Dhaka , Friday, 9 October 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নানা পাটেকরের মৃত্যুতে আবেগঘন অক্ষয় কুমার জঙ্গল সলিমপুরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ নোবিপ্রবিতে মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন সরাইলে বোন হত্যার অভিযোগে ছোটবোন ও তার প্রেমিক গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জে আদালত বিভক্তির প্রতিবাদে আইনজীবীদের বিক্ষোভ সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের হোস্টেলে পরপর দুই দিন চুরির অভিযোগ শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত এক হালি কমলা ৫০ হাজার, আধা কেজি খেজুর ১৫ হাজার টাকায় শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার দাবি মধুপুরে পুত্রবধূর ধাক্কায় বৃদ্ধ শ্বশুর আহত, থানায় অভিযোগ রূপগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময় সভা বোয়ালমারীর সাতৈর ইউপি পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার দীঘিনালায় প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা, হুমকিতে বনভূমি ও কৃষিজমি ভবন-জনবল সংকটে অস্তিত্বের লড়াইয়ে মতলব পোস্ট অফিস পূর্বধলায় গোলাপ মিয়ার শুভেচ্ছা: জনগণের পাশে থেকে উন্নয়নের প্রত্যয় নেত্রকোনার পূর্বধলায় পৈতৃক ভিটা নিয়ে বিরোধ, আদালতে পৃথক মামলা দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক ক্লাস অংশ নিল ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী, বিতরণ করা হলো স্যানিটারি ন্যাপকিন টাকা পেলেই দেওয়া হচ্ছে অনুমোদন : নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বসিক, হু হু করে বাড়ছে অটোরিকশা সিলেটে পিটারের ট্যালেন্ট হান্ট, স্বপ্নের মাঠে ডাক নতুন নারী ফুটবলারদের চরভদ্রাসনে ডিএনসির অভিযানে নারীসহ দুই মাদক কারবারি আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারাদণ্ড পাঁচবিবিতে শিক্ষার্থীদের বাইসাইকেল অসহায় ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার বিতরণ রূপগঞ্জে অবৈধভাবে দখলে নেওয়া কৃষকদের জমি উদ্ধারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ‘জনআস্থা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি, সেটার বিচার করবে জনগণ’ চাকসু আন্তঃহল ফুটবলে ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রাজাপুরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার সেই যুবদল নেতা রাসেল বহিষ্কার নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১১০৬ নিখোঁজের একদিন পর পুকুর পাড়ে মিলল তরুণের মরদেহ রূপগঞ্জ পূর্বাচলের আদিবাসিন্দাদের প্লট বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন \ বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ রূপগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:24:34 pm, Monday, 6 July 2026
  • 134 বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,

আজ ৬ জুলাই সোমবার নানা আয়োজন-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিক্ষা-গবেষণা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির শুরুতে সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সাথে ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি এবং উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ যথাক্রমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় হল প্রাধ্যক্ষবৃন্দ নিজ নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন। সেখানে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা ও বর্ণিল বেলুন-ফেস্টুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে ভূমি মন্ত্রী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাবি কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মতিয়ার রহমান, অনুষদ অধিকর্তা, সিন্ডিকেট সদস্য, প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর এস এম কামরুজ্জামান, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট পরিচালক, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট শিক্ষকবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর এ এইচ এম খুরশীদ আলম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

উদ্বোধনের পর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এরপর অতিথিবৃন্দ সিনেট ভবন চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন।

বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল হক মিলন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ফাইসুল ইসলাম ফারুকী ও প্রধান আলোচক ছিলেন রাবি অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভূমি মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদানের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আজ এক অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উচ্চশিক্ষার প্রতি এতদঞ্চলের মানুষের আকাক্সক্ষা ও তার রূপায়নে প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও তার চালিকাশক্তি হিসেবে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে অবিরত ধারায় এগিয়ে চলেছে। এই এগিয়ে চলায় অবদানের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতবিদ্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের কথা স্মরণ করেন। তিনি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ড. শামসুজ্জোহা এবং এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তৎকালীন আইন পরিষদ সদস্য মাদার বখ্শ ও সিরাজগঞ্জের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদসহ আরো যারা অবদান রেখেছিলেন তাদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গক্রমে মন্ত্রী তাঁর মরহুম পিতা ফজলার রহমানের স্মরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষ কৃতি শিক্ষার্থীর স্বীকৃতিতে পদক চালুর জন্য অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।

জীবনে উন্নতির জন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, সততা ও দেশপ্রেম। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক সকলে এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামী দিনগুলিতে নিরলস কাজ করে যাবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এই অঞ্চলে জ্ঞান চর্চার বাতিঘর হয়ে উঠবে বলেও তিনি বলেন।

অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) তাঁর বক্তব্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত করতে কোর্স-কারিকুলাম আধুনিকায় ও সে অনুযায়ী দক্ষ গ্রাজুয়েট গড়ে তোলার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, এজন্য আমাদের শিক্ষকমন্ডলীর প্রয়াসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সময়ের চাহিদা পূরণে তাঁরা তা করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) তাঁর বক্তব্যে বলেন, ৭৩ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আজ যথেষ্ট পরিণত। এর পরিপূর্ণতার জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন গ্রাজুয়েট গড়ে তোলার পরিকল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয় সে লক্ষ্যে কাজ করছে। গৃহিত পদক্ষেপের বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। তার ইতিবাচক ফল বিভিন্ন র‌্যাংকিং এবং মূল্যায়নকারী সংস্থার ফলাফলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ইতিবাচক ধারা অক্ষুণ্ন থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ক্ষণ আমাকে বিগত ৭৩ বছর আমরা কী করেছি। পাশাপাশি আমাদের ভাবতে হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর ও সফল আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্রম উন্নতির কথা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে আমাদের মেধা ও মননশীলতা, দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প হতে হবে বাধাহীন।

প্রসঙ্গক্রমে উপাচার্য বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় আজ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান। এই ক্যাম্পাসের নাগরিক সুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি মহানগর পৌর কর্তৃপক্ষের সহায়তাও একান্ত প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে সহযোগিতা প্রদান করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া যুযোগপযোগী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য প্রদান করবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গক্রমে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোকসজ্জা করা হচ্ছে না বলে উপাচার্য উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে প্রফেসর মো. হাবীবুর রহমান (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ) বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত স্মারকপত্রের মোড়ক উন্মোচন ও বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নানা পাটেকরের মৃত্যুতে আবেগঘন অক্ষয় কুমার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

আপডেট সময় : 05:24:34 pm, Monday, 6 July 2026

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,

আজ ৬ জুলাই সোমবার নানা আয়োজন-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিক্ষা-গবেষণা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির শুরুতে সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সাথে ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি এবং উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ যথাক্রমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় হল প্রাধ্যক্ষবৃন্দ নিজ নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন। সেখানে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা ও বর্ণিল বেলুন-ফেস্টুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে ভূমি মন্ত্রী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাবি কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মতিয়ার রহমান, অনুষদ অধিকর্তা, সিন্ডিকেট সদস্য, প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর এস এম কামরুজ্জামান, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট পরিচালক, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট শিক্ষকবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর এ এইচ এম খুরশীদ আলম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

উদ্বোধনের পর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এরপর অতিথিবৃন্দ সিনেট ভবন চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন।

বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল হক মিলন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ফাইসুল ইসলাম ফারুকী ও প্রধান আলোচক ছিলেন রাবি অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভূমি মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদানের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আজ এক অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উচ্চশিক্ষার প্রতি এতদঞ্চলের মানুষের আকাক্সক্ষা ও তার রূপায়নে প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও তার চালিকাশক্তি হিসেবে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে অবিরত ধারায় এগিয়ে চলেছে। এই এগিয়ে চলায় অবদানের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতবিদ্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের কথা স্মরণ করেন। তিনি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ড. শামসুজ্জোহা এবং এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তৎকালীন আইন পরিষদ সদস্য মাদার বখ্শ ও সিরাজগঞ্জের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদসহ আরো যারা অবদান রেখেছিলেন তাদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গক্রমে মন্ত্রী তাঁর মরহুম পিতা ফজলার রহমানের স্মরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষ কৃতি শিক্ষার্থীর স্বীকৃতিতে পদক চালুর জন্য অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।

জীবনে উন্নতির জন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, সততা ও দেশপ্রেম। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক সকলে এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামী দিনগুলিতে নিরলস কাজ করে যাবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এই অঞ্চলে জ্ঞান চর্চার বাতিঘর হয়ে উঠবে বলেও তিনি বলেন।

অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) তাঁর বক্তব্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত করতে কোর্স-কারিকুলাম আধুনিকায় ও সে অনুযায়ী দক্ষ গ্রাজুয়েট গড়ে তোলার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, এজন্য আমাদের শিক্ষকমন্ডলীর প্রয়াসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সময়ের চাহিদা পূরণে তাঁরা তা করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) তাঁর বক্তব্যে বলেন, ৭৩ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আজ যথেষ্ট পরিণত। এর পরিপূর্ণতার জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন গ্রাজুয়েট গড়ে তোলার পরিকল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয় সে লক্ষ্যে কাজ করছে। গৃহিত পদক্ষেপের বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। তার ইতিবাচক ফল বিভিন্ন র‌্যাংকিং এবং মূল্যায়নকারী সংস্থার ফলাফলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ইতিবাচক ধারা অক্ষুণ্ন থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ক্ষণ আমাকে বিগত ৭৩ বছর আমরা কী করেছি। পাশাপাশি আমাদের ভাবতে হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর ও সফল আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্রম উন্নতির কথা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে আমাদের মেধা ও মননশীলতা, দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প হতে হবে বাধাহীন।

প্রসঙ্গক্রমে উপাচার্য বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় আজ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান। এই ক্যাম্পাসের নাগরিক সুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি মহানগর পৌর কর্তৃপক্ষের সহায়তাও একান্ত প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে সহযোগিতা প্রদান করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া যুযোগপযোগী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য প্রদান করবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গক্রমে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোকসজ্জা করা হচ্ছে না বলে উপাচার্য উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে প্রফেসর মো. হাবীবুর রহমান (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ) বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত স্মারকপত্রের মোড়ক উন্মোচন ও বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।