Dhaka , Sunday, 18 October 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
আলোচনার মাঝেই পরীমনির নতুন ভিডিও ভাইরাল ফিফা সভাপতিকে ঢাকায় পেয়ে যা জানাল বাফুফে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবিতে তিউনিসিয়ায় হাজারো মানুষের বিক্ষোভ তেলের দাম কবে কমবে, জানালেন রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না এনসিপি: আখতার হোসেন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৫ নম্বর দারিয়াপুর ইউনিয়নে এস এম সোহাগ মাহমুদের শুভেচ্ছা বার্তা থানা ভিত্তিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পল্লী চিকিৎসকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: তানসিভ জুবায়ের জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতে ৭১ পুরানা পল্টন, ঢাকায় উদ্বোধন হলো ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’: দালালমুক্ত স্বচ্ছ ভূমিসেবায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত রূপগঞ্জে দিনে-দুপুরে ফ্রান্সপ্রবাসীর ২৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনতাই রূপগঞ্জে জালিয়াতির ও ভূয়া দলিলে জমি দখলের প্রতিবাদে মানবববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান গ্যাস-বিদ্যুতের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগণকে দুর্ভোগে রাখা হয়েছে: মাহবুবুর রহমান গুজবে নয় সচেতন থাকুন সন্দেহজনক কিছু দেখলে জানান বিজিবি মধুপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় এসআরবি-১৪-এর প্রেস ব্রিফিং খাগড়াছড়িতে ২০০ কোটি টাকার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা এমপি ওয়াদুদ ভূইয়ার সারাদেশে বাড়ছে তামাকের ব্যবহার: তবুও নেই উৎপাদন ও আমদানি বন্ধের দাবী নেএকোণা সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি বরিশালে ডাকাতির চেষ্টায় ধারালো অস্ত্রসহ আটক ১: গত একমাসে ৪৭১টি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত গাইবান্ধা ‎সাঘাটায় জ্বালানি তেল পাচারে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে জখম, গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন কাউখালীতে সড়ক দূর্ঘটনায় ৪জন আহত দুর্গাপূজার ছুটির আগেই পর্যটক মুখর কক্সবাজার, পাঁচ দিনে ৬ লাখ পর্যটকের প্রত্যাশা খাগড়াছড়িতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি দুর্গম কাটারুংছড়ায় বৌদ্ধ বিহারের উন্নয়নে দীঘিনালা জোনের সহায়তা রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পল্লী চিকিৎসকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: তানসিভ জুবায়ের পাঁচবিবিতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ১,৮০০ পরিবারের মাঝে পূজাসামগ্রী বিতরণ লালমনিরহাটে তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দিনব্যাপী কর্মশালা: জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অ্যাডভোকেসির ওপর জোর মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম ফতুল্লায় শ্রমিক দলের প্রতিবাদ মিছিল দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর

জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতে ৭১ পুরানা পল্টন, ঢাকায় উদ্বোধন হলো ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’: দালালমুক্ত স্বচ্ছ ভূমিসেবায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:35:25 pm, Sunday, 18 October 2026
  • 5 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,

