Dhaka , Sunday, 19 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ফতুল্লায় গোসলঘর নির্মাণ উদ্বোধন ও বৃক্ষ বিতরণ ঝালকাঠিতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগের প্রথম দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন রাজাপুরে ঘর মেরামতের সময় টিনের চালা থেকে পা ফসকে পড়ে কাঠমিস্ত্রীর মৃত্যু পাইকগাছায় ‘উদয়ী-মধুরাজ’ বাজপাখি উদ্ধার; চলছে চিকিৎসা লক্ষ্মীপুরে ধানক্ষেত থেকে ইট ভাটা শ্রমিকের মুখ বাধাঁ লাশ উদ্ধার মির্জাপুরে নবনির্বাচিত এমপিকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা “যোগ্যদের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্বিত”:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগরে নিখোঁজের পর পুকুরে ভাসছিল বৃদ্ধের নিথর দেহ ঝালকাঠিতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি ইলেন ভুট্টো নলছিটিতে সেলাই মেশিন, খেলাধুলার সামগ্রী ও বাদ্যযন্ত্র বিতরণ নোয়াখালীতে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত  সরাইলে নুরু আলী হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন  নোয়াখালীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন নোয়াখালীতে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পথচারী নারী নিহত কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাংলাদেশি শ্রমিকের ঘামে টিকছে পর্তুগালের কৃষি ; খরা-শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় প্রযুক্তি নির্ভরতা বৃদ্ধি পার্কের লেকে গোসল করতে নেমে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় চবি’র তিন শিক্ষার্থী আহত;গ্রেফতার ১ মধুপুরে ঢাকা বিভাগীয় স্কাউট অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প শুরু দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশ গঠনে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর হিলিতে তেল নিতে গিয়ে সাংবাদিকসহ ৩ জন অসুস্থ আড়াইহাজরে বসতবাড়িতে ডাকাতি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নিয়েছে হজযাত্রী সেবা কাজকর্ম মনিটরিংয়ে গভীর রাতে হজক্যাম্পে : ধর্মমন্ত্রী শাজাহানপুর-এ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা এই সংসদ জনগণের সংসদ,সম্মানিত ভোটারদের প্রতি আমারও দায়বদ্ধতা রয়েছে :ডেপুটি স্পিকার পাইকগাছায় হাম-রুবেলা ভ্যাকসিন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে এতিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বর্তমানে অপতথ্য ও গুজব মহামারি আকার ধারণ করেছে: ফারুক ওয়াসিফ বাংলাদেশকে ‘রেইনবো নেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিচ্ছবি যেন এই সাংগ্রাই উৎসব:- প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল

৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:55:48 am, Saturday, 7 December 2024
  • 124 বার পড়া হয়েছে

৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস।।

নোয়াখালী প্রতিনিধি।।

   

   
আজ সাত ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ এর ৭ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্থানী বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছিলো অবিভক্ত নোয়াখালী। একাত্তরের এদিন ভোরে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা বিএলএফ প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং সি-জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে জেলা শহর মাইজদী আক্রমন করে মুক্তিযোদ্ধারা। একযোগে তারা তিনটি রাজাকার ক্যাম্প দখল করে। আত্মসমর্পণ করে পাকিস্থানীদের এদেশীয় দালাল রাজাকাররা। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সন্মুখ যুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের মুখে অবস্থা বেগতিক দেখে নোয়াখালী পিটিআই’র ট্রেনিং সেন্টার থেকে তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যায় পাকিস্থানী সেনারা।

৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল। সি-জোনের গুপ্তচরের মাধ্যমে জানতে পারে জেলা শহর মাইজদীতে পাক হানাদার বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে গেছে। তাৎক্ষনিক জোন এর রাজনৈতিক প্রধান মরহুম আলী আহম্মদ চৌধুরী সহ অন্যান্য কমান্ডারবৃন্দ জরুরী বৈঠকে বসে এবং নোয়াখালী শহরে অবস্থিত পাক বাহিনী ও রাজাকারদের উপর আক্রমন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১২টি ট্রুপকে ৬ ডিসেম্বর রাত ২টার মধ্যে নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিয়ে নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যেতে বলা হয় সকলকে। সন্ধ্যায় তৎকালীন নোয়াখালীর ডিসি মঞ্জুরুল করিমের সাথে এডভোকেট খায়ের আহম্মদ ও মরহুম রফিক উল্যাহ্ মিয়াকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সেদিন ডিসির সহযোগিতার কারণে লাইনের সমস্থ পুলিশ বাহিনী সকালেই আত্মসর্মপন করে।

৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে তৎকালীন বি.এল.এফ কমান্ডার মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং ডিজোনের কমান্ডার মরহুম রফিক উল্যাহ্’র বাহিনী এবং এম.এফ- বি.এল.এফ ও এফ.এফ সবাই একত্রে মিলে মাইজদী ভোকেশনাল- নাহার মঞ্জিল- কোর্ট ষ্টেশন- রৌশন বাণী সিনেমা হল, দত্তের হাট, কোল্ড ষ্টোরিজ সহ সব রাজাকার ক্যাম্প মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে নিয়ে আসা হয়। শুধু বাকি থাকে মাইজদী পিটিআই। সেখানে মূলত রাজাকার ও পাকিস্তানিদের মূল ক্যাম্প ছিল। অন্যান্য ক্যাম্পগুলো দখলে আনার ফলে একা হয়ে যায় পিটিআই।

একদিকে সাধারণ মানুষের আনন্দ মিছিল- অন্যদিকে আক্রমন করতে হবে পিটিআই। পিটিআই হোস্টেল দিঘির উত্তর পাড়ে ৩ তলা বিল্ডিং এ রাজাকারদের হেড কোয়াটার ছিল। কিন্তু এ বিল্ডিং ভাঙার মতো কোন বিধংসি অস্ত্র ছিলনা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে। তাই ফেনী থেকে একটা ২ ইঞ্চি মোটার এনে তা থেকে তিন তিনটা মোটার সেলের দ্বারা পিটিআই হোস্টেলে আক্রমনের মাধ্যমে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা দিকে মাইজদী শহরে সর্বশেষ রাজাকার ক্যাম্প এর পতন ঘটিয়ে নোয়াখালী শহর হেড কোয়ার্টার হানাদার মুক্ত করা হয়। জেলা শহরের চারিদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তি পাগল মানুষের আনন্দ জোয়ারের ঢল উঠে।

নতুন প্রজন্মের কাছে ৭ ডিসেম্বরের স্মৃতিকে পরিচয় করিয়ে দিতে ১৯৯৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর পাক-বাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী পিটিআই সম্মুখে স্থাপন করা হয় স্মরণিকা স্তম্ভ ‘‘মুক্ত নোয়াখালী’’। আর বিগত সরকারের আমলে একই স্থানে বর্ধিত পরিসরে স্থাপন করা হয় নোয়াখালী মুক্ত মঞ্চ।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে পাকিস্থানী বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর মুক্তিকামী ছাত্রজনতা পুলিশ ও ইপিআর ফেরত জওয়ানদের সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে। পরবর্তীতে পাকবাহিনীর হামলার মুখে মুক্তিযোদ্ধারা টিকতে না পেরে পিছু হটলে নোয়াখালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্থানীরা। নোয়াখালী পিটিআই এবং বেগমগঞ্জ সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে শক্তিশালী ঘাটি গাড়ে পাকিস্থানী সেনাবাহিনী। তাদের সাথে এদেশীয় রাজাকাররা মিলে শুরু করে লুটপাট। এরই মধ্যে নোয়াখালীর অসংখ্য ছাত্রজনতা প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারত থেকে এসে পাকিস্থানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জাপিয়ে পড়ে। কোম্পানীগঞ্জের বামনীর যুদ্ধ, বেগমগঞ্জের বগাদিয়াসহ অসংখ্য যুদ্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। শহীদ হয় শত শত মুক্তিযোদ্ধা। শুধুমাত্র সোনাপুরের শ্রীপুরে তারা হত্যা করেছিলো শতাধিক ব্যক্তিকে। ডিসেম্বরের শুরুতেই নোয়াখালীর প্রত্যন্ত প্রান্তরে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানিদের পিছু হটিয়ে দেয়। ৬ ডিসেম্বর দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা বেগমগঞ্জ মুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা। আর ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় গোটা নোয়াখালী।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফতুল্লায় গোসলঘর নির্মাণ উদ্বোধন ও বৃক্ষ বিতরণ

৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস।।

আপডেট সময় : 05:55:48 am, Saturday, 7 December 2024

নোয়াখালী প্রতিনিধি।।

   

   
আজ সাত ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ এর ৭ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্থানী বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছিলো অবিভক্ত নোয়াখালী। একাত্তরের এদিন ভোরে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা বিএলএফ প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং সি-জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে জেলা শহর মাইজদী আক্রমন করে মুক্তিযোদ্ধারা। একযোগে তারা তিনটি রাজাকার ক্যাম্প দখল করে। আত্মসমর্পণ করে পাকিস্থানীদের এদেশীয় দালাল রাজাকাররা। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সন্মুখ যুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের মুখে অবস্থা বেগতিক দেখে নোয়াখালী পিটিআই’র ট্রেনিং সেন্টার থেকে তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যায় পাকিস্থানী সেনারা।

৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল। সি-জোনের গুপ্তচরের মাধ্যমে জানতে পারে জেলা শহর মাইজদীতে পাক হানাদার বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে গেছে। তাৎক্ষনিক জোন এর রাজনৈতিক প্রধান মরহুম আলী আহম্মদ চৌধুরী সহ অন্যান্য কমান্ডারবৃন্দ জরুরী বৈঠকে বসে এবং নোয়াখালী শহরে অবস্থিত পাক বাহিনী ও রাজাকারদের উপর আক্রমন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১২টি ট্রুপকে ৬ ডিসেম্বর রাত ২টার মধ্যে নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিয়ে নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যেতে বলা হয় সকলকে। সন্ধ্যায় তৎকালীন নোয়াখালীর ডিসি মঞ্জুরুল করিমের সাথে এডভোকেট খায়ের আহম্মদ ও মরহুম রফিক উল্যাহ্ মিয়াকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সেদিন ডিসির সহযোগিতার কারণে লাইনের সমস্থ পুলিশ বাহিনী সকালেই আত্মসর্মপন করে।

৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে তৎকালীন বি.এল.এফ কমান্ডার মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং ডিজোনের কমান্ডার মরহুম রফিক উল্যাহ্’র বাহিনী এবং এম.এফ- বি.এল.এফ ও এফ.এফ সবাই একত্রে মিলে মাইজদী ভোকেশনাল- নাহার মঞ্জিল- কোর্ট ষ্টেশন- রৌশন বাণী সিনেমা হল, দত্তের হাট, কোল্ড ষ্টোরিজ সহ সব রাজাকার ক্যাম্প মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে নিয়ে আসা হয়। শুধু বাকি থাকে মাইজদী পিটিআই। সেখানে মূলত রাজাকার ও পাকিস্তানিদের মূল ক্যাম্প ছিল। অন্যান্য ক্যাম্পগুলো দখলে আনার ফলে একা হয়ে যায় পিটিআই।

একদিকে সাধারণ মানুষের আনন্দ মিছিল- অন্যদিকে আক্রমন করতে হবে পিটিআই। পিটিআই হোস্টেল দিঘির উত্তর পাড়ে ৩ তলা বিল্ডিং এ রাজাকারদের হেড কোয়াটার ছিল। কিন্তু এ বিল্ডিং ভাঙার মতো কোন বিধংসি অস্ত্র ছিলনা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে। তাই ফেনী থেকে একটা ২ ইঞ্চি মোটার এনে তা থেকে তিন তিনটা মোটার সেলের দ্বারা পিটিআই হোস্টেলে আক্রমনের মাধ্যমে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা দিকে মাইজদী শহরে সর্বশেষ রাজাকার ক্যাম্প এর পতন ঘটিয়ে নোয়াখালী শহর হেড কোয়ার্টার হানাদার মুক্ত করা হয়। জেলা শহরের চারিদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তি পাগল মানুষের আনন্দ জোয়ারের ঢল উঠে।

নতুন প্রজন্মের কাছে ৭ ডিসেম্বরের স্মৃতিকে পরিচয় করিয়ে দিতে ১৯৯৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর পাক-বাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী পিটিআই সম্মুখে স্থাপন করা হয় স্মরণিকা স্তম্ভ ‘‘মুক্ত নোয়াখালী’’। আর বিগত সরকারের আমলে একই স্থানে বর্ধিত পরিসরে স্থাপন করা হয় নোয়াখালী মুক্ত মঞ্চ।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে পাকিস্থানী বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর মুক্তিকামী ছাত্রজনতা পুলিশ ও ইপিআর ফেরত জওয়ানদের সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে। পরবর্তীতে পাকবাহিনীর হামলার মুখে মুক্তিযোদ্ধারা টিকতে না পেরে পিছু হটলে নোয়াখালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্থানীরা। নোয়াখালী পিটিআই এবং বেগমগঞ্জ সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে শক্তিশালী ঘাটি গাড়ে পাকিস্থানী সেনাবাহিনী। তাদের সাথে এদেশীয় রাজাকাররা মিলে শুরু করে লুটপাট। এরই মধ্যে নোয়াখালীর অসংখ্য ছাত্রজনতা প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারত থেকে এসে পাকিস্থানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জাপিয়ে পড়ে। কোম্পানীগঞ্জের বামনীর যুদ্ধ, বেগমগঞ্জের বগাদিয়াসহ অসংখ্য যুদ্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। শহীদ হয় শত শত মুক্তিযোদ্ধা। শুধুমাত্র সোনাপুরের শ্রীপুরে তারা হত্যা করেছিলো শতাধিক ব্যক্তিকে। ডিসেম্বরের শুরুতেই নোয়াখালীর প্রত্যন্ত প্রান্তরে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানিদের পিছু হটিয়ে দেয়। ৬ ডিসেম্বর দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা বেগমগঞ্জ মুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা। আর ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় গোটা নোয়াখালী।