Dhaka , Thursday, 11 June 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ঝরে পড়াদের হাতে নিয়োগপত্র, আলো ছড়ালেন ডিসি জাহিদ প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ নড়িয়া থানায় যানবাহন সংকট, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় বিএনপি নেতার পোস্ট ক্রীড়াবান্ধব উদ্যোগ: পাইকগাছার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুটবল বিতরণ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামের পটিয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকের ওপর হামলা অভিযোগ দক্ষিণ মিঠাছড়ির চাইন্দা ঘোনারপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট, বর্ষার আগেই সংস্কারের দাবি রূপগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্যসহ ৬ মাদক কারবারি গ্রেফতার ২৮ ঘন্টা পর মেঘনায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার সরাইলে মায়ের নেতৃত্বে পুত্র হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত  বাবার জন্য খাবার নিয়ে গিয়ে মেঘনায় নিখোঁজ শিশু শরীয়তপুরে গৃহবধু কনিকা হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন জাজিরায় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে দুর্নীতি বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘চোখের বদলে চোখ’, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে মার্কিন-ইরান পালটাপালটি হামলা স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর আয় বেশি হলে পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ে: গবেষণা বিশ্বকাপ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আট দলের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ দলীয় সম্পদ-প্রতীকও কি হারাতে পারেন মমতা? সেভেন আপের বোতলে দুধ ঢেলে গোসল করে সৌদিকে সমর্থন ব্রাজিল সমর্থকের সাফজয়ী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ নগর গড়তে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে:- মেয়র ডা. শাহাদাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীন মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জন আটক, জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা আজিজুল হক আজিজের নানাবাড়ি বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু রূপগঞ্জে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন  বিশ্বকাপ উন্মাদনায় রামগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পাইকগাছায় ফ্রেন্ডশিপের পরিবেশ সচেতনতা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে খাল দখলমুক্ত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ অভিযান হামলার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মামলার আসামি স্টার নিউজের সাংবাদিক রামুতে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত প্রযুক্তি নির্ভর আর্থিক সেবায় বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন

চট্টগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক শোক সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:44:26 pm, Saturday, 31 January 2026
  • 68 বার পড়া হয়েছে

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম ১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। মাত্র ১০-১১ বছর ক্ষমতায় থাকলেও প্রায় ৩০ বছর তিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যখন অনেকেই আপস করেছেন কিংবা চাপ নিতে না পেরে সরে দাঁড়িয়েছেন, তখন বেগম খালেদা জিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও আপস করেননি। এই জায়গাতেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা।

তিনি শনিবার (৩১ জানুয়ারী) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউরী আলমাস সিনেমা সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বেগম খালেদা জিয়ার কর্মময় রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি চারণ করে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, এস এম ফজলুল হক, একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, ইন্ডিয়ান সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজিব রন্জন।

বিশ্ব নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা টেনে আমীর খসরু বলেন, মার্টিন লুথার কিং ও নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতারা যেভাবে জীবনের শেষ পর্যন্ত আপসহীন ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগও সেই উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা তাঁর জীবদ্দশায় সেই ত্যাগের গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে না পারলেও তাঁর মৃত্যুর পর বুঝতে পেরেছি—তিনি কতটা গভীরভাবে বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে জায়গা করে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সারাজীবনের ত্যাগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যে মশাল জ্বালিয়ে গেছেন, সেই মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন। এই মশাল অত্যন্ত মূল্যবান, যা আমাদের সবাইকে বহন করতে হবে।

আগামীর রাজনীতির পথ সহজ হবে না উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই শেষ হয়নি। আমাদের শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে। সামনে ১২ তারিখ নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র চর্চার লড়াই আরও কঠিন হতে পারে। আমরা ভাবতে পারি—নির্বাচনের পর জীবন সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু জীবন সহজ হবে না, মোটেও সহজ হবে না। গণতন্ত্রের লড়াই এখানেই শেষ নয়। নির্বাচন পরবর্তী সময় আরও কঠিন হতে পারে। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে।

গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, প্রকৃত অর্থে তিনি দেশের জনগণের নেতা ছিলেন। বেগম জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেওয়া সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিই এটি প্রমাণ করে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে স্বৈরশাসকের মিথ্যা মামলায় জুলুম নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি ছিলেন আপোষহীন। গণতন্ত্র রক্ষায় তার সংগ্রামী মনোভাবের জন্যই তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

এস এম ফজলুল হক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানবতার প্রতীক। তিনি দেশের মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দেশের বাইরে না গিয়ে এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি আজীবন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন এবং দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল প্রশ্নাতীত।

ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কোনো নির্দিষ্ট দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সম্পদ। তিনি রাজনৈতিক জীবনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সবসময় মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ১৮ কোটি জনগণের নেত্রী।

আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন নেত্রী, যাঁর জীবন ও আপসহীন সংগ্রাম কোটি মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে, অধিকার নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। ক্ষমতার মোহ, ভয় কিংবা চাপ কোনো কিছুর কাছেই তিনি নীতির প্রশ্নে আপস করেননি। বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন তিনি এদেশের নেতৃত্বের প্রতীক। প্রখ্যাত চিন্তাবিদ জন সি. ম্যাক্সওয়েল বলেছিলেন-নেতা বা নেত্রী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি পথ জানেন, নিজে সেই পথে চলেন এবং অন্যদেরও সেই পথ দেখান। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ঠিক এই কথারই যেন প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি শুধু গণতন্ত্রের কথা বলেননি গণতন্ত্রের পথেই নিজে হেঁটেছেন। তিনি শুধু সংগ্রামের ডাক দেননি -নিজেই সেই সংগ্রামের অগ্রভাগে দাঁড়িয়েছেন। বারবার নির্যাতন, কারাবরণ ও অসুস্থতার মধ্যেও তিনি মাথা নত করেননি। দেশ, দেশের মাটি, দেশের আপামর মানুষের মর্যাদার প্রশ্নে, স্বার্থের প্রশ্নে অটল, অবিচল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ যে অপরিহার্য তিনি তা কর্ম ও উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন।

মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। তিনি বাংলাদেশকে শুধু ভালোবাসেননি, বাংলাদেশকে নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছিলেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশ ত্যাগ না করে তিনি বলেছিলেন, ‘বাঁচতে হলে বাংলাদেশে বাঁচবো, মরতেও হলে বাংলাদেশেই। এই কথাটাই প্রমাণ করে তাঁর দেশপ্রেম কতটা গভীর ও আন্তরিক ছিল।

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ় সংকল্প ও অটল বিশ্বাসের এক বিরল নেতৃত্বের প্রতীক। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, প্রগতিশীল আদর্শ এবং জাতির সেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যদিও তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা অপূরণীয়, তবে তাঁর দর্শন চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি যে মূল্যবোধ ও কৌশলগত ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন, তা ভবিষ্যতেও ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে যৌথ প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।

ডা. শাহনাজ মাবুদ শিলভীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন তুরুস্কের কনসাল জেনারেল সালাউদ্দীন কাশেম খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, ইস্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দীন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম ৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম ৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম ১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইদ আল নোমান, চট্টগ্রাম ক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক এস এম তারেক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ড. জিন বোদি ভিক্ষু, চট্টগ্রাম নাগরিক ঐক্যের সভাপতি স্বপন মজুমদার, চমেক ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, বিএমএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, মহানগর পিপি এড. মফিজুল হক ভূইয়া, মা ও শিশু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. কামরুন্নাহার দস্তগীর, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাজহারুল হক শাহ, থিয়েটার ইন্সটিটিউটের পরিচালক কবি অভীক ওসমান, সিজেকেএস সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মাওলানা এম এ কাশেম ইসলামাবাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, ডিসি সাউথ কবির আহমেদ, ইয়ুথ ভয়েস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার, এমইবি গ্রুপের পরিচালক শোয়েব রিয়াদ, উইমেন চেম্বারের পরিচালক বেবি হাসান, দক্ষিণ জেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের সভাপতি দেবব্রত পাল দেবু, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার উছমান চৌধুরী, মহানগর এনসিপির সদস্য সাদিয়া আফরিন, কোরান তেলোয়াত করেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদর ইমাম মাওলানা আহমেদুল হক।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ঝরে পড়াদের হাতে নিয়োগপত্র, আলো ছড়ালেন ডিসি জাহিদ প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক শোক সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আপডেট সময় : 08:44:26 pm, Saturday, 31 January 2026

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম ১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। মাত্র ১০-১১ বছর ক্ষমতায় থাকলেও প্রায় ৩০ বছর তিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যখন অনেকেই আপস করেছেন কিংবা চাপ নিতে না পেরে সরে দাঁড়িয়েছেন, তখন বেগম খালেদা জিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও আপস করেননি। এই জায়গাতেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা।

তিনি শনিবার (৩১ জানুয়ারী) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউরী আলমাস সিনেমা সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বেগম খালেদা জিয়ার কর্মময় রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি চারণ করে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, এস এম ফজলুল হক, একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, ইন্ডিয়ান সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজিব রন্জন।

বিশ্ব নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা টেনে আমীর খসরু বলেন, মার্টিন লুথার কিং ও নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতারা যেভাবে জীবনের শেষ পর্যন্ত আপসহীন ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগও সেই উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা তাঁর জীবদ্দশায় সেই ত্যাগের গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে না পারলেও তাঁর মৃত্যুর পর বুঝতে পেরেছি—তিনি কতটা গভীরভাবে বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে জায়গা করে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সারাজীবনের ত্যাগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যে মশাল জ্বালিয়ে গেছেন, সেই মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন। এই মশাল অত্যন্ত মূল্যবান, যা আমাদের সবাইকে বহন করতে হবে।

