Dhaka , Tuesday, 4 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
কালীগঞ্জ-ঢাকা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন রূপগঞ্জে সাবেক মন্ত্রী গাজীর দখল থেকে মাদ্রাসার জমি দখলমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর তৈমূরের স্বারকলিপি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত শিক্ষা কর্মকর্তার হলো উচিৎ শিক্ষা। নোয়াখালীতে ডাকাতির ৩ দিন পর ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার চবিতে দুই দিনব্যাপী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন অহেতুক প্রকল্প নয়, পাহাড়িদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর দুর্গাপুরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের উদ্যোগে জুলাই শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পাইকগাছায় প্রশাসনের সঙ্গে এমপি ফাহমিদা হকের মতবিনিময় পাইকগাছা-কয়রাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবো-এমপি ফাহমিদা হক মতলব উত্তরে থামছেই না চুরি, এক রাতে উধাও আরও ৪ ট্রান্সফরমার বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল আশা সিমেন্ট গাজীপুরে রোটারি ক্লাব অব ভাওয়ালের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নোয়াখালীতে পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে অটোচালকের মৃত্যু নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পুকুর থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার  ইবিতে শহীদ আনাসের লেখা চিঠির স্মৃতিফলক উন্মোচন এমপি লুৎফুর রহমান কাজলের সঙ্গে রামু ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ কাউখালীতে গাঁজা-ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, কাউখালীতে ৩০ কেজি নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ জব্দ, এতিমখানায় বিতরণ বস্তুনিষ্ঠতাই সঠিক সাংবাদিকতার মানদণ্ড: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী হলেই জুলাই শহীদদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রে বড় আঘাত; আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগীসহ গ্রেফতার ০২, উদ্ধার বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি গ্যাসের স্বল্পচাপে উৎপাদন ব্যাহত, রান্নার চুলা নিভু নিভু টক্সিকে যশ–কিয়ারার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সমালোচনা, কড়া জবাব হুমা কুরেশির ভারতীয় দলে ডাক পাওয়া কে এই আকিব নবি জ্বালানির দাম বাড়তেই যুক্তরাজ্যে চুরির হিড়িক, প্রতিদিন উধাও ৩ কোটি টাকার তেল জনতাসহ সরকারি সব ব্যাংকে নিয়মিত পদোন্নতির দাবি বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল দুবাইয়ে বেনজীরের জামিন নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি; চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র

শিক্ষা কর্মকর্তার হলো উচিৎ শিক্ষা।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:56:47 pm, Tuesday, 4 August 2026
  • 4 বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

স্বামীকে তালাক দিয়ে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করে উচিৎ শিক্ষা পেয়েছেন পাবনা সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা শবনম।
স্বামীর সংসারে থেকে পরকীