Dhaka , Monday, 13 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা, উদ্বৃত ৩কোটি টাকা টানা বর্ষণে রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইলে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডের করা স্লুইসগেটগেলো চসিককে হস্তান্তর করা হবে: – প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব ।। অধ্যাপক মামুন মাহমুদ…।। ‘জুরাসিক পার্ক’ তারকা স্যাম নিল আর নেই বেলিংহামের চোট, আর্জেন্টিনা ম্যাচে খেলবেন তো? খামেনিসহ সব হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে ইরান দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেই আইএমএফের সঙ্গে নতুন প্রোগ্রাম হবে: অর্থমন্ত্রী সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম আর নেই কুড়িগ্রামে একসঙ্গে যমজ তিন বোনের ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, ২৫ কোটি বৃক্ষায়ন, সবুজ হোক দেশ, সুন্দর হোক পরিবেশ নরসিংদী টানা বর্ষণে জলাবদ্বতা, বিপাকে সাধারণ মানুষ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে পাইকগাছায় ৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠত্ব পুরস্কার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বন্যাদুর্গতদের জন্য বিপিসির ত্রাণ প্রদান বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ রূপগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে বালু ফেলার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে , বাঁধা দেওয়ায় হামলা, আহত -১০ রূপগঞ্জে ৪৪বস্তা চিনি ও ডাকাতের কাজে ব্যবহৃত হয় একটি ট্রাকসহ ৩জন ডাকাত সদস্য গ্রেফতার সাতকানিয়ার দক্ষিণ রূপকানিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে জামায়াতে ইসলামী ইমারত নির্মাণ আইনের কঠোর প্রয়োগের নির্দেশ, নকশাবহির্ভূত ভবনে ‘জিরো টলারেন্স’ সাতকানিয়ায় বন্যায় নিহত শিশু ইসমাইলের পরিবারকে জামায়াতের সমবেদনা ও আর্থিক সহায়তা পানিবন্দি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মেয়র ডা. শাহাদাত ও সংসদ সদস্যরা চমেক হাসপাতাল থেকে অপহৃত শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী দম্পতি গ্রেফতার পাহাড়ের পাদদেশে আর কোনো বসতি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে পুনর্বাসন করা হবে:- প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মধুপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত, শ্রেষ্ঠ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা রাজনগরের মনসুরনগরে বন্যার্ত ৩০০ পরিবারের মাঝে এমপি এম. নাসের রহমানের ত্রাণ বিতরণ রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের বার্ষিক আনন্দভ্রমণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের বেশি অ্যাটর্নি জেনারেলের ছবি ও ‘কণ্ঠ নকল’ করে ৬০ হাজার টাকার প্রতারণা গাছ রোপণ থেকে অধিক ফলনের প্রশিক্ষণসহ ২০ বছরের সেবা ফ্রি! ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হালাল না হারাম, জানালেন মুফতি তাকি উসমানি

পানি উন্নয়ন বোর্ডের করা স্লুইসগেটগেলো চসিককে হস্তান্তর করা হবে: – প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:55:07 pm, Monday, 13 July 2026
  • 2 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন ২১টি স্লুইস গেটের প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অগ্রগতি এবং প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি হস্তান্তরের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি হবে। প্রকল্পটি যাতে চসিক ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে সেজন্য চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, রেকর্ড বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের কোন কোন স্থানে জলাবদ্ধতা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে আমরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করেছি।

“আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের বিষয়ে অবগত আছেন এবং সেজন্যই উনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে এইখানে স্লুইস গেট নির্মাণের যে প্রজেক্টটি শেষের পর্যায়ে আছে এই প্রজেক্ট যেন কোন কারণে ব্যাহত না হয় এবং চট্টগ্রামের মানুষ কোনভাবেই যেন ভবিষ্যতে জলবদ্ধতার সম্মুখীন না হয়। এইভাবে যদি আমাদের রেকর্ড বৃষ্টিপাতও হয় সেখানে দ্রুততার সঙ্গে যেন সেই পানিটা নিষ্কাশন হয় সেই বিষয়টা মাথায় রেখেই উনি এই প্রজেক্টটা আমাদের সমাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি আমরা সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করব। প্রকল্পটি হস্তান্তরের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হবে। আমি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ করেছি এক বছর যেহেতু আমাদের এই প্রকল্পের মেয়াদ আছে, এই এক বছরের মধ্যে এই প্রকল্প পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ করতে হবে। আমরা চাই প্রকল্পটি যেন চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই স্লুইস গেটগুলো পুরোপুরি সচল হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছি।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট, চকবাজার, হিজড়া খাল ও বামনশাহী খালের বিভিন্ন অংশের কাজসহ প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি থাকায় কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে নগরবাসী প্রকল্পটির পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারবেন।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য ড্রেন ও খালে গিয়ে পড়ছে, যা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এ সমস্যা সমাধানে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি এবং খাল-ড্রেনে বর্জ্য ফেলা বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও টেকসই করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র ‘ওয়াটার লগিং ডিপার্টমেন্ট’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিভাগ রেগুলেটর, পাম্প, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও খালসমূহের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করবে।

মেয়র জানান, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে ৭ হাজার প্যাকেট খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে নগরবাসীর পাশে থাকবে।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, স্লুইস গেটগুলোর মাপ পানি অপসারণের উপযোগী কী না তা যাচাই করতে হবে। এগুলি বড় করা দরকার নাকি ছোট করা দরকার নাকি ঠিকভাবে আছে সে বিষয়ে সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যেহেতু স্লুইস গেটের পরিকল্পনাটি পূর্ববর্তী সরকারের একারণে সেসময় প্রকল্পের ডিজাইন ত্রুটিপূর্ণ কীনা তা যাচাই করা যেতে পারে। যদি এমন হয় যে স্লুইস গেট করলাম কিন্তু পানি সরানো ক্যাপাসিটি নাই তাহলে জনগণ সুফল পাবেনা। এবারের রেকর্ড বৃষ্টি আমাদের একটা শিক্ষা দিয়েছে। এই শিক্ষা থেকে আমাদের ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য কাজ করতে হবে। এছাড়া, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-নালা পরিস্কার করার কার্যক্রম আরো বেগবান করতে হবে। বর্তমানে কাউন্সিলর না থাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, আমি এখানে বারুনিঘাট এবং ২৬ নম্বরে দুটো খাল দেখে আসলাম। ছড়া বলতে পারেন এবং নালা। দেখলাম সবকিছু ব্লক হয়ে আছে। এর পেছনে ১৬ নম্বর যে স্লুইস গেট। আমি ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাহেবকে ওখান থেকে ফোন করে জানিয়েছি যে ওখানে স্লুইস গেট ছোটটাও বন্ধ, যেটা বড় তৈরি করা হয়েছে, অনেক বড় করে, অনেক খরচ করে, ওটাও বন্ধ এবং ওটার সাথে কোনো কানেকশন নাই সাগরের অথবা মহেশখালের। খুব পরিত্যক্ত। খুব দুঃখজনক। এই কারণগুলো আমাদের খুঁজে দেখতে হবে কেন হল এমন এবং আমাদের আজকে যে জলাবদ্ধতার সমস্যা সেটি সমাধানে এ ধরনের সমস্যাগুলো খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করার জন্য আমাদের সবাই কাজ করছে। আমাদের এই প্রকল্পটি যেহেতু প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ। ৫ শতাংশ বাকি আছে। এটি আগামী জুনে শেষ হয়ে যাবে। আমরা যদি এখন থেকে এটার এক্সিট প্ল্যান না করি তাহলে এটা তো ফুল ইমপ্লিমেন্টেশনের সুফলটা আমরা আগামী বর্ষা সিজনে পাবো না। এজন্য আমরা একটা এমওইউ ড্রাফট করে স্থানীয় সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিব। এই এমওইও চেক করতে ও অনুমোদন করতে দুই তিন মাস লাগতে পারে। যারা পাম্পগুলো নির্মাণ করেছে তারা বিনামূল্যে এগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলকে প্রশিক্ষণ দিবে। এজন্য আমাদের দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে।
সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, দীর্ঘমেয়াদে রেগুলেটর, সুইস গেট ও সংশ্লিষ্ট ড্রেনেজ অবকাঠামোর কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করতে এসব স্থাপনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের হাতে ন্যস্ত করা প্রয়োজন। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চসিকের প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে ভবিষ্যতে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল মনিটরিং, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল দীর্ঘমেয়াদে নগরবাসী ভোগ করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, স্লুইসগেটগুলো মেইনটেনেন্স করার জন্য আলাদা মেইনটেনেন্স টিম করতে হবে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে অথবা অন্য যেকোনো ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে যেতে হবে যাতে মনিটরিং সিস্টেমে আমরা দেখতে পারি আবহাওয়ার অবস্থা কি এবং আমাদের সাগরে কখন জোয়ার-ভাটা হবে। সবগুলো একটা মনিটরিং সিস্টেম আনতে হবে এবং একটা ডিপার্টমেন্ট থাকতে হবে যেটি এই তথ্যগুলো মনিটরিং করবে। ভবিষ্যতে ড্রেনগুলো বাৎসরিক মেনটেন্স এর আওতায় আনতে হবে। ড্রেন সবসময় সচল রাখতে হবে, পরিষ্কার রাখতে হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের খাল ও জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা, উদ্বৃত ৩কোটি টাকা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের করা স্লুইসগেটগেলো চসিককে হস্তান্তর করা হবে: – প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

