Dhaka , Tuesday, 14 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ২০ কোটি ৬৬ লাখ ১২ হাজার টাকা বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সিএমপি, ৭০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় নোবিপ্রবি-ডিপিডিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা, উদ্বৃত ৩কোটি টাকা টানা বর্ষণে রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইলে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডের করা স্লুইসগেটগেলো চসিককে হস্তান্তর করা হবে: – প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব ।। অধ্যাপক মামুন মাহমুদ…।। ‘জুরাসিক পার্ক’ তারকা স্যাম নিল আর নেই বেলিংহামের চোট, আর্জেন্টিনা ম্যাচে খেলবেন তো? খামেনিসহ সব হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে ইরান দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেই আইএমএফের সঙ্গে নতুন প্রোগ্রাম হবে: অর্থমন্ত্রী সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম আর নেই কুড়িগ্রামে একসঙ্গে যমজ তিন বোনের ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, ২৫ কোটি বৃক্ষায়ন, সবুজ হোক দেশ, সুন্দর হোক পরিবেশ নরসিংদী টানা বর্ষণে জলাবদ্বতা, বিপাকে সাধারণ মানুষ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে পাইকগাছায় ৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠত্ব পুরস্কার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বন্যাদুর্গতদের জন্য বিপিসির ত্রাণ প্রদান বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ রূপগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে বালু ফেলার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে , বাঁধা দেওয়ায় হামলা, আহত -১০ রূপগঞ্জে ৪৪বস্তা চিনি ও ডাকাতের কাজে ব্যবহৃত হয় একটি ট্রাকসহ ৩জন ডাকাত সদস্য গ্রেফতার সাতকানিয়ার দক্ষিণ রূপকানিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে জামায়াতে ইসলামী ইমারত নির্মাণ আইনের কঠোর প্রয়োগের নির্দেশ, নকশাবহির্ভূত ভবনে ‘জিরো টলারেন্স’ সাতকানিয়ায় বন্যায় নিহত শিশু ইসমাইলের পরিবারকে জামায়াতের সমবেদনা ও আর্থিক সহায়তা পানিবন্দি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মেয়র ডা. শাহাদাত ও সংসদ সদস্যরা চমেক হাসপাতাল থেকে অপহৃত শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী দম্পতি গ্রেফতার পাহাড়ের পাদদেশে আর কোনো বসতি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে পুনর্বাসন করা হবে:- প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মধুপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত, শ্রেষ্ঠ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা রাজনগরের মনসুরনগরে বন্যার্ত ৩০০ পরিবারের মাঝে এমপি এম. নাসের রহমানের ত্রাণ বিতরণ রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের বার্ষিক আনন্দভ্রমণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের বেশি

সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাৎসহ অনিয়মের অভিযোগ।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:53:51 pm, Friday, 4 October 2024
  • 612 বার পড়া হয়েছে

সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাৎসহ অনিয়মের অভিযোগ।।

মামুন মিঞা

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ফরিদপুর।।

   

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাৎসহ-অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে  এখনো সম্পূর্ণভাবে চালু হয়নি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম।

যার কারণে ভর্তি করা হয় না সেবা নিতে আসা কোন রোগী। হাসপাতালটির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু না হলেও খরচের খাতা পুরো পরিস্কার করে রেখেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী আব্দুল মমিন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে সরকারি ওষুধ উধাও করে দিয়ে চিকিৎসকরা কোম্পানীর ওষুধ লিখে দিচ্ছেন অসহায়- গরীব রোগীদের।

হাসপাতালে অনুসন্ধানে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার অধিনস্থরা জানান, স্বস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কাজী আব্দুল মমিন সালথায় যোগদানের পর থেকে সাধারণ রোগীদের হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ভাতার টাকা আত্মসাৎ ও আনুতোষিক ভাতা নয় ছয় করে আসছেন ।

এমনকি ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন, খুদে চিকিৎসক ক্যাম্পেইন ভাতা ও মাঠকর্মীদের সম্মানি ভাতা পর্যন্ত নিজের পকেটে ভরে নেন তিনি।

ভূক্তভোগী কর্মচারীরা এসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে নানাভাবে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।

হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে বিল ভাউচার প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব খাত থেকে ৪৫ থেকে ৫০লাখ টাকার বিল উত্তোলন করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

এর মধ্যে পেট্রোল-ওয়েল খরচ বাবদ ৫ লাখ ২৮ হাজার, পরিছন্নতা বাবদ ৪ লাখ ৯৬ হাজার, বিজ্ঞাপন বাবদ ৩৪ হাজার, চিকিৎসা সরঞ্জাম বাবদ ২৯ লাখ ৫৪ হাজার, কম্পিউটার সামগ্রী বাবদ ৩৮০০, হাজার স্ট্যাম্প-সীল বাবদ ১৪ হাজার, মনিহারি বাবদ ৯৩ হাজার, মোটরযান মেরামত বাবদ ৯৯ হাজার- যন্ত্রপাতি মেরামত বাবদ ৭০ হাজার, ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৫৩৭, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩২ হাজার, অফিস সরঞ্জাম মেরামত বাবদ ৫০ হাজার- কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৬ হাজার, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ ৪৪ হাজার ও প্রকাশনা বাবদ ৪৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

তবে উত্তোলন করা এসব টাকা কোন খাতে সঠিক কত খরচ করা হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অধিনস্থ কর্মচারীদের দাবি, ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে বেশিরভাগ টাকা আত্মসাৎ করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

কারণ হাসপাতালে পরিছন্নতা কর্মী নেই। যে কারণে নোংরা পরিবেশে চলছে হাসপাতালে কার্যক্রম। বাথরুমগুলো ব্যবহারে অনুপযোগী। অথচ পরিছন্নতা বাবদ খরচ দেখিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও ঠিকমত রোগীদের সেবা দেওয়া হয় না। বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পুরোপুরি বন্ধ। অথচ পেট্রোল-ওয়েল খরচ বাবদ ৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

শুধু এই দুটি খাত নয়, প্রতিটি খাতে সঠিক খরচের চেয়ে ডাবল দেখিয়ে বিল উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এসব বিষয় সঠিক তদন্ত হলে ব্যাপক অনিয়ম- দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে।

অন্যদিকে স্থানীয় আবুল হোসেন ও নাসিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন- আমাদের এলাকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষক ও দিনমজুর। এরা রোগে আক্রান্ত হলে তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল সরকারি এই হাসপাতাল।

তবে হাসপাতালে গিয়ে সরকারি ওষুধ পাওয়া যায় না। চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয় করে অসহায় রোগীদের হাতে লিখে দিচ্ছেন বিভিন্ন কোম্পানির দামী ওষুধের চিকিৎসাপত্র। যা কিনে খাওয়ার সক্ষমতা অনেকের নেই। ফলে সরকারি ওষুধ না পেয়ে রোগা শরীর নিয়ে খালি হাতে ফিরে যান অসহায় গরীব রোগীগন।

অভিযোগ রয়েছে- বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তাই সরকারি ওষুধ উধাও করে দিয়ে রোগীদের বড় কোম্পানির ওষুধ লিখে দেন। এদিকে চুক্তি অনুযায়ী ওষুধ লিখে দিচ্ছে কি না- তা পরীক্ষা করতে হাসপাতালে আসা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের টানাহেঁচড়ায় অতিষ্ট হয়ে পড়ছে রোগীরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী আব্দুল মমিন- তিনি বলেন এসব টাকা গত অর্থবছরে তোলা হয়েছে। সব টাকারই কাজ করা হয়েছে। ভূয়া বিলে কোনো টাকা উত্তোলন করা হয়নি। যেখানে যত টাকা লেগেছে- সেই খরচ দেখিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে। গত বছর অ্যাম্বুলেন্স রোগী আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে- তবে এখন চলছে না। পরিচ্ছন্নতার কাজও হয়েছিল। অতএব এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

মঙ্গলবার -১ অক্টোবর- সকালে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম পলিন বলেন- এসব অনিয়ম-দূর্নীতির বিষয় আমার জানা নেই। তবে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার এসব দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয় যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়- তাহলে তদন্ত করে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ২০ কোটি ৬৬ লাখ ১২ হাজার টাকা বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে

সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাৎসহ অনিয়মের অভিযোগ।।

আপডেট সময় : 02:53:51 pm, Friday, 4 October 2024

মামুন মিঞা

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ফরিদপুর।।

   

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাৎসহ-অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে  এখনো সম্পূর্ণভাবে চালু হয়নি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম।

যার কারণে ভর্তি করা হয় না সেবা নিতে আসা কোন রোগী। হাসপাতালটির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু না হলেও খরচের খাতা পুরো পরিস্কার করে রেখেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী আব্দুল মমিন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে সরকারি ওষুধ উধাও করে দিয়ে চিকিৎসকরা কোম্পানীর ওষুধ লিখে দিচ্ছেন অসহায়- গরীব রোগীদের।

