Dhaka , Wednesday, 6 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জামিনে মুক্তি পেয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু। রূপগঞ্জে তারাব পৌরসভায় বিশ্ব ব্যাংকের মেগা প্রকল্প বদলে যাবে নাগরিক সেবা জামায়াাতে ইসলাম আফিম মাদকের চেয়েও বিপজ্জনক: বুলু ফতুল্লায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় র‍্যাবের ৩ সদস্য আহত, একজন ঢামেকে স্থানান্তর ৭ বছরের শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি, ১৬ বছর পর ৫ আসামির যাবজ্জীবন, পিতার জিম্মায় ফিরল নেয়ামুল উপকূলের মাটিতে আঙ্গুরের স্বপ্ন: সফল উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান রামগঞ্জে ফসলি জমির মাঠ থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে হত্যা মামলার আসামীর সাথে থানায় পোষা বানর গাজীপুরে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ৫০ সৌন্দর্যবর্ধনের নামে চুক্তি লঙ্ঘন করে স্থাপনা করা চলবেনা:- মেয়র ডা. শাহাদাত মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত রামুতে ডাকাতির প্রস্তুতি কালে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেফতার! পাইকগাছায় কৃষি উন্নয়নে লো লিফট পাম্প স্থাপন; পরিদর্শনে সংশ্লিষ্টরা পাইকগাছায় খাল খনন কার্যক্রমে প্রশাসনের মনিটরিং বানরসহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার: রায়পুরে চাঞ্চল্য সিএমপি কমিশনারের ‘ওপেন হাউজ ডে’-তে সেবা নিলেন সেবাপ্রত্যাশীরা নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ পলাশে স্বামীর পরকীয়ায় স্ত্রীর আত্মহত্যা রূপগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম মিয়া বহিষ্কৃত ফরিদপুরে ব্র্যাক নার্সারির উদ্যোগে পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন। চোরাই কাপড় যুবদল নেতার গোডাউনে মজুদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার পকেটে চিপস, ভেতরে ১ হাজার ইয়াবা সুন্দরবনে পর্যটকদের ওপর হামলা ও ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২ পরিচয় মিললেও মিলছে না স্বজন, কুড়িগ্রাম হাসপাতালে যুবকের মরদেহ হিমাগারের সংরক্ষণ রামগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনালে পানপাড়া ও আঙ্গার পাড়া চ্যাম্পিয়ন অপরাধ দমনে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন রামু থানায় কর্মরত এসআই আনোয়ার হোসেন লালমনিরহাট বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলে আধুনিক ও মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা পরিবেশের সূচনা: ১৫ বিজিবি’র অধিনায়কের বিশেষ উদ্যোগ জলাবদ্ধতা কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ মেয়রের হত্যা মাদকসহ ডজন মামলার পলাতক আসামি রূপগঞ্জে গ্রেফতারের পর পুলিশের উপর হামলা করে সন্ত্রাসী শামীমকে ছিনতাই, অভিযানে গ্রেফতার-১৩ রূপগঞ্জে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ৩ ফসলি জমি দখল করে মাছের ঘের

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:35:10 pm, Saturday, 3 January 2026
  • 56 বার পড়া হয়েছে