আপডেট সময় : 06:55:07 pm, Monday, 13 July 2026

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন ২১টি স্লুইস গেটের প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অগ্রগতি এবং প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি হস্তান্তরের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি হবে। প্রকল্পটি যাতে চসিক ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে সেজন্য চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, রেকর্ড বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের কোন কোন স্থানে জলাবদ্ধতা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে আমরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করেছি।

“আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের বিষয়ে অবগত আছেন এবং সেজন্যই উনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে এইখানে স্লুইস গেট নির্মাণের যে প্রজেক্টটি শেষের পর্যায়ে আছে এই প্রজেক্ট যেন কোন কারণে ব্যাহত না হয় এবং চট্টগ্রামের মানুষ কোনভাবেই যেন ভবিষ্যতে জলবদ্ধতার সম্মুখীন না হয়। এইভাবে যদি আমাদের রেকর্ড বৃষ্টিপাতও হয় সেখানে দ্রুততার সঙ্গে যেন সেই পানিটা নিষ্কাশন হয় সেই বিষয়টা মাথায় রেখেই উনি এই প্রজেক্টটা আমাদের সমাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি আমরা সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করব। প্রকল্পটি হস্তান্তরের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হবে। আমি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ করেছি এক বছর যেহেতু আমাদের এই প্রকল্পের মেয়াদ আছে, এই এক বছরের মধ্যে এই প্রকল্প পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ করতে হবে। আমরা চাই প্রকল্পটি যেন চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই স্লুইস গেটগুলো পুরোপুরি সচল হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছি।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট, চকবাজার, হিজড়া খাল ও বামনশাহী খালের বিভিন্ন অংশের কাজসহ প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি থাকায় কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে নগরবাসী প্রকল্পটির পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারবেন।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য ড্রেন ও খালে গিয়ে পড়ছে, যা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এ সমস্যা সমাধানে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি এবং খাল-ড্রেনে বর্জ্য ফেলা বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও টেকসই করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র ‘ওয়াটার লগিং ডিপার্টমেন্ট’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিভাগ রেগুলেটর, পাম্প, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও খালসমূহের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করবে।

