
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওমানে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে শনিবার তিনি রাজধানী মাসকাটে যান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ার পর এই আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি চেয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানান, সাম্প্রতিক সংঘাত সত্ত্বেও দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘটেছে। যদিও শুক্রবার ও শনিবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ জানায়, ওমান আবারও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া উত্তেজনা প্রশমনে মাসকাট সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। তবে বৈঠক সরাসরি নাকি ভার্চ্যুয়ালি হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক আলোচনার সম্ভাবনা নেই।
এরই মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, উভয় পক্ষ চুক্তি মেনে চললেই কেবল পারস্পরিক সমঝোতা কার্যকর হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলার চেষ্টা হলে তার কঠোর সামরিক জবাব দেওয়া হবে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের কাছে আলোচনার কোনো অনুরোধ করেনি; বরং কাতারের মধ্যস্থতায় উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করছে।

