মো আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় অন্তত ১০০ কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট করে মাছের ঘের করার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী একটি চক্র ইতিমধ্যে সেখানে খনন যন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে জমির মাটি কেটে বাঁধ দেওয়া হয়েও গেছে। জমি দখলে বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে চক্রটি। ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় ঘের বন্ধের করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে এই অঞ্চলের কৃষকরা। তাদের প্রধান ফসল ধান ও মরিচ। কয়েকশো একর জমিতে অন্তত ২০০ কৃষক পরিবার মরিচ ও আউশ ধান চাষ করেন। প্রতিবছর ওই জমিতে দশ হাজার মণ মরিচ ও পাঁচ হাজার মণ আউশ ধান উৎপাদন হয়। সম্প্রতি সেই জমিতে মাছের ঘের করার উদ্যোগ নেয় প্রভাবশালী রিপন উঝা ও লাজুক। ইতিমধ্যে তারা মাছের ঘেরের জন্য কৃষকদের ফসলি জমি দখল নিয়ে রাতের আধারে মাটি কাটা শুরু করেছেন। জমির মাঝখানে মাটি কেটে তৈরি করা হয়েছে বিশাল বাঁধ। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ কৃষকরা বাধা দিতে গেলে প্রতিনিয়ত মারধরের হুমকি দিয়ে চলছে তারা। দারুলআমান ইউনিয়নের কাইলারা গ্রামর লিটন চেয়ারম্যানের বাড়ীর পিছনে ও কনেশ্বর ইউনিয়নের ছৈয়াদ বোস্তা নান্নু ছৈয়ালের বাড়ীর পাশে দিনরাত সমানতালে পাচটি খনন যন্ত্র এক্সকাভেটর দিয়ে ইতিমধ্যেই ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করে ফেলছে চক্রটি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্ধ করা না গেলে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। বন্ধ হয়ে যাবে সবরকম কৃষি কাজ।

দারুল আমান ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষক আলিম উদ্দিন বেপারী বলেন, রিপন উঝা জোর করে জমির মাটি কেটে ফেলছে। আমি জমি দিবো না তাই আমাকে হুমকি দিয়ে বলে জমি না দিলে কি ভাবে নিতে হয় নিয়ে যাবো। এই জমি নিয়ে গেলে আমি আর চাষাবাদ কিছুই করতে পারুম না। আমি যাতে আমার পোলাপান নিয়ে জমিটা চাষবাস করে খাইতে পারি। আপনারা সেই ব্যবস্থা করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কনেশ্বরের কৃষক আমির হোসেন বলেন, আমি আমার জমিটায় মরিচ, ধান ও শাকসবজি চাষ কইরা সংসার চালাই। এই ২০ শতক জমি লাজুক দখল করে মাছের ঘের কাটতেছে। আমরা এখন কীভাবে বাঁচমু। আমি আমার জমিতে মাছের ঘের করতে দিমু না। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করি আমার জমি আমারে ফিরায়ে দেন।

কালাম নামে আরও এক কৃষক বলেন, তারা রাতের আধারে জমিগুলারে দখলে নিয়ে মাটি কাটতেছে। বাধা দিলেও শুনে না। ঘেরের মাঝখানে কিছু মানুষের জমি দখল নিয়েছে। আর মাটি কেটে বাঁধ দেওয়ার ফলে অন্যসব জমিগুলায় বৃষ্টির পানি জমে যাবে। আমরা ধারদেনা কইরা ফসল করি। এখন জমিগুলাতে আর ফসল ফলানো যাবে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভেকু মালিক লাজুক বলেন, জোরপূর্বক নয়। জাকে যেভাবে দরকার ম্যনেজ করছি। এই জমি গুলো লিজ নেওয়া। কৃষকরা নিজ ইচ্ছায় লিজ দিয়েছে তাই ঘের কাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, প্রশাসনের বিষয় রিপন ভাই ম্যানেজ করছে।

এ ব্যাপারে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালাহউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, কৃষি জমির টপসয়েল কাটা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অপরাধ। তাছাড়া টপসয়েল কাটা হলে কৃষি জমির উর্বরতা কমে যায়। এতে ওই জমিতে ফলন হ্রাস পায়। অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামিনে মুক্তি পেয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু।

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ৩ ফসলি জমি দখল করে মাছের ঘের