হাসপাতালে অনুসন্ধানে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার অধিনস্থরা জানান, স্বস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কাজী আব্দুল মমিন সালথায় যোগদানের পর থেকে সাধারণ রোগীদের হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ভাতার টাকা আত্মসাৎ ও আনুতোষিক ভাতা নয় ছয় করে আসছেন ।

এমনকি ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন, খুদে চিকিৎসক ক্যাম্পেইন ভাতা ও মাঠকর্মীদের সম্মানি ভাতা পর্যন্ত নিজের পকেটে ভরে নেন তিনি।

ভূক্তভোগী কর্মচারীরা এসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে নানাভাবে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।

হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে বিল ভাউচার প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব খাত থেকে ৪৫ থেকে ৫০লাখ টাকার বিল উত্তোলন করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

এর মধ্যে পেট্রোল-ওয়েল খরচ বাবদ ৫ লাখ ২৮ হাজার, পরিছন্নতা বাবদ ৪ লাখ ৯৬ হাজার, বিজ্ঞাপন বাবদ ৩৪ হাজার, চিকিৎসা সরঞ্জাম বাবদ ২৯ লাখ ৫৪ হাজার, কম্পিউটার সামগ্রী বাবদ ৩৮০০, হাজার স্ট্যাম্প-সীল বাবদ ১৪ হাজার, মনিহারি বাবদ ৯৩ হাজার, মোটরযান মেরামত বাবদ ৯৯ হাজার- যন্ত্রপাতি মেরামত বাবদ ৭০ হাজার, ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৫৩৭, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩২ হাজার, অফিস সরঞ্জাম মেরামত বাবদ ৫০ হাজার- কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৬ হাজার, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ ৪৪ হাজার ও প্রকাশনা বাবদ ৪৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

তবে উত্তোলন করা এসব টাকা কোন খাতে সঠিক কত খরচ করা হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অধিনস্থ কর্মচারীদের দাবি, ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে বেশিরভাগ টাকা আত্মসাৎ করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

কারণ হাসপাতালে পরিছন্নতা কর্মী নেই। যে কারণে নোংরা পরিবেশে চলছে হাসপাতালে কার্যক্রম। বাথরুমগুলো ব্যবহারে অনুপযোগী। অথচ পরিছন্নতা বাবদ খরচ দেখিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও ঠিকমত রোগীদের সেবা দেওয়া হয় না। বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পুরোপুরি বন্ধ। অথচ পেট্রোল-ওয়েল খরচ বাবদ ৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

শুধু এই দুটি খাত নয়, প্রতিটি খাতে সঠিক খরচের চেয়ে ডাবল দেখিয়ে বিল উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এসব বিষয় সঠিক তদন্ত হলে ব্যাপক অনিয়ম- দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে।

অন্যদিকে স্থানীয় আবুল হোসেন ও নাসিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন- আমাদের এলাকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষক ও দিনমজুর। এরা রোগে আক্রান্ত হলে তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল সরকারি এই হাসপাতাল।

তবে হাসপাতালে গিয়ে সরকারি ওষুধ পাওয়া যায় না। চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয় করে অসহায় রোগীদের হাতে লিখে দিচ্ছেন বিভিন্ন কোম্পানির দামী ওষুধের চিকিৎসাপত্র। যা কিনে খাওয়ার সক্ষমতা অনেকের নেই। ফলে সরকারি ওষুধ না পেয়ে রোগা শরীর নিয়ে খালি হাতে ফিরে যান অসহায় গরীব রোগীগন।

অভিযোগ রয়েছে- বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তাই সরকারি ওষুধ উধাও করে দিয়ে রোগীদের বড় কোম্পানির ওষুধ লিখে দেন। এদিকে চুক্তি অনুযায়ী ওষুধ লিখে দিচ্ছে কি না- তা পরীক্ষা করতে হাসপাতালে আসা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের টানাহেঁচড়ায় অতিষ্ট হয়ে পড়ছে রোগীরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী আব্দুল মমিন- তিনি বলেন এসব টাকা গত অর্থবছরে তোলা হয়েছে। সব টাকারই কাজ করা হয়েছে। ভূয়া বিলে কোনো টাকা উত্তোলন করা হয়নি। যেখানে যত টাকা লেগেছে- সেই খরচ দেখিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে। গত বছর অ্যাম্বুলেন্স রোগী আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে- তবে এখন চলছে না। পরিচ্ছন্নতার কাজও হয়েছিল। অতএব এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

মঙ্গলবার -১ অক্টোবর- সকালে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম পলিন বলেন- এসব অনিয়ম-দূর্নীতির বিষয় আমার জানা নেই। তবে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার এসব দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয় যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়- তাহলে তদন্ত করে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।