
সিলেট ব্যুরো,
সিলেটের জৈন্তাপুরে গণসংযোগ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এনসিপির দাবি, দুর্বৃত্তদের ছোড়া ইট ও পাথরের আঘাতে বহরের একটি চলন্ত গাড়ির কাচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। এতে দলটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুজন আহত হন। হামলায় নাসীরুদ্দীনের হাত কেটে রক্তপাত হয় বলে জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে জৈন্তাপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে এনসিপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে। ঘটনার পর সিলেট সার্কিট হাউসে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তার গায়ের রক্ত ঝরেছে এবং এ ঘটনার জবাবদিহি করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, জৈন্তাপুরের কর্মসূচি শেষ করে গাড়িবহর রওনা হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিকট শব্দে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। বড় একটি ইট গাড়িতে আঘাত করলে কাচের টুকরো ও ইটের আঘাতে তিনি আহত হন। ইটটি মাথায় লাগলে প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, সামনে-পেছনে পুলিশের টহল ও এএসপির প্রটোকল থাকা সত্ত্বেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে, সিলেট জেলা এনসিপির সদস্যসচিব কামরুল আরিফ দাবি করেছেন, চলন্ত গাড়িবহর লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় পুলিশ। জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানিয়েছেন, কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় এনসিপির গাড়িবহরকে সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের থানার এলাকায় কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
শাহপরান থানা পুলিশও তাদের এলাকায় এমন কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
এর আগে সিলেটের গোলাপগঞ্জে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। তারও আগে হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা চলাকালে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করে দলটি।
একাধিক হামলার ঘটনার পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছে এনসিপি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
























