
মো মোসাদ্দেক হোসেন, ইবি প্রতিনিধি,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলো থেকে অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি পেশ করেন।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শাখা সভাপতি ইউসুব আলী। এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ এমাদুর রহমান, স্কুল অ্যান্ড কলেজ সম্পাদক জায়েদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক সোয়াইব আহম্মেদ, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফরহাদ রেজা ওসামা, প্রকাশনা ও সাহিত্য সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ নাকিব-সহ পাঁচটি আবাসিক হলের সভাপতি ও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা আট দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সব আবাসিক হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দ্রুত অপসারণ, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের বদলে মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও নীতিমালার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিটি হলের সিট বণ্টনের তালিকা প্রকাশ। এছাড়া হলের ডাইনিংয়ে সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ ও শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার সঠিক তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।
সিট বরাদ্দের বিষয়ে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল কোনো রাজনৈতিক দলের অবৈধ প্রভাব বিস্তার কিংবা দলীয় লোকজনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে আশ্রয় দেওয়ার জায়গা হতে পারে না। হলের সিট একজন শিক্ষার্থীর অধিকার এবং তা মেধা, বৈধতা, জ্যেষ্ঠতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালার ভিত্তিতে বণ্টন করা উচিত।”
প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “একজন বৈধ শিক্ষার্থী আবাসিক সিটের জন্য অপেক্ষা করবে, অথচ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ অবৈধভাবে হলে অবস্থান করবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সংঘাত চাই না, আমরা ন্যায়সংগত সমাধান চাই। প্রশাসন যদি যথাযথ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে, আমরা তা স্বাগত জানাব। কিন্তু কোনো ধরনের অনিয়ম, বৈষম্য কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করা হলে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”


























