
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরম। এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অনাগত শিশুদের স্বাস্থ্যে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, উচ্চ রক্তচাপ এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান জন্মের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গবেষণা। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থার শেষ মাসে তীব্র তাপপ্রবাহের মুখে পড়লে অপরিণত সন্তান জন্মের হার ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের গবেষণা বলছে, বসবাসের এলাকার গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে অপরিণত সন্তান প্রসবের আশঙ্কা ৪ শতাংশ বাড়ে। তাপপ্রবাহের পরের সপ্তাহে এ ঝুঁকি ২৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
অতিরিক্ত গরমের সঙ্গে প্রি-এক্লাম্পসিয়া, জন্মগত ত্রুটি এবং প্লাসেন্টা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতারও সম্পর্ক রয়েছে। চীনে দুই লাখ নারীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, অস্বাভাবিক গরমে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার ঝুঁকি ১৩ শতাংশ বাড়ে। অন্যদিকে, মেক্সিকোর ৮০ হাজার জন্মসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সন্তান জন্মের আগের চার সপ্তাহে তাপপ্রবাহ থাকলে অপরিণত শিশু জন্মের হার গড়ে প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি বয়সি, দরিদ্র, ধূমপায়ী এবং আগে থেকে শারীরিক জটিলতায় ভোগা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে তাপপ্রবাহের সময় গর্ভবতী নারীদের জরুরি বিভাগে যাওয়া ও হাসপাতালে ভর্তির হার বাড়তে দেখা গেছে। একই সময়ে নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার ঘটনাও বেড়েছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, অতিরিক্ত গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার প্রক্রিয়ায় মায়ের জরায়ু ও প্লাসেন্টায় রক্ত সরবরাহ কমে যেতে পারে। এতে ভ্রূণের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি তাপমাত্রা হরমোনের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে এবং ভ্রূণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে অতিরিক্ত গরম জন্মগত ত্রুটি ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আর শেষের দিকে বাড়তে পারে মৃত সন্তান প্রসবের আশঙ্কা।
এ পরিস্থিতিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অতিরিক্ত গরম এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান, ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং শীতল পরিবেশে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
গবেষকদের মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের ছুটির সুযোগ বাড়ানো, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি নীতিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমেই তীব্র গরমের ঝুঁকি থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অনাগত শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

























