
কাজল খান ,
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের উপর হামলাকারী মনিরুল হাওলাদারের মাদারীপুরের ধুরাইলের গ্রামের বাড়ী থেকে পালিয়েছে তার পরিবার। ঘটনা জানাজানি হলে হামলার ভয়ে তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে এলাকাবাসীর ধারণা। তবে বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনার ঘটনানো জন্যে মনিরুলের শাস্তি হওয়ার দাবীও এলাকাবাসীর। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
এলাকাবাসির সাথে কখা বলে জানা যায়, দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমায় মনিরুল হাওলাদার। তিনি সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের কনিষ্ঠ পুত্র। এলাকায় থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলেন। সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বর্তমানে গ্রামের বাড়ীতে তার মা আলেয়া বেগম, তার বড় ভাই নিয়ে বসবাস করেন। এছাড়া তার তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছেন।
দোচালা জরার্জীণ বাড়ীতে মা ও ভাইয়ের সংসার। এখনো ঋণের টাকা শোধ করতে পারেনি মনিরুল। ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের উপর হামলার ঘটনা জানাজানি হলে বৃদ্ধা মা ও তার বড় ভাইয়ের পরিবারের সবাই বাড়ী থেকে পালিয়েছে। এঘটনা এলাকাবাসী মনিরুলের বিতর্কিত ঘটনার বিচার দাবী করেন। সেই সাথে আগামীতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্যে মনিরুলের ক্ষমা চাওয়ার দাবীও করেন। অন্যদিকে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে পুলিশ সর্তক অবস্থানে রয়েছে।
তার সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, ‘এখনো বাড়ী-ঘর করতে পারে নাই। ঋণের বোঝা মাথার উপরে। টাকা পয়সা কামানো বাদ দিয়ে দল করা শুরু করেছে। আমি সৎভাই, এক পয়সাও আমাকে দেয় না। বিদেশে বসে এদেশের মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়ে। ওর বিচার করুক, আমরা ওর সাথে নাই। এমন লোক থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। আমি ওদের সাথে নেই। ওর মা বোন ভাই সবাই পালাইছে।’
এব্যাপারে সদর থানার ওসি আবুল কামাল আজাদ বলেন, ঘটনাটি জানার পরেই মনিরুলের বাড়ীতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যেন বাড়ী-ঘরে হামলা করতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ সর্তক রয়েছে। ওখানের ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে, তিনি সব ধরণের সহযোগিতাও করছে।’

