আগামীর রাজনীতির পথ সহজ হবে না উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই শেষ হয়নি। আমাদের শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে। সামনে ১২ তারিখ নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র চর্চার লড়াই আরও কঠিন হতে পারে। আমরা ভাবতে পারি—নির্বাচনের পর জীবন সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু জীবন সহজ হবে না, মোটেও সহজ হবে না। গণতন্ত্রের লড়াই এখানেই শেষ নয়। নির্বাচন পরবর্তী সময় আরও কঠিন হতে পারে। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে।

গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, প্রকৃত অর্থে তিনি দেশের জনগণের নেতা ছিলেন। বেগম জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেওয়া সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিই এটি প্রমাণ করে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে স্বৈরশাসকের মিথ্যা মামলায় জুলুম নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি ছিলেন আপোষহীন। গণতন্ত্র রক্ষায় তার সংগ্রামী মনোভাবের জন্যই তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

এস এম ফজলুল হক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানবতার প্রতীক। তিনি দেশের মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দেশের বাইরে না গিয়ে এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি আজীবন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন এবং দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল প্রশ্নাতীত।

ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কোনো নির্দিষ্ট দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সম্পদ। তিনি রাজনৈতিক জীবনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সবসময় মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ১৮ কোটি জনগণের নেত্রী।

আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন নেত্রী, যাঁর জীবন ও আপসহীন সংগ্রাম কোটি মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে, অধিকার নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। ক্ষমতার মোহ, ভয় কিংবা চাপ কোনো কিছুর কাছেই তিনি নীতির প্রশ্নে আপস করেননি। বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন তিনি এদেশের নেতৃত্বের প্রতীক। প্রখ্যাত চিন্তাবিদ জন সি. ম্যাক্সওয়েল বলেছিলেন-নেতা বা নেত্রী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি পথ জানেন, নিজে সেই পথে চলেন এবং অন্যদেরও সেই পথ দেখান। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ঠিক এই কথারই যেন প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি শুধু গণতন্ত্রের কথা বলেননি গণতন্ত্রের পথেই নিজে হেঁটেছেন। তিনি শুধু সংগ্রামের ডাক দেননি -নিজেই সেই সংগ্রামের অগ্রভাগে দাঁড়িয়েছেন। বারবার নির্যাতন, কারাবরণ ও অসুস্থতার মধ্যেও তিনি মাথা নত করেননি। দেশ, দেশের মাটি, দেশের আপামর মানুষের মর্যাদার প্রশ্নে, স্বার্থের প্রশ্নে অটল, অবিচল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ যে অপরিহার্য তিনি তা কর্ম ও উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন।

মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। তিনি বাংলাদেশকে শুধু ভালোবাসেননি, বাংলাদেশকে নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছিলেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশ ত্যাগ না করে তিনি বলেছিলেন, ‘বাঁচতে হলে বাংলাদেশে বাঁচবো, মরতেও হলে বাংলাদেশেই। এই কথাটাই প্রমাণ করে তাঁর দেশপ্রেম কতটা গভীর ও আন্তরিক ছিল।

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ় সংকল্প ও অটল বিশ্বাসের এক বিরল নেতৃত্বের প্রতীক। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, প্রগতিশীল আদর্শ এবং জাতির সেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যদিও তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা অপূরণীয়, তবে তাঁর দর্শন চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি যে মূল্যবোধ ও কৌশলগত ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন, তা ভবিষ্যতেও ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে যৌথ প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।

ডা. শাহনাজ মাবুদ শিলভীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন তুরুস্কের কনসাল জেনারেল সালাউদ্দীন কাশেম খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, ইস্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দীন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম ৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম ৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম ১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইদ আল নোমান, চট্টগ্রাম ক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক এস এম তারেক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ড. জিন বোদি ভিক্ষু, চট্টগ্রাম নাগরিক ঐক্যের সভাপতি স্বপন মজুমদার, চমেক ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, বিএমএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, মহানগর পিপি এড. মফিজুল হক ভূইয়া, মা ও শিশু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. কামরুন্নাহার দস্তগীর, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাজহারুল হক শাহ, থিয়েটার ইন্সটিটিউটের পরিচালক কবি অভীক ওসমান, সিজেকেএস সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মাওলানা এম এ কাশেম ইসলামাবাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, ডিসি সাউথ কবির আহমেদ, ইয়ুথ ভয়েস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার, এমইবি গ্রুপের পরিচালক শোয়েব রিয়াদ, উইমেন চেম্বারের পরিচালক বেবি হাসান, দক্ষিণ জেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের সভাপতি দেবব্রত পাল দেবু, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার উছমান চৌধুরী, মহানগর এনসিপির সদস্য সাদিয়া আফরিন, কোরান তেলোয়াত করেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদর ইমাম মাওলানা আহমেদুল হক।