Dhaka , Wednesday, 26 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মাদারীপুর রাজৈরে ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার গ্রেফতার ১ অহনাকে নায়িকা বানাতে বাসায় গিয়েছিলেন মান্না, অতঃপর… হ্যাটট্রিক জয়ের পর ৮ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের হার মস্কোতে নামল মার্কিন সামরিক বিমান, ক্রেমলিন বলছে কিছু জানা নেই সমুদ্রে জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে ডিওএস-এর সেমিনার অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে এনসিপি : সারজিস আলম ঢাকা-যশোর রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করছে ইউএস-বাংলা নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত বৈধ বিলেও দিতে হয় অবৈধ ‘কমিশন’! মাদারীপুর পরিবার পরিকল্পনায় ১৬ বছর ধরে অনিয়মের অভিযোগ পাইকগাছায় জলাবদ্ধতা নিরসনে এমপির তাগিদ সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়: চট্টগ্রামের ডিসি রূপগঞ্জে ১৮ বছর পর সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের শিক্ষক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ)-২০২৬ উপলক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্তে সিএমপি’তে ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় সপ্তাহের ৬ দিনই বন্ধ ওটি, ঝুঁকিতে প্রসূতিরা চাড়ালজানী ব্রিজের পাশে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে নাকাল পথচারী ও এলাকাবাসী মধুপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও সড়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক কর্মশালা নূন্যতম কিউ-৩ জার্নালে গবেষণা পত্র প্রকাশ না পেলে পাবে না ফান্ড, আসতে পারে ইউজিসির নতুন নীতিমালা ভবনের পরিবর্তে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করুন: দুর্গাপুরের শিক্ষকদের প্রতি ডেপুটি স্পিকার রূপগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীসহ ৩জন গ্রেফতার মধুপুরে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সরাইলে পুলিশের অভিযানে দস্যুতা মামলার প্রধান আসামি গাফ্ফার গ্রেপ্তার বিমানবন্দরে সংবর্ধনায় কাঁদলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা হেলাল চৌধুরী রামগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে বেদম প্রহার করে টাকা লুট রূপগঞ্জে লোকালয়ের ময়লা আবর্জনার স্তুপ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন \ অবরোধ ও বিক্ষোভ টাঙ্গাইলে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের আংশিক কমিটি অনুমোদন, মধুপুরে সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন সবুজে সাজবে কলমাকান্দা, টেকসই পরিবেশ গড়তে পুবালী ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কৃষকদের তথ্য প্রদান ও সেবা নিশ্চিতে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না- ডেপুটি স্পিকার

বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় গাজীপুর নগরী, মিলেনি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 09:09:30 pm, Tuesday, 14 July 2026
  • 37 বার পড়া হয়েছে

উৎপল রক্ষিত,

অপরিকল্পিত নগরায়ন, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর অবকাঠামোর অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী ও জয়দেবপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন নগরবাসী। প্রতিদিনের চলাচল থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান ও কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি নির্বাচনের আগে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আর দেখা যায় না।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, দোকানপাট ও বসতবাড়িতে পানি জমে যায়। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক এলাকায় দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার শিকার হয় টঙ্গীর আউচপাড়া, কলেজগেট, খাঁপাড়া রোড, সফিউদ্দিন রোড, সুর তরঙ্গ রোড, মোক্তারপাড়া, বেক্সিমকো রোড এবং ৪৮, ৫১, ৫৩, ৫৪, ৫৫ ও ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড। এছাড়া ভারী বৃষ্টিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাছা অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতেই ডুবে যায় জয়দেবপুর বাজার, মুন্সিপাড়া রোড, পশ্চিম জয়দেবপুর, লক্ষীপুরাসহ আশপাশের এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে চান্দনা চৌরাস্তার ভোগরা এলাকাতেও জলাবদ্ধতা স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় সড়ক নির্মাণ হলেও প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। কোথাও ড্রেনের ধারণক্ষমতা কম, কোথাও আবার ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া খাল ও জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ এবং নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করাও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।

টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মী এস এম কামাল হোসেন বলেন, মহানগরীর মধ্যে কলেজগেট, আউচপাড়া, সুর তরঙ্গ রোডসহ আশপাশের এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পৌরসভা আমলে নির্মিত সরু ড্রেন দিয়েই এখনও পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনসংখ্যা ও স্থাপনা বাড়লেও ড্রেনের সক্ষমতা বাড়েনি। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ও তদারকির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক কাউন্সিলর শেখ আলেক বলেন, “আগের তুলনায় জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেন না থাকায় টঙ্গীর অধিকাংশ এলাকাই বৃষ্টির সময় পানিতে ডুবে যায়। দেওড়া, আউচপাড়া, সফিউদ্দিন রোড ও আদর্শপাড়া হয়ে তুরাগ নদীতে সংযোগকারী কয়েকটি বড় ড্রেন নির্মাণ করা গেলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব।

এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী জোনের (অঞ্চল-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পুরোনো ড্রেন দিয়ে বর্তমানের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। নতুন ড্রেন নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। বিআরটি করিডোরের পাশ দিয়ে বাঁশপট্টি হয়ে একটি বড় ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

টঙ্গী জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, বেক্সিমকো এলাকা থেকে মোক্তারপাড়া, কলেজ রোড ও সফিউদ্দিন রোড হয়ে নদী পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ৩৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কাজ আগামী মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে টঙ্গী এলাকার জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করছি।

এদিকে বৃহত্তর জয়দেবপুর বাজার ব্যবসায়ীক কমিটির সভাপতি রায়হান আল মাহমুদ রানা বলেন, গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী জয়দেবপুর বাজারের জলাবদ্ধতা ও নানা সমস্যা নিয়ে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন নিবেদন করতে করতে আমরা ক্লান্ত। এখন তাদের কাছ থেকে আমরা আর কিছু আশা করছি না।

তিনি বলেন, জয়দেবপুর পৌরসভা থাকাকালীন সময়ে প্রায় ৩৭ বছর আগে যে সব ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল, সেইগুলিই এখনও বিদ্যমান আছে। এগুলি অনেক জায়গায় সরু হয়ে গিয়েছে, ভেঙ্গে গিয়েছে, ভরা হয়ে গিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি দোকানপাটে ঢুকে যায়। সিটি করপোরেশন গঠন হবার পর আর কোন কাজ করা হয়নি। অথচ ঐ সময়ের চেয়ে বর্তমানে চাহিদা বেড়েছে প্রায় ২০ গুন কিন্ত কাজ হয়নি এক গুনও । তিনি বলেন, এ বাজার থেকে আমরা প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার রাজস্ব দেই কর্তৃপক্ষকে অথচ অবকাঠামো উন্নয়নে এখানে কোন কাজ করা হয় না। তিনি অবিলম্বে ড্রেন নির্মাণসহ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহন ও তা বাস্তবায়নের জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক জানান, সিটি এলাকায় প্রায় ১ হাজার ১২০ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান ড্রেন পরিষ্কার, প্রশস্তকরণ এবং নতুন ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। গাছা এলাকায় বড় ড্রেন নির্মাণের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়াতে চিলাই নদীর পুনঃখনন এবং মোগড়খাল পুনঃখননের কাজও চলমান রয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ নয়; খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ, পরিকল্পিত নগরায়ন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন ছাড়া গাজীপুরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আর দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে প্রতি বর্ষায় নগরবাসীকে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুর রাজৈরে ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার গ্রেফতার ১

বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় গাজীপুর নগরী, মিলেনি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান

আপডেট সময় : 09:09:30 pm, Tuesday, 14 July 2026

উৎপল রক্ষিত,

অপরিকল্পিত নগরায়ন, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর অবকাঠামোর অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী ও জয়দেবপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন নগরবাসী। প্রতিদিনের চলাচল থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান ও কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি নির্বাচনের আগে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আর দেখা যায় না।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, দোকানপাট ও বসতবাড়িতে পানি জমে যায়। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক এলাকায় দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার শিকার হয় টঙ্গীর আউচপাড়া, কলেজগেট, খাঁপাড়া রোড, সফিউদ্দিন রোড, সুর তরঙ্গ রোড, মোক্তারপাড়া, বেক্সিমকো রোড এবং ৪৮, ৫১, ৫৩, ৫৪, ৫৫ ও ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড। এছাড়া ভারী বৃষ্টিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাছা অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতেই ডুবে যায় জয়দেবপুর বাজার, মুন্সিপাড়া রোড, পশ্চিম জয়দেবপুর, লক্ষীপুরাসহ আশপাশের এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে চান্দনা চৌরাস্তার ভোগরা এলাকাতেও জলাবদ্ধতা স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় সড়ক নির্মাণ হলেও প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। কোথাও ড্রেনের ধারণক্ষমতা কম, কোথাও আবার ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া খাল ও জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ এবং নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করাও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।

টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মী এস এম কামাল হোসেন বলেন, মহানগরীর মধ্যে কলেজগেট, আউচপাড়া, সুর তরঙ্গ রোডসহ আশপাশের এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পৌরসভা আমলে নির্মিত সরু ড্রেন দিয়েই এখনও পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনসংখ্যা ও স্থাপনা বাড়লেও ড্রেনের সক্ষমতা বাড়েনি। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ও তদারকির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক কাউন্সিলর শেখ আলেক বলেন, “আগের তুলনায় জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেন না থাকায় টঙ্গীর অধিকাংশ এলাকাই বৃষ্টির সময় পানিতে ডুবে যায়। দেওড়া, আউচপাড়া, সফিউদ্দিন রোড ও আদর্শপাড়া হয়ে তুরাগ নদীতে সংযোগকারী কয়েকটি বড় ড্রেন নির্মাণ করা গেলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব।

এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী জোনের (অঞ্চল-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পুরোনো ড্রেন দিয়ে বর্তমানের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। নতুন ড্রেন নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। বিআরটি করিডোরের পাশ দিয়ে বাঁশপট্টি হয়ে একটি বড় ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

টঙ্গী জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, বেক্সিমকো এলাকা থেকে মোক্তারপাড়া, কলেজ রোড ও সফিউদ্দিন রোড হয়ে নদী পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ৩৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কাজ আগামী মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে টঙ্গী এলাকার জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করছি।

এদিকে বৃহত্তর জয়দেবপুর বাজার ব্যবসায়ীক কমিটির সভাপতি রায়হান আল মাহমুদ রানা বলেন, গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী জয়দেবপুর বাজারের জলাবদ্ধতা ও নানা সমস্যা নিয়ে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন নিবেদন করতে করতে আমরা ক্লান্ত। এখন তাদের কাছ থেকে আমরা আর কিছু আশা করছি না।

তিনি বলেন, জয়দেবপুর পৌরসভা থাকাকালীন সময়ে প্রায় ৩৭ বছর আগে যে সব ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল, সেইগুলিই এখনও বিদ্যমান আছে। এগুলি অনেক জায়গায় সরু হয়ে গিয়েছে, ভেঙ্গে গিয়েছে, ভরা হয়ে গিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি দোকানপাটে ঢুকে যায়। সিটি করপোরেশন গঠন হবার পর আর কোন কাজ করা হয়নি। অথচ ঐ সময়ের চেয়ে বর্তমানে চাহিদা বেড়েছে প্রায় ২০ গুন কিন্ত কাজ হয়নি এক গুনও । তিনি বলেন, এ বাজার থেকে আমরা প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার রাজস্ব দেই কর্তৃপক্ষকে অথচ অবকাঠামো উন্নয়নে এখানে কোন কাজ করা হয় না। তিনি অবিলম্বে ড্রেন নির্মাণসহ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহন ও তা বাস্তবায়নের জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক জানান, সিটি এলাকায় প্রায় ১ হাজার ১২০ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান ড্রেন পরিষ্কার, প্রশস্তকরণ এবং নতুন ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। গাছা এলাকায় বড় ড্রেন নির্মাণের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়াতে চিলাই নদীর পুনঃখনন এবং মোগড়খাল পুনঃখননের কাজও চলমান রয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ নয়; খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ, পরিকল্পিত নগরায়ন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন ছাড়া গাজীপুরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আর দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে প্রতি বর্ষায় নগরবাসীকে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।