মেয়র জানান, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে ৭ হাজার প্যাকেট খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে নগরবাসীর পাশে থাকবে।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, স্লুইস গেটগুলোর মাপ পানি অপসারণের উপযোগী কী না তা যাচাই করতে হবে। এগুলি বড় করা দরকার নাকি ছোট করা দরকার নাকি ঠিকভাবে আছে সে বিষয়ে সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যেহেতু স্লুইস গেটের পরিকল্পনাটি পূর্ববর্তী সরকারের একারণে সেসময় প্রকল্পের ডিজাইন ত্রুটিপূর্ণ কীনা তা যাচাই করা যেতে পারে। যদি এমন হয় যে স্লুইস গেট করলাম কিন্তু পানি সরানো ক্যাপাসিটি নাই তাহলে জনগণ সুফল পাবেনা। এবারের রেকর্ড বৃষ্টি আমাদের একটা শিক্ষা দিয়েছে। এই শিক্ষা থেকে আমাদের ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য কাজ করতে হবে। এছাড়া, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-নালা পরিস্কার করার কার্যক্রম আরো বেগবান করতে হবে। বর্তমানে কাউন্সিলর না থাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, আমি এখানে বারুনিঘাট এবং ২৬ নম্বরে দুটো খাল দেখে আসলাম। ছড়া বলতে পারেন এবং নালা। দেখলাম সবকিছু ব্লক হয়ে আছে। এর পেছনে ১৬ নম্বর যে স্লুইস গেট। আমি ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাহেবকে ওখান থেকে ফোন করে জানিয়েছি যে ওখানে স্লুইস গেট ছোটটাও বন্ধ, যেটা বড় তৈরি করা হয়েছে, অনেক বড় করে, অনেক খরচ করে, ওটাও বন্ধ এবং ওটার সাথে কোনো কানেকশন নাই সাগরের অথবা মহেশখালের। খুব পরিত্যক্ত। খুব দুঃখজনক। এই কারণগুলো আমাদের খুঁজে দেখতে হবে কেন হল এমন এবং আমাদের আজকে যে জলাবদ্ধতার সমস্যা সেটি সমাধানে এ ধরনের সমস্যাগুলো খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করার জন্য আমাদের সবাই কাজ করছে। আমাদের এই প্রকল্পটি যেহেতু প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ। ৫ শতাংশ বাকি আছে। এটি আগামী জুনে শেষ হয়ে যাবে। আমরা যদি এখন থেকে এটার এক্সিট প্ল্যান না করি তাহলে এটা তো ফুল ইমপ্লিমেন্টেশনের সুফলটা আমরা আগামী বর্ষা সিজনে পাবো না। এজন্য আমরা একটা এমওইউ ড্রাফট করে স্থানীয় সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিব। এই এমওইও চেক করতে ও অনুমোদন করতে দুই তিন মাস লাগতে পারে। যারা পাম্পগুলো নির্মাণ করেছে তারা বিনামূল্যে এগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলকে প্রশিক্ষণ দিবে। এজন্য আমাদের দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে।
সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, দীর্ঘমেয়াদে রেগুলেটর, সুইস গেট ও সংশ্লিষ্ট ড্রেনেজ অবকাঠামোর কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করতে এসব স্থাপনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের হাতে ন্যস্ত করা প্রয়োজন। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চসিকের প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে ভবিষ্যতে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল মনিটরিং, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল দীর্ঘমেয়াদে নগরবাসী ভোগ করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, স্লুইসগেটগুলো মেইনটেনেন্স করার জন্য আলাদা মেইনটেনেন্স টিম করতে হবে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে অথবা অন্য যেকোনো ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে যেতে হবে যাতে মনিটরিং সিস্টেমে আমরা দেখতে পারি আবহাওয়ার অবস্থা কি এবং আমাদের সাগরে কখন জোয়ার-ভাটা হবে। সবগুলো একটা মনিটরিং সিস্টেম আনতে হবে এবং একটা ডিপার্টমেন্ট থাকতে হবে যেটি এই তথ্যগুলো মনিটরিং করবে। ভবিষ্যতে ড্রেনগুলো বাৎসরিক মেনটেন্স এর আওতায় আনতে হবে। ড্রেন সবসময় সচল রাখতে হবে, পরিষ্কার রাখতে হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের খাল ও জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার প্রমুখ।