আপডেট সময় : 02:35:10 pm, Saturday, 3 January 2026

মো আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় অন্তত ১০০ কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট করে মাছের ঘের করার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী একটি চক্র ইতিমধ্যে সেখানে খনন যন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে জমির মাটি কেটে বাঁধ দেওয়া হয়েও গেছে। জমি দখলে বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে চক্রটি। ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় ঘের বন্ধের করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে এই অঞ্চলের কৃষকরা। তাদের প্রধান ফসল ধান ও মরিচ। কয়েকশো একর জমিতে অন্তত ২০০ কৃষক পরিবার মরিচ ও আউশ ধান চাষ করেন। প্রতিবছর ওই জমিতে দশ হাজার মণ মরিচ ও পাঁচ হাজার মণ আউশ ধান উৎপাদন হয়। সম্প্রতি সেই জমিতে মাছের ঘের করার উদ্যোগ নেয় প্রভাবশালী রিপন উঝা ও লাজুক। ইতিমধ্যে তারা মাছের ঘেরের জন্য কৃষকদের ফসলি জমি দখল নিয়ে রাতের আধারে মাটি কাটা শুরু করেছেন। জমির মাঝখানে মাটি কেটে তৈরি করা হয়েছে বিশাল বাঁধ। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ কৃষকরা বাধা দিতে গেলে প্রতিনিয়ত মারধরের হুমকি দিয়ে চলছে তারা। দারুলআমান ইউনিয়নের কাইলারা গ্রামর লিটন চেয়ারম্যানের বাড়ীর পিছনে ও কনেশ্বর ইউনিয়নের ছৈয়াদ বোস্তা নান্নু ছৈয়ালের বাড়ীর পাশে দিনরাত সমানতালে পাচটি খনন যন্ত্র এক্সকাভেটর দিয়ে ইতিমধ্যেই ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করে ফেলছে চক্রটি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্ধ করা না গেলে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। বন্ধ হয়ে যাবে সবরকম কৃষি কাজ।

দারুল আমান ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষক আলিম উদ্দিন বেপারী বলেন, রিপন উঝা জোর করে জমির মাটি কেটে ফেলছে। আমি জমি দিবো না তাই আমাকে হুমকি দিয়ে বলে জমি না দিলে কি ভাবে নিতে হয় নিয়ে যাবো। এই জমি নিয়ে গেলে আমি আর চাষাবাদ কিছুই করতে পারুম না। আমি যাতে আমার পোলাপান নিয়ে জমিটা চাষবাস করে খাইতে পারি। আপনারা সেই ব্যবস্থা করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কনেশ্বরের কৃষক আমির হোসেন বলেন, আমি আমার জমিটায় মরিচ, ধান ও শাকসবজি চাষ কইরা সংসার চালাই। এই ২০ শতক জমি লাজুক দখল করে মাছের ঘের কাটতেছে। আমরা এখন কীভাবে বাঁচমু। আমি আমার জমিতে মাছের ঘের করতে দিমু না। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করি আমার জমি আমারে ফিরায়ে দেন।

কালাম নামে আরও এক কৃষক বলেন, তারা রাতের আধারে জমিগুলারে দখলে নিয়ে মাটি কাটতেছে। বাধা দিলেও শুনে না। ঘেরের মাঝখানে কিছু মানুষের জমি দখল নিয়েছে। আর মাটি কেটে বাঁধ দেওয়ার ফলে অন্যসব জমিগুলায় বৃষ্টির পানি জমে যাবে। আমরা ধারদেনা কইরা ফসল করি। এখন জমিগুলাতে আর ফসল ফলানো যাবে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভেকু মালিক লাজুক বলেন, জোরপূর্বক নয়। জাকে যেভাবে দরকার ম্যনেজ করছি। এই জমি গুলো লিজ নেওয়া। কৃষকরা নিজ ইচ্ছায় লিজ দিয়েছে তাই ঘের কাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, প্রশাসনের বিষয় রিপন ভাই ম্যানেজ করছে।

এ ব্যাপারে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালাহউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, কৃষি জমির টপসয়েল কাটা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অপরাধ। তাছাড়া টপসয়েল কাটা হলে কৃষি জমির উর্বরতা কমে যায়। এতে ওই জমিতে ফলন হ্রাস পায়। অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।