বাংলাদেশে ভূমি সংক্রান্ত সেবাকে আধুনিক, সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত এবং জনবান্ধব করে তুলতে আজ রাজধানীর ৭১ পুরানাপল্টনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ভূমি ভবনে অবস্থিত প্রথম নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্রের অভাবনীয় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই দ্বিতীয় কেন্দ্রটি চালুর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে দ্রুত ভূমিসেবা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেন, ভূমির অধিকার রক্ষা ও সেবা প্রাপ্তি প্রত্যেকটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আমাদের দেশে ভূমিসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জটিলতা ও নানা অভিযোগ যুগ যুগ ধরে ছিল। সাধারণ মানুষকে এক টুকরো জমির জন্য বছরের পর বছর ভূমি অফিসের বারান্দায় ঘুরে বেড়াতে হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার গণমানুষের কষ্ট দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই—একটি আধুনিক ও জনবান্ধব ভূমিসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ জনগণ সম্মান ও স্বস্তির সাথে তাদের অধিকার ও সেবা বুঝে পাবেন। ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ এই যাত্রায় এক যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক ও জনবান্ধব সেবা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এবং সুবিধাজনক স্থানে কোনো ধরনের দুর্ভোগ বা বিলম্ব ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভূমিসেবাকে সহজলভ্য করার প্রত্যয় নিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’। অতীতে ভূমিসেবাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে নানাবিধ ভোগান্তি ও জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হতো। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আমরা সেই পুরনো ধারার আমূল পরিবর্তন এনেছি। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে ভূমিসেবাকে কীভাবে আরও জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করা যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা একের পর এক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছি।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ কেবল একটি সেবা কেন্দ্র নয়; এটি জনগণের প্রতি আমাদের জবাবদিহিতা ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতার প্রতীক। এখানে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাগরিকগণ বিনামূল্যে অতি সহজে, অল্প সময়ে এবং নির্ভুলভাবে ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যত সহজ হবে, জনগণের আস্থা তত বৃদ্ধি পাবে। ভূমিসেবায় অনিয়ম ও হয়রানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে এই কেন্দ্রটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। আমরা প্রতিনিয়ত এই সেবাগুলোর পরিধি ও মান বৃদ্ধি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় একটি কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, বাংলাদেশের প্রকৃত জনগণই এই দেশের মূল মালিক। আর আমরা যারা জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বে আছি, আমরা আপনাদের শাসক নই, বরং আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে এসেছি। জনগণের সেবায় নিজেদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেওয়ার এই রাজনৈতিক দর্শন ও দীক্ষাই বর্তমান সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের মূল চালিকাশক্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করে জানান, এই বিশেষ সেবা কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সাধারণ মানুষকে সব ধরনের ভোগান্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবা প্রদান করা। এখানে আগত প্রতিটি সেবাগ্রহীতা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে সঠিক আইনি ও প্রশাসনিক পরামর্শ পাবেন। পাশাপাশি খতিয়ান সংগ্রহ, নামজারি (মিউটেশন) এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও সেবা একই ছাদের নিচে নিশ্চিত করা হবে।

সেবা প্রদান কার্যক্রমে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার কোনো সুযোগ এখানে দেওয়া হবে না। এই সেবা কেন্দ্রে কোনো প্রকার দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী বা অননুমোদিত ব্যক্তির উপস্থিতি কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভূমির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমিসেবা খাতকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব করে তুলতে হবে। সেবামূলক এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের শৈথিল্য সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার কড়া নির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী ভূমিসেবায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের দিন। আধুনিক ও জনবান্ধব ভূমিসেবা নিশ্চিতকরণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আমরা ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’চালু করতে যাচ্ছি। বাংলাদেশের ভূমিসেবা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী আরও বলেন, “নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্রসমূহের মাধ্যমে আমরা সাধারণ জনগণের হাতের নাগালে ভূমি সংক্রান্ত নানাবিধ সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। প্রথম কেন্দ্রটির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ চালু করছি, যা ভূমিসেবা গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজ করবে। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—কোনো নাগরিক যেন ভূমিসেবা নিতে এসে কোনো প্রকার হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের শিকার না হন। এই কেন্দ্র থেকে ই-নামজারি ও খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির আবেদন দাখিল, অনলাইনে ভূমিসেবা ফি ও ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানসহ বিভিন্ন পরামর্শ ও সেবা অত্যন্ত সহজে বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। আমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান নিশ্চিত করার আহবান জানাই।”

উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্যদের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। নতুন চালু হওয়া এই কেন্দ্রে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সেবা গ্রহণকারীরা অতি দ্রুত ও স্বচ্ছ উপায়ে ভূমিসেবা সহায়তা এবং ভূমি সংক্রান্ত জটিল সমস্যার সুপরামর্শ ও সমাধান পাবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আলোচনার মাঝেই পরীমনির নতুন ভিডিও ভাইরাল

জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতে ৭১ পুরানা পল্টন, ঢাকায় উদ্বোধন হলো ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’: দালালমুক্ত স্বচ্ছ ভূমিসেবায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

