Dhaka , Wednesday, 3 June 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রামুর নবাগত ইউএনও জিল্লুর রহমানের সঙ্গে রামু প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ পাইকগাছায় ৫ দিনব্যাপী রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘হিট অ্যাকশন ডে’ কর্মসূচির উদ্বোধন ​ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স (দাবি+) কর্তৃক মুরগির বাচ্চা বিতরণ ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন রূপগঞ্জে কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ প্রতিবেশীর হা’ম’লা’য় নবজাতক যমজ শিশুর মৃ’ত্যু’র অ’ভি’যো’গ, বিচার দাবিতে রায়পুরে মানববন্ধন অবশেষে রূপগঞ্জে দুই মহাসড়কের বিষফোঁড়া ময়লার ভাগাড় অপসারণ মানুষকে হয়রানি না করে সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে :- জহিরুল ইসলাম, এমপি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় সম্ভব : মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতিতে নির্মিত “বাংলার ঈগল” ১৪ জুন কক্সবাজার যাবেন প্রধানমন্ত্রী : পানি সম্পদ মন্ত্রী আত্রাই নদীতে গোসলে নেমে দুই ভাইয়ের মৃত্যু সীতাকুণ্ডে সরকারি সড়কের দুই পাশের গাছ কাটার অভিযোগ, তদন্তের দাবি হাদি হত্যার বিচার দাবিতে মাঠে নামছে ইনকিলাব মঞ্চ, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা হামে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না, দেশে মৃত্যু ছাড়াল ৬০০ মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের চেষ্টা করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: নোয়াখালীতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হাতিয়াতে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তরুণের মৃত্যু নোয়াখালীতে বর্গাচাষীর ঘরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, গর্ভবতী নারীসহ আহত ৬ বেতাগীর কাউনিয়ায় হামে আক্রান্তে এক শিশুর মৃত্যু  নোয়াখালীতে চার বাস কাউন্টারকে জরিমানা রূপগঞ্জে প্রবাসী হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সড়ক দুর্ঘটনায় রামু ফতেখাঁরকুল মন্ডলপাড়ার যুবক মারুফের মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আউশনারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন এম. রতন হায়দার শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে ড্যাব- চট্টগ্রাম’র দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত শহীদ জিয়ার নেতৃত্ব জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিল:- ডা. শাহাদাত হোসেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহন করে গেজেট প্রকাশ পাইকগাছায় পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধ; থানায় অভিযোগ চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের বিবৃতি সীতাকুণ্ডে সংঘর্ষের জেরে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ক্যাম্প, ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জদের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:55:48 am, Saturday, 7 December 2024
  • 133 বার পড়া হয়েছে

৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস।।

নোয়াখালী প্রতিনিধি।।

   

   
আজ সাত ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ এর ৭ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্থানী বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছিলো অবিভক্ত নোয়াখালী। একাত্তরের এদিন ভোরে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা বিএলএফ প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং সি-জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে জেলা শহর মাইজদী আক্রমন করে মুক্তিযোদ্ধারা। একযোগে তারা তিনটি রাজাকার ক্যাম্প দখল করে। আত্মসমর্পণ করে পাকিস্থানীদের এদেশীয় দালাল রাজাকাররা। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সন্মুখ যুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের মুখে অবস্থা বেগতিক দেখে নোয়াখালী পিটিআই’র ট্রেনিং সেন্টার থেকে তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যায় পাকিস্থানী সেনারা।

৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল। সি-জোনের গুপ্তচরের মাধ্যমে জানতে পারে জেলা শহর মাইজদীতে পাক হানাদার বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে গেছে। তাৎক্ষনিক জোন এর রাজনৈতিক প্রধান মরহুম আলী আহম্মদ চৌধুরী সহ অন্যান্য কমান্ডারবৃন্দ জরুরী বৈঠকে বসে এবং নোয়াখালী শহরে অবস্থিত পাক বাহিনী ও রাজাকারদের উপর আক্রমন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১২টি ট্রুপকে ৬ ডিসেম্বর রাত ২টার মধ্যে নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিয়ে নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যেতে বলা হয় সকলকে। সন্ধ্যায় তৎকালীন নোয়াখালীর ডিসি মঞ্জুরুল করিমের সাথে এডভোকেট খায়ের আহম্মদ ও মরহুম রফিক উল্যাহ্ মিয়াকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সেদিন ডিসির সহযোগিতার কারণে লাইনের সমস্থ পুলিশ বাহিনী সকালেই আত্মসর্মপন করে।

৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে তৎকালীন বি.এল.এফ কমান্ডার মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং ডিজোনের কমান্ডার মরহুম রফিক উল্যাহ্’র বাহিনী এবং এম.এফ- বি.এল.এফ ও এফ.এফ সবাই একত্রে মিলে মাইজদী ভোকেশনাল- নাহার মঞ্জিল- কোর্ট ষ্টেশন- রৌশন বাণী সিনেমা হল, দত্তের হাট, কোল্ড ষ্টোরিজ সহ সব রাজাকার ক্যাম্প মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে নিয়ে আসা হয়। শুধু বাকি থাকে মাইজদী পিটিআই। সেখানে মূলত রাজাকার ও পাকিস্তানিদের মূল ক্যাম্প ছিল। অন্যান্য ক্যাম্পগুলো দখলে আনার ফলে একা হয়ে যায় পিটিআই।

একদিকে সাধারণ মানুষের আনন্দ মিছিল- অন্যদিকে আক্রমন করতে হবে পিটিআই। পিটিআই হোস্টেল দিঘির উত্তর পাড়ে ৩ তলা বিল্ডিং এ রাজাকারদের হেড কোয়াটার ছিল। কিন্তু এ বিল্ডিং ভাঙার মতো কোন বিধংসি অস্ত্র ছিলনা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে। তাই ফেনী থেকে একটা ২ ইঞ্চি মোটার এনে তা থেকে তিন তিনটা মোটার সেলের দ্বারা পিটিআই হোস্টেলে আক্রমনের মাধ্যমে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা দিকে মাইজদী শহরে সর্বশেষ রাজাকার ক্যাম্প এর পতন ঘটিয়ে নোয়াখালী শহর হেড কোয়ার্টার হানাদার মুক্ত করা হয়। জেলা শহরের চারিদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তি পাগল মানুষের আনন্দ জোয়ারের ঢল উঠে।

নতুন প্রজন্মের কাছে ৭ ডিসেম্বরের স্মৃতিকে পরিচয় করিয়ে দিতে ১৯৯৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর পাক-বাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী পিটিআই সম্মুখে স্থাপন করা হয় স্মরণিকা স্তম্ভ ‘‘মুক্ত নোয়াখালী’’। আর বিগত সরকারের আমলে একই স্থানে বর্ধিত পরিসরে স্থাপন করা হয় নোয়াখালী মুক্ত মঞ্চ।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে পাকিস্থানী বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর মুক্তিকামী ছাত্রজনতা পুলিশ ও ইপিআর ফেরত জওয়ানদের সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে। পরবর্তীতে পাকবাহিনীর হামলার মুখে মুক্তিযোদ্ধারা টিকতে না পেরে পিছু হটলে নোয়াখালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্থানীরা। নোয়াখালী পিটিআই এবং বেগমগঞ্জ সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে শক্তিশালী ঘাটি গাড়ে পাকিস্থানী সেনাবাহিনী। তাদের সাথে এদেশীয় রাজাকাররা মিলে শুরু করে লুটপাট। এরই মধ্যে নোয়াখালীর অসংখ্য ছাত্রজনতা প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারত থেকে এসে পাকিস্থানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জাপিয়ে পড়ে। কোম্পানীগঞ্জের বামনীর যুদ্ধ, বেগমগঞ্জের বগাদিয়াসহ অসংখ্য যুদ্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। শহীদ হয় শত শত মুক্তিযোদ্ধা। শুধুমাত্র সোনাপুরের শ্রীপুরে তারা হত্যা করেছিলো শতাধিক ব্যক্তিকে। ডিসেম্বরের শুরুতেই নোয়াখালীর প্রত্যন্ত প্রান্তরে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানিদের পিছু হটিয়ে দেয়। ৬ ডিসেম্বর দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা বেগমগঞ্জ মুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা। আর ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় গোটা নোয়াখালী।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রামুর নবাগত ইউএনও জিল্লুর রহমানের সঙ্গে রামু প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস।।

আপডেট সময় : 05:55:48 am, Saturday, 7 December 2024

নোয়াখালী প্রতিনিধি।।

   

   
আজ সাত ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ এর ৭ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্থানী বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছিলো অবিভক্ত নোয়াখালী। একাত্তরের এদিন ভোরে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা বিএলএফ প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং সি-জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে জেলা শহর মাইজদী আক্রমন করে মুক্তিযোদ্ধারা। একযোগে তারা তিনটি রাজাকার ক্যাম্প দখল করে। আত্মসমর্পণ করে পাকিস্থানীদের এদেশীয় দালাল রাজাকাররা। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সন্মুখ যুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের মুখে অবস্থা বেগতিক দেখে নোয়াখালী পিটিআই’র ট্রেনিং সেন্টার থেকে তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যায় পাকিস্থানী সেনারা।

৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল। সি-জোনের গুপ্তচরের মাধ্যমে জানতে পারে জেলা শহর মাইজদীতে পাক হানাদার বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে গেছে। তাৎক্ষনিক জোন এর রাজনৈতিক প্রধান মরহুম আলী আহম্মদ চৌধুরী সহ অন্যান্য কমান্ডারবৃন্দ জরুরী বৈঠকে বসে এবং নোয়াখালী শহরে অবস্থিত পাক বাহিনী ও রাজাকারদের উপর আক্রমন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১২টি ট্রুপকে ৬ ডিসেম্বর রাত ২টার মধ্যে নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিয়ে নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যেতে বলা হয় সকলকে। সন্ধ্যায় তৎকালীন নোয়াখালীর ডিসি মঞ্জুরুল করিমের সাথে এডভোকেট খায়ের আহম্মদ ও মরহুম রফিক উল্যাহ্ মিয়াকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সেদিন ডিসির সহযোগিতার কারণে লাইনের সমস্থ পুলিশ বাহিনী সকালেই আত্মসর্মপন করে।

৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে তৎকালীন বি.এল.এফ কমান্ডার মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং ডিজোনের কমান্ডার মরহুম রফিক উল্যাহ্’র বাহিনী এবং এম.এফ- বি.এল.এফ ও এফ.এফ সবাই একত্রে মিলে মাইজদী ভোকেশনাল- নাহার মঞ্জিল- কোর্ট ষ্টেশন- রৌশন বাণী সিনেমা হল, দত্তের হাট, কোল্ড ষ্টোরিজ সহ সব রাজাকার ক্যাম্প মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে নিয়ে আসা হয়। শুধু বাকি থাকে মাইজদী পিটিআই। সেখানে মূলত রাজাকার ও পাকিস্তানিদের মূল ক্যাম্প ছিল। অন্যান্য ক্যাম্পগুলো দখলে আনার ফলে একা হয়ে যায় পিটিআই।

একদিকে সাধারণ মানুষের আনন্দ মিছিল- অন্যদিকে আক্রমন করতে হবে পিটিআই। পিটিআই হোস্টেল দিঘির উত্তর পাড়ে ৩ তলা বিল্ডিং এ রাজাকারদের হেড কোয়াটার ছিল। কিন্তু এ বিল্ডিং ভাঙার মতো কোন বিধংসি অস্ত্র ছিলনা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে। তাই ফেনী থেকে একটা ২ ইঞ্চি মোটার এনে তা থেকে তিন তিনটা মোটার সেলের দ্বারা পিটিআই হোস্টেলে আক্রমনের মাধ্যমে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা দিকে মাইজদী শহরে সর্বশেষ রাজাকার ক্যাম্প এর পতন ঘটিয়ে নোয়াখালী শহর হেড কোয়ার্টার হানাদার মুক্ত করা হয়। জেলা শহরের চারিদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তি পাগল মানুষের আনন্দ জোয়ারের ঢল উঠে।

নতুন প্রজন্মের কাছে ৭ ডিসেম্বরের স্মৃতিকে পরিচয় করিয়ে দিতে ১৯৯৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর পাক-বাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী পিটিআই সম্মুখে স্থাপন করা হয় স্মরণিকা স্তম্ভ ‘‘মুক্ত নোয়াখালী’’। আর বিগত সরকারের আমলে একই স্থানে বর্ধিত পরিসরে স্থাপন করা হয় নোয়াখালী মুক্ত মঞ্চ।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে পাকিস্থানী বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর মুক্তিকামী ছাত্রজনতা পুলিশ ও ইপিআর ফেরত জওয়ানদের সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে। পরবর্তীতে পাকবাহিনীর হামলার মুখে মুক্তিযোদ্ধারা টিকতে না পেরে পিছু হটলে নোয়াখালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্থানীরা। নোয়াখালী পিটিআই এবং বেগমগঞ্জ সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে শক্তিশালী ঘাটি গাড়ে পাকিস্থানী সেনাবাহিনী। তাদের সাথে এদেশীয় রাজাকাররা মিলে শুরু করে লুটপাট। এরই মধ্যে নোয়াখালীর অসংখ্য ছাত্রজনতা প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারত থেকে এসে পাকিস্থানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জাপিয়ে পড়ে। কোম্পানীগঞ্জের বামনীর যুদ্ধ, বেগমগঞ্জের বগাদিয়াসহ অসংখ্য যুদ্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। শহীদ হয় শত শত মুক্তিযোদ্ধা। শুধুমাত্র সোনাপুরের শ্রীপুরে তারা হত্যা করেছিলো শতাধিক ব্যক্তিকে। ডিসেম্বরের শুরুতেই নোয়াখালীর প্রত্যন্ত প্রান্তরে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানিদের পিছু হটিয়ে দেয়। ৬ ডিসেম্বর দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা বেগমগঞ্জ মুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা। আর ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় গোটা নোয়াখালী।