
মোঃ আল আমিন মল্লিক,
বরগুনার বেতাগীতে ইলিশের ভরা মৌসুমেও বিষখালী নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। প্রতিদিন জাল ফেলেও আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় জেলেরা। মৌসুমকে ঘিরে দাদন ও ধারদেনা করে নৌকা মেরামত, জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে নদীতে নামলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
বেতাগীর জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের এ সময়টিকে ইলিশ আহরণের প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই মৌসুম শুরুর আগেই অনেক জেলে দাদন ও ধারদেনা করে নৌকা মেরামত এবং নতুন জালসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে বিষখালী নদীতে ইলিশের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় তাদের আয়-রোজগারেও ভাটা পড়েছে।
উপজেলার ঝোপখালী গ্রামের জেলে আফজাল হোসেন ও সোহেল বলেন, ‘এ বছর যতবারই জাল ফেলছি, তেমন ইলিশ পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে দাদনের টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে যাবে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলব, তা নিয়েও চিন্তায় আছি।’
মোকামিয়া ও বদনিখালী এলাকার জেলেরাও একই ধরনের হতাশার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিবছর এ সময়ে বিষখালী নদীতে কমবেশি ইলিশ পাওয়া গেলেও চলতি মৌসুমে ইলিশের পরিমাণ অনেকটাই কম। ফলে জাল ও নৌকা নিয়ে দিনের পর দিন নদীতে অবস্থান করেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর বেতাগী উপজেলা সভাপতি সাইদুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘প্রতিবছর কমবেশি বিষখালী নদীতে ইলিশ পাওয়া গেলেও এ বছর ইলিশের পরিমাণ খুবই কম। নদীতে নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীতে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার ও অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ শিকারের কারণে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে নদী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কমে যাচ্ছে বলে তাদের ধারণা। নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

