আপডেট সময় : 07:35:25 pm, Sunday, 18 October 2026

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,

বাংলাদেশে ভূমি সংক্রান্ত সেবাকে আধুনিক, সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত এবং জনবান্ধব করে তুলতে আজ রাজধানীর ৭১ পুরানাপল্টনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ভূমি ভবনে অবস্থিত প্রথম নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্রের অভাবনীয় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই দ্বিতীয় কেন্দ্রটি চালুর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে দ্রুত ভূমিসেবা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেন, ভূমির অধিকার রক্ষা ও সেবা প্রাপ্তি প্রত্যেকটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আমাদের দেশে ভূমিসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জটিলতা ও নানা অভিযোগ যুগ যুগ ধরে ছিল। সাধারণ মানুষকে এক টুকরো জমির জন্য বছরের পর বছর ভূমি অফিসের বারান্দায় ঘুরে বেড়াতে হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার গণমানুষের কষ্ট দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই—একটি আধুনিক ও জনবান্ধব ভূমিসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ জনগণ সম্মান ও স্বস্তির সাথে তাদের অধিকার ও সেবা বুঝে পাবেন। ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ এই যাত্রায় এক যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক ও জনবান্ধব সেবা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এবং সুবিধাজনক স্থানে কোনো ধরনের দুর্ভোগ বা বিলম্ব ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভূমিসেবাকে সহজলভ্য করার প্রত্যয় নিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’। অতীতে ভূমিসেবাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে নানাবিধ ভোগান্তি ও জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হতো। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আমরা সেই পুরনো ধারার আমূল পরিবর্তন এনেছি। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে ভূমিসেবাকে কীভাবে আরও জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করা যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা একের পর এক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছি।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ কেবল একটি সেবা কেন্দ্র নয়; এটি জনগণের প্রতি আমাদের জবাবদিহিতা ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতার প্রতীক। এখানে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাগরিকগণ বিনামূল্যে অতি সহজে, অল্প সময়ে এবং নির্ভুলভাবে ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যত সহজ হবে, জনগণের আস্থা তত বৃদ্ধি পাবে। ভূমিসেবায় অনিয়ম ও হয়রানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে এই কেন্দ্রটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। আমরা প্রতিনিয়ত এই সেবাগুলোর পরিধি ও মান বৃদ্ধি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় একটি কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, বাংলাদেশের প্রকৃত জনগণই এই দেশের মূল মালিক। আর আমরা যারা জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বে আছি, আমরা আপনাদের শাসক নই, বরং আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে এসেছি। জনগণের সেবায় নিজেদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেওয়ার এই রাজনৈতিক দর্শন ও দীক্ষাই বর্তমান সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের মূল চালিকাশক্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করে জানান, এই বিশেষ সেবা কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সাধারণ মানুষকে সব ধরনের ভোগান্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবা প্রদান করা। এখানে আগত প্রতিটি সেবাগ্রহীতা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে সঠিক আইনি ও প্রশাসনিক পরামর্শ পাবেন। পাশাপাশি খতিয়ান সংগ্রহ, নামজারি (মিউটেশন) এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও সেবা একই ছাদের নিচে নিশ্চিত করা হবে।

সেবা প্রদান কার্যক্রমে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার কোনো সুযোগ এখানে দেওয়া হবে না। এই সেবা কেন্দ্রে কোনো প্রকার দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী বা অননুমোদিত ব্যক্তির উপস্থিতি কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভূমির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমিসেবা খাতকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব করে তুলতে হবে। সেবামূলক এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের শৈথিল্য সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার কড়া নির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী ভূমিসেবায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের দিন। আধুনিক ও জনবান্ধব ভূমিসেবা নিশ্চিতকরণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আমরা ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’চালু করতে যাচ্ছি। বাংলাদেশের ভূমিসেবা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী আরও বলেন, “নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্রসমূহের মাধ্যমে আমরা সাধারণ জনগণের হাতের নাগালে ভূমি সংক্রান্ত নানাবিধ সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। প্রথম কেন্দ্রটির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ চালু করছি, যা ভূমিসেবা গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজ করবে। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—কোনো নাগরিক যেন ভূমিসেবা নিতে এসে কোনো প্রকার হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের শিকার না হন। এই কেন্দ্র থেকে ই-নামজারি ও খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির আবেদন দাখিল, অনলাইনে ভূমিসেবা ফি ও ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানসহ বিভিন্ন পরামর্শ ও সেবা অত্যন্ত সহজে বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। আমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান নিশ্চিত করার আহবান জানাই।”

উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্যদের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। নতুন চালু হওয়া এই কেন্দ্রে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সেবা গ্রহণকারীরা অতি দ্রুত ও স্বচ্ছ উপায়ে ভূমিসেবা সহায়তা এবং ভূমি সংক্রান্ত জটিল সমস্যার সুপরামর্শ ও সমাধান পাবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।