Dhaka , Monday, 9 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে অবসরপ্রাপ্ত ১৪ শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা নোয়াখালীতে খাল পড়ে ছিল অজ্ঞাত যুবকের বস্তাবন্দী গলাকাটা লাশ ড্রপ টেস্ট করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্বে আসতে হবে-  এমপি জামাল ঝালকাঠিতে আগুনে পুড়ে যাওয়া ব্যবসায়ীদের পাশে এমপি ইলেন ভুট্টো পীরগঞ্জে ঢাকাইয়াপট্টি মার্কেটে কাপড় ও কসমেটিকস দাম নিয়ে চলছে অনিয়ম পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে:- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পাইকগাছা পৌরসভার উদ্যোগে দুস্থ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান পাইকগাছা পৌর এলাকার ড্রেন পরিষ্কার ও মশক নিধন অভিযান জোরদার ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর বিপণীবিতানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকে পুলিশের হানা: লালমনিরহাটে গাঁজাসহ আটক ২ শেরপুরে ১০ কেজি গাঁজা সহ পিক আপ আটক ঝালকাঠিতে হাদির পরিবারের সংবাদ সম্মেলন: শুধু শুটার নয়, পুরো চক্রের বিচার দাবি কোম্পানীগঞ্জে শিক্ষক দম্পতির বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নগদ টাকাসহ ৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট  চাটখিলে কিশোর অটোচালক হত্যা: র‍্যাবের জালে ৩ ঘাতক দুই যুগের সন্ত্রাসী অভয়ারণ্যে ঢুকেছে যৌথ বাহিনী, আলীনগর কেন্দ্র করে অপরাধ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্তে ১৫ বিজিবি’র সাফল্য: মাদকসহ আটক ১, বিপুল ইয়াবা জব্দ আড়াইহাজারে পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে ২টি পাইপগান উদ্ধার পাইকগাছায় আদর্শ লাইব্রেরি ও আদর্শ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল নারায়ণগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মানববন্ধন ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে মোমবাতি প্রজ্বলন শ্রীপুরে মাদকসহ পৃথক তিন মামলায় গ্রেফতার ৩ লালমনিরহাটে বিরল বন্যপ্রাণী উদ্ধার: ডিবির জালে ৩টি তক্ষক লালমনিরহাটে নাটকীয় মোড়: জামিন পেয়ে আদালত চত্বর ছাড়ার আগেই ডিবির জালে ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী লক্ষ্মীপুরে ঈদের বাজার করতে এসে দেওয়াল ধ্বসে যুবকের মৃত্যু মধুপুরে এক সেবনকারীকে ১ বছরের কারাদণ্ড মধুপুরে চাঞ্চল্যকর অটো চুরির মামলার রহস্য উদঘাটন চোর গ্রেফতার পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত সাংবাদিকদের সম্মানে ছাত্রশিবিরের ইফতার ও মতবিনিময় সভা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ বন্ধে ড্রেনেজ আটকে রূপগঞ্জের স্কুলে ময়লা পানির সয়লাব, মানববন্ধন জলাবদ্ধতা কমাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

জলাবদ্ধতা কমাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:04:19 pm, Sunday, 8 March 2026
  • 48 বার পড়া হয়েছে

ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে সব সেবা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে গত বর্ষায় নগরীতে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে এসেছে। সেই সাফল্য ধরে রেখে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রোববার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু খাল-নালা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেগুলো পরিষ্কার রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, অনেক সময় প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য খাল-নালায় ফেলার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, “আমরা খাল পরিষ্কার করলাম, পলি অপসারণ করলাম—কিন্তু পরে আবার যদি সেখানে ময়লা বা বর্জ্য পড়ে, তাহলে সেই প্রচেষ্টা বৃথা যাবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”
মেয়র জানান, নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে ইতোমধ্যে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যাতে কেউ যত্রতত্র ময়লা না ফেলে। একই সঙ্গে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। হালিশহর এলাকায় একটি কোরিয়ান কোম্পানি গত ছয় মাস ধরে বায়োগ্যাস উৎপাদন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ তিন বছরের সমীক্ষা শেষে বর্জ্য থেকে প্রায় ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। একইভাবে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের বিষয়ে চসিকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে খাল পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ৩৬টি খালের উন্নয়নকাজ চলছে। এর বাইরে নগরীতে বাকি ২১টি খালের উন্নয়ন পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম সভায় জানান, প্রকল্পটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও এর আগেই অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
এ সময় মেয়র প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “১৫ মে’র মধ্যে আমাকে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি বুঝিয়ে দিতে হবে। কারণ মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, বারইপাড়া খালের কাজ সফলভাবে শেষ করা গেলে বাকি ২১টি খালের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান চট্টগ্রামবাসীকে উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
সভায় জানানো হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ২১টি রেগুলেটর বা স্লুইস গেটের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭টির কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি চারটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার কার্যক্রম চলছে। এসব স্লুইস গেট বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খালে পলি অপসারণ, খনন এবং রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৫.১৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৫.৩৯ শতাংশ। যেখানে ২০২৩ সালে জলাবদ্ধতা এলাকার সংখ্যা ছিল ১১৩টি, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে ১৭টিতে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে এসব খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি সভায় তুলে ধরা হয়।
সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, খাল খনন প্রকল্প শেষ হলে এর হস্তান্তর এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যদিও নগর সরকারের পূর্ণ কাঠামো এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও সিডিএ, সেনাবাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যেতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
সভায় বক্তব্য রাখেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো. তারিকুল আলম, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য জামিলুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মইনুদ্দিন, মেয়রের উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে অবসরপ্রাপ্ত ১৪ শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা

জলাবদ্ধতা কমাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

আপডেট সময় : 08:04:19 pm, Sunday, 8 March 2026

ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে সব সেবা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে গত বর্ষায় নগরীতে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে এসেছে। সেই সাফল্য ধরে রেখে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রোববার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু খাল-নালা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেগুলো পরিষ্কার রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, অনেক সময় প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য খাল-নালায় ফেলার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, “আমরা খাল পরিষ্কার করলাম, পলি অপসারণ করলাম—কিন্তু পরে আবার যদি সেখানে ময়লা বা বর্জ্য পড়ে, তাহলে সেই প্রচেষ্টা বৃথা যাবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”
মেয়র জানান, নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে ইতোমধ্যে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যাতে কেউ যত্রতত্র ময়লা না ফেলে। একই সঙ্গে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। হালিশহর এলাকায় একটি কোরিয়ান কোম্পানি গত ছয় মাস ধরে বায়োগ্যাস উৎপাদন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ তিন বছরের সমীক্ষা শেষে বর্জ্য থেকে প্রায় ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। একইভাবে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের বিষয়ে চসিকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে খাল পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ৩৬টি খালের উন্নয়নকাজ চলছে। এর বাইরে নগরীতে বাকি ২১টি খালের উন্নয়ন পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম সভায় জানান, প্রকল্পটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও এর আগেই অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
এ সময় মেয়র প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “১৫ মে’র মধ্যে আমাকে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি বুঝিয়ে দিতে হবে। কারণ মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, বারইপাড়া খালের কাজ সফলভাবে শেষ করা গেলে বাকি ২১টি খালের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান চট্টগ্রামবাসীকে উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
সভায় জানানো হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ২১টি রেগুলেটর বা স্লুইস গেটের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭টির কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি চারটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার কার্যক্রম চলছে। এসব স্লুইস গেট বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খালে পলি অপসারণ, খনন এবং রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৫.১৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৫.৩৯ শতাংশ। যেখানে ২০২৩ সালে জলাবদ্ধতা এলাকার সংখ্যা ছিল ১১৩টি, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে ১৭টিতে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে এসব খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি সভায় তুলে ধরা হয়।
সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, খাল খনন প্রকল্প শেষ হলে এর হস্তান্তর এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যদিও নগর সরকারের পূর্ণ কাঠামো এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও সিডিএ, সেনাবাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যেতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
সভায় বক্তব্য রাখেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো. তারিকুল আলম, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য জামিলুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মইনুদ্দিন, মেয়রের উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।