কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি চারটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার কার্যক্রম চলছে। এসব স্লুইস গেট বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খালে পলি অপসারণ, খনন এবং রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৫.১৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৫.৩৯ শতাংশ। যেখানে ২০২৩ সালে জলাবদ্ধতা এলাকার সংখ্যা ছিল ১১৩টি, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে ১৭টিতে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে এসব খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি সভায় তুলে ধরা হয়।
সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, খাল খনন প্রকল্প শেষ হলে এর হস্তান্তর এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যদিও নগর সরকারের পূর্ণ কাঠামো এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও সিডিএ, সেনাবাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যেতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
সভায় বক্তব্য রাখেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো. তারিকুল আলম, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য জামিলুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মইনুদ্দিন, মেয়রের উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় জনগুরুত্বপূর্ণ বাইনতলা-খড়িয়া সড়ক সংস্কারহীন; চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

জলাবদ্ধতা কমাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

আপডেট সময় : 08:04:19 pm, Sunday, 8 March 2026

ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে সব সেবা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে গত বর্ষায় নগরীতে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে এসেছে। সেই সাফল্য ধরে রেখে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রোববার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু খাল-নালা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেগুলো পরিষ্কার রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, অনেক সময় প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য খাল-নালায় ফেলার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, “আমরা খাল পরিষ্কার করলাম, পলি অপসারণ করলাম—কিন্তু পরে আবার যদি সেখানে ময়লা বা বর্জ্য পড়ে, তাহলে সেই প্রচেষ্টা বৃথা যাবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”
মেয়র জানান, নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে ইতোমধ্যে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যাতে কেউ যত্রতত্র ময়লা না ফেলে। একই সঙ্গে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। হালিশহর এলাকায় একটি কোরিয়ান কোম্পানি গত ছয় মাস ধরে বায়োগ্যাস উৎপাদন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ তিন বছরের সমীক্ষা শেষে বর্জ্য থেকে প্রায় ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। একইভাবে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের বিষয়ে চসিকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে খাল পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ৩৬টি খালের উন্নয়নকাজ চলছে। এর বাইরে নগরীতে বাকি ২১টি খালের উন্নয়ন পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম সভায় জানান, প্রকল্পটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও এর আগেই অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
এ সময় মেয়র প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “১৫ মে’র মধ্যে আমাকে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি বুঝিয়ে দিতে হবে। কারণ মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, বারইপাড়া খালের কাজ সফলভাবে শেষ করা গেলে বাকি ২১টি খালের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান চট্টগ্রামবাসীকে উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
সভায় জানানো হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ২১টি রেগুলেটর বা স্লুইস গেটের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭টির কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি চারটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার কার্যক্রম চলছে। এসব স্লুইস গেট বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খালে পলি অপসারণ, খনন এবং রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৫.১৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৫.৩৯ শতাংশ। যেখানে ২০২৩ সালে জলাবদ্ধতা এলাকার সংখ্যা ছিল ১১৩টি, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে ১৭টিতে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে এসব খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি সভায় তুলে ধরা হয়।
সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, খাল খনন প্রকল্প শেষ হলে এর হস্তান্তর এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যদিও নগর সরকারের পূর্ণ কাঠামো এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও সিডিএ, সেনাবাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যেতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
সভায় বক্তব্য রাখেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো. তারিকুল আলম, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য জামিলুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মইনুদ্দিন, মেয়রের উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।