
স্পোর্টস ডেস্ক,
ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের অধ্যায় শেষ বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হারের পর জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
তবে এবার শুধু জাতীয় দল নয়, পুরো ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়েই ভাবতে শুরু করেছেন নেইমার। মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় জানানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
সম্প্রতি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নেইমার জানান, ডিসেম্বরে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। চুক্তি শেষ হওয়ার পরই তিনি ক্যারিয়ার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভাববেন।
নেইমার বলেন, ‘আমি জানি না আর কতদিন খেলব। এখনই থামার কথা ভাবছি না। এমনকি কতদিন খেলা চালিয়ে যাব, সেটাও আমি জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত সান্তোসের সঙ্গে আমার চুক্তি আছে। আমি চুক্তির পুরো সময়টা শেষ করতে চাই এবং যতটা সম্ভব ভালোভাবে সান্তোসের জার্সির সম্মান রাখতে চাই। এরপর চুক্তি শেষ হলে ভাবব—সান্তোসে থাকব, অন্য কোথাও যাব, খেলা বন্ধ করে দেব, নাকি খেলা চালিয়ে যাব।’
সান্তোসের হয়েই পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেছিলেন নেইমার। নিজের প্রতিভা দিয়ে খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলের নজর কাড়েন তিনি। ২০১৩ সালে সান্তোস ছেড়ে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় যোগ দেন।
বার্সেলোনাতেই ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় কাটান নেইমার। লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে গড়ে তোলেন ভয়ংকর আক্রমণভাগ। ক্লাবটির হয়ে জেতেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ একাধিক বড় শিরোপা।
২০১৭ সালে বিশ্ব রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে বার্সেলোনা ছেড়ে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই বা পিএসজিতে যোগ দেন তিনি। ছয় মৌসুম ক্লাবটিতে খেললেও চোট ও নানা কারণে নিজের সেরা ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। তবে ২০২০ সালে পিএসজিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপার খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
এরপর থেকেই নেইমারের ক্যারিয়ারে শুরু হয় কঠিন সময়। ২০২৩ সালে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালে যোগ দিলেও দীর্ঘমেয়াদি চোটের কারণে সেখানে মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
পরে নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন নেইমার। তবে চোট ও ফিটনেসের সমস্যার কারণে আগের মতো ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি তিনি।
২০০৯ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা নেইমার এখন পর্যন্ত ক্লাব পর্যায়ে ৬৩৭টি ম্যাচ খেলেছেন। এই সময়ে তিনি ৩৭৯টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ২৩৪টি গোল।
এখন নেইমারের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। ডিসেম্বরে সান্তোসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি নতুন ক্লাবে যাবেন, সান্তোসেই থাকবেন নাকি ফুটবলকে বিদায় জানাবেন—সেই সিদ্ধান্ত তখনই জানা যাবে।
আর যদি শেষ পর্যন্ত অবসরের সিদ্ধান্ত নেন, তবে মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই শেষ হয়ে যেতে পারে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান ও আলোচিত এক তারকার বর্ণিল ক্যারিয়ার।

























