
বিজয় চৌধুরী, ঢাকা,
তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও মেধাকে গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ শেষ হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার বাস্তবায়নকারী সংস্থা ছিল জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর।
গত ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিজয় সরণিতে অবস্থিত নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত এ মেলায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্ভাবক, শিল্প উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মেলা উপলক্ষে আয়োজিত ‘Health Innovation for All: Expanding Access to Affordable and Inclusive Care’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জোবাইদা রহমান।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও মেধা বিকাশে সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান। দেশে নতুন উদ্ভাবন ও তরুণদের মেধা বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে ‘ইনোভেশন ফেয়ার’ আয়োজনের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
আয়োজকরা জানান, তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত ও সামাজিক উদ্ভাবনী ধারণাকে গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত পর্যায়ে নেওয়া এবং সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। মেলায় প্রদর্শিত কয়েকটি উদ্ভাবন ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি কিছু উদ্ভাবন বিদেশে, বিশেষ করে ওমানে, রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।
তিন দিনের মেলায় মোট ২০টি অ্যাকাডেমিক, মিডিয়া ও পলিসি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। ৬৭১টি আবেদনের মধ্য থেকে দক্ষ বিচারক প্যানেলের মূল্যায়নের মাধ্যমে ৫০টি সেরা নিবন্ধিত উদ্ভাবনী দলকে মেলায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
সমাপনী দিনে নির্বাচিত ৫০টি দলের মধ্য থেকে বিচারক প্যানেলের সিদ্ধান্তে শীর্ষ ১০ উদ্ভাবন হিসেবে নির্বাচিত হয়—হোমপিটাল নেক্সাস, স্মার্ট হুইলচেয়ার, ফায়ারফ্লাই, ভয়েস অ্যাসিস্ট ডিভাইস, বিডি সাইবার হেল্পলাইন, ওয়াটার রিপেলেন্ট জুট ফেব্রিক, ন্যাচারাল ফাইবার পিসিবি, অ্যানটেনা ফর ন্যানোস্যাট, লিকুইড ট্রি এবং সেলফ কন্টাক্টর।
শীর্ষ ১০ উদ্ভাবনের প্রত্যেক উদ্ভাবককে পুরস্কার হিসেবে ১ লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া মেলায় সক্রিয় ও সফল উপস্থাপনার জন্য গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (BUBT), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB)—এই পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
মেলায় দেশের ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে ১০০টির বেশি স্টলে বিভিন্ন উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিজ্ঞানী, শিল্প উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও তরুণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

























