Dhaka , Thursday, 11 June 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ঝরে পড়াদের হাতে নিয়োগপত্র, আলো ছড়ালেন ডিসি জাহিদ প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ নড়িয়া থানায় যানবাহন সংকট, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় বিএনপি নেতার পোস্ট ক্রীড়াবান্ধব উদ্যোগ: পাইকগাছার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুটবল বিতরণ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামের পটিয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকের ওপর হামলা অভিযোগ দক্ষিণ মিঠাছড়ির চাইন্দা ঘোনারপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট, বর্ষার আগেই সংস্কারের দাবি রূপগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্যসহ ৬ মাদক কারবারি গ্রেফতার ২৮ ঘন্টা পর মেঘনায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার সরাইলে মায়ের নেতৃত্বে পুত্র হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত  বাবার জন্য খাবার নিয়ে গিয়ে মেঘনায় নিখোঁজ শিশু শরীয়তপুরে গৃহবধু কনিকা হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন জাজিরায় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে দুর্নীতি বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘চোখের বদলে চোখ’, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে মার্কিন-ইরান পালটাপালটি হামলা স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর আয় বেশি হলে পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ে: গবেষণা বিশ্বকাপ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আট দলের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ দলীয় সম্পদ-প্রতীকও কি হারাতে পারেন মমতা? সেভেন আপের বোতলে দুধ ঢেলে গোসল করে সৌদিকে সমর্থন ব্রাজিল সমর্থকের সাফজয়ী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ নগর গড়তে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে:- মেয়র ডা. শাহাদাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীন মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জন আটক, জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা আজিজুল হক আজিজের নানাবাড়ি বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু রূপগঞ্জে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন  বিশ্বকাপ উন্মাদনায় রামগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পাইকগাছায় ফ্রেন্ডশিপের পরিবেশ সচেতনতা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে খাল দখলমুক্ত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ অভিযান হামলার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মামলার আসামি স্টার নিউজের সাংবাদিক রামুতে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত প্রযুক্তি নির্ভর আর্থিক সেবায় বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামফলক উপড়ে ফেলে চিরসত্য ইতিহাসকে মুছে দেয়ার অপচেষ্টা…

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:15:40 pm, Saturday, 14 February 2026
  • 49 বার পড়া হয়েছে

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

স্বৈরাচার ও তার দোসরদের নির্দেশে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে স্থাপিত নামফলকটি উপড়ে ফেলে চিরসত্য ইতিহাসকে মুছে দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছেন আওয়ামী দলকানা নামধারী সাংবাদিকরা। এর ফলে নতুন প্রজন্ম আর জানতে পারেনি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা। এসব সাংবাদিকরা পেশাকে জলাঞ্জলি দিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায় ও স্বৈরাচারের মন জয় করতে দলবাজিতে ব্যস্ত ছিল এবং গণমানুষের আশা ভরসার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছিল। তারা চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকতাকে কলংকিত করেছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি এসব তথ্য জানান। এসময় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নামফলকটি আগের স্থানে যথাযতভাবে স্থাপন করা হবে বলে উল্লেখ করেন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, প্রেসক্লাবের বর্তমান কমিটি গত ১০ ডিসেম্বর’২০২৬ ইং ২০২৬-২০২৭ সেশনের জন্য প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বর্তমান কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর জানতে পারে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অডিটরিয়াম ও ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মানকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সে সময় দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেকসহ সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানের ছবি তোলেন তৎকালীন নামকরা সাংবাদিক ও পরবর্তীতে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর। তখন থেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্বোধনের ভিত্তিপ্রস্তর ফলকটি ক্লাবের সামনের দেয়ালে খোদাই করে লাগানো ছিল। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আগমনের সময় উক্ত ভিত্তিপ্রস্তরটি খুলে ফেলা হয় বলে জানা যায়। এরপর থেকে ভিত্তিপ্রস্তরটি কোথায় ছিল কেউ বলতে পারছিলেন না। বিগত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির নেতাদের কাছে এ সব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা আমাদেরকে আওয়ামী সরকার বিরোধী আখ্যায়িত করে হুমকি ধামকি দেন।

এতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকতার প্রতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাসী ছিলেন এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে বিপুল অবদান রাখেন। প্রেসিডেন্ট জিয়া সাংবাদিকদের সার্বিক কল্যাণ চাইতেন। বিদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে গেলে তিনি চট্টগ্রামের সংবাদপত্র, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের দু-তিনজন প্রতিনিধি সব সময় সঙ্গে নিয়ে যেতেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে শহীদ জিয়া আর্থিক সমর্থন দিয়েছেন। শেরশাহ কলোনীতে সাংবাদিকদের জন্য জমি প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে ১৫ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক কমিটির কর্মকর্তারা মহান স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ফলকটি ফেলে দেয়। এর মাধ্যমে তারা চিরসত্য ইতিহাসকে মুছে দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রী-এমপিদের নির্দেশে এই ইতিহাস মুছে দেয়ার এই অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় ও তাদের মন জয় করতে ওইসব নামধারী সাংবাদিকরা পেশাকে জলাঞ্জলি দিয়ে দলবাজিতে ব্যস্ত ছিল এবং গণমানুষের আশা ভরসার বিপরীতে অবস্থান নেয়। তারা চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকতাকে কলংকিত করেছে। তারা প্রকৃত ইতিহাস মুছে দিতে চেয়েছিল।

আমরা অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অডিটরিয়ামের যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে তার হাত ধরে এই প্রতিষ্ঠান তিলে তিলে গড়ে ওঠে। কালক্রমে আওয়ামী দলকানারা সেটি মুছে দেয়। নতুন প্রজন্ম আর জানতে পারেনি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা।

নেতৃবৃন্দরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা প্রেসক্লাবের বিভিন্ন সময়ে ক্লাবের দেয়ালে সাটানো ভিত্তিপ্রস্তরগুলোর উদ্ধারের জন্য বর্তমান কমিটি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ০৫/০২/২০২৬ ইং প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাতসহ কমিটির কর্মকর্তারা প্রেসক্লাবের আন্ডারগ্রাইন্ডে গোডাউন পরিদর্শনে গিয়ে নোংরা ও ময়লাযুক্ত পরিবেশে জিয়াউর রহমানের ভিত্তিপ্রস্তরটি খুজে পেয়ে উদ্ধার করে। ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে নামফলকটিতে সযত্নে ক্লাবের অফিসে রাখা হয়েছে।

প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্যদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলা ১১ ফাল্গুন ১৩৮৪ (শুক্রবার) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পর থেকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইতিহাসের অংশ এই নামফলকটি এক সময় প্রেসক্লাবের সামনেই ওয়ালে সাটানো ছিল। কারা এটি সরালো? কোন উদ্দেশ্যে? ঐতিহাসিক এই নিদর্শন সরিয়ে ফেলার হোতাদের বিরুদ্ধে কি করা যায়?

তবে আইনেও এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধানের কথা উল্লেখ আছে। ভিত্তিপ্রস্তর বা এ ধরনের স্থাপনার ফলক সরিয়ে ফেলা, ভাঙা বা বিকৃত করা আইনত গুরুতর অপরাধ, যা সাধারণত সম্পত্তি বিনষ্ট (Criminal Trespass/Mischief) হিসেবে গণ্য হয়। এর শাস্তি হিসেবে দণ্ডবিধি অনুযায়ী কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। এই ভিত্তিপ্রস্তরটি কারা ক্লাবের দেয়াল থেকে সরিয়ে নিল এবং কারা এই ঘটনায় জড়িত তা নির্নয় করা প্রয়োজন বলে জানান নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনের এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত ও ওসমান গণি মনসুর, সিনিয়র সহ সভাপতি মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, অর্থ সম্পাদক আবুল হাস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ঝরে পড়াদের হাতে নিয়োগপত্র, আলো ছড়ালেন ডিসি জাহিদ প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামফলক উপড়ে ফেলে চিরসত্য ইতিহাসকে মুছে দেয়ার অপচেষ্টা…

আপডেট সময় : 06:15:40 pm, Saturday, 14 February 2026

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

স্বৈরাচার ও তার দোসরদের নির্দেশে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে স্থাপিত নামফলকটি উপড়ে ফেলে চিরসত্য ইতিহাসকে মুছে দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছেন আওয়ামী দলকানা নামধারী সাংবাদিকরা। এর ফলে নতুন প্রজন্ম আর জানতে পারেনি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা। এসব সাংবাদিকরা পেশাকে জলাঞ্জলি দিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায় ও স্বৈরাচারের মন জয় করতে দলবাজিতে ব্যস্ত ছিল এবং গণমানুষের আশা ভরসার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছিল। তারা চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকতাকে কলংকিত করেছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি এসব তথ্য জানান। এসময় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নামফলকটি আগের স্থানে যথাযতভাবে স্থাপন করা হবে বলে উল্লেখ করেন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, প্রেসক্লাবের বর্তমান কমিটি গত ১০ ডিসেম্বর’২০২৬ ইং ২০২৬-২০২৭ সেশনের জন্য প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বর্তমান কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর জানতে পারে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অডিটরিয়াম ও ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মানকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সে সময় দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেকসহ সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানের ছবি তোলেন তৎকালীন নামকরা সাংবাদিক ও পরবর্তীতে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর। তখন থেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্বোধনের ভিত্তিপ্রস্তর ফলকটি ক্লাবের সামনের দেয়ালে খোদাই করে লাগানো ছিল। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আগমনের সময় উক্ত ভিত্তিপ্রস্তরটি খুলে ফেলা হয় বলে জানা যায়। এরপর থেকে ভিত্তিপ্রস্তরটি কোথায় ছিল কেউ বলতে পারছিলেন না। বিগত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির নেতাদের কাছে এ সব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা আমাদেরকে আওয়ামী সরকার বিরোধী আখ্যায়িত করে হুমকি ধামকি দেন।

এতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকতার প্রতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাসী ছিলেন এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে বিপুল অবদান রাখেন। প্রেসিডেন্ট জিয়া সাংবাদিকদের সার্বিক কল্যাণ চাইতেন। বিদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে গেলে তিনি চট্টগ্রামের সংবাদপত্র, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের দু-তিনজন প্রতিনিধি সব সময় সঙ্গে নিয়ে যেতেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে শহীদ জিয়া আর্থিক সমর্থন দিয়েছেন। শেরশাহ কলোনীতে সাংবাদিকদের জন্য জমি প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে ১৫ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক কমিটির কর্মকর্তারা মহান স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ফলকটি ফেলে দেয়। এর মাধ্যমে তারা চিরসত্য ইতিহাসকে মুছে দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রী-এমপিদের নির্দেশে এই ইতিহাস মুছে দেয়ার এই অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় ও তাদের মন জয় করতে ওইসব নামধারী সাংবাদিকরা পেশাকে জলাঞ্জলি দিয়ে দলবাজিতে ব্যস্ত ছিল এবং গণমানুষের আশা ভরসার বিপরীতে অবস্থান নেয়। তারা চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকতাকে কলংকিত করেছে। তারা প্রকৃত ইতিহাস মুছে দিতে চেয়েছিল।

আমরা অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অডিটরিয়ামের যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে তার হাত ধরে এই প্রতিষ্ঠান তিলে তিলে গড়ে ওঠে। কালক্রমে আওয়ামী দলকানারা সেটি মুছে দেয়। নতুন প্রজন্ম আর জানতে পারেনি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা।

নেতৃবৃন্দরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা প্রেসক্লাবের বিভিন্ন সময়ে ক্লাবের দেয়ালে সাটানো ভিত্তিপ্রস্তরগুলোর উদ্ধারের জন্য বর্তমান কমিটি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ০৫/০২/২০২৬ ইং প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাতসহ কমিটির কর্মকর্তারা প্রেসক্লাবের আন্ডারগ্রাইন্ডে গোডাউন পরিদর্শনে গিয়ে নোংরা ও ময়লাযুক্ত পরিবেশে জিয়াউর রহমানের ভিত্তিপ্রস্তরটি খুজে পেয়ে উদ্ধার করে। ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে নামফলকটিতে সযত্নে ক্লাবের অফিসে রাখা হয়েছে।

প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্যদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলা ১১ ফাল্গুন ১৩৮৪ (শুক্রবার) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পর থেকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইতিহাসের অংশ এই নামফলকটি এক সময় প্রেসক্লাবের সামনেই ওয়ালে সাটানো ছিল। কারা এটি সরালো? কোন উদ্দেশ্যে? ঐতিহাসিক এই নিদর্শন সরিয়ে ফেলার হোতাদের বিরুদ্ধে কি করা যায়?

তবে আইনেও এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধানের কথা উল্লেখ আছে। ভিত্তিপ্রস্তর বা এ ধরনের স্থাপনার ফলক সরিয়ে ফেলা, ভাঙা বা বিকৃত করা আইনত গুরুতর অপরাধ, যা সাধারণত সম্পত্তি বিনষ্ট (Criminal Trespass/Mischief) হিসেবে গণ্য হয়। এর শাস্তি হিসেবে দণ্ডবিধি অনুযায়ী কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। এই ভিত্তিপ্রস্তরটি কারা ক্লাবের দেয়াল থেকে সরিয়ে নিল এবং কারা এই ঘটনায় জড়িত তা নির্নয় করা প্রয়োজন বলে জানান নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনের এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত ও ওসমান গণি মনসুর, সিনিয়র সহ সভাপতি মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, অর্থ সম্পাদক আবুল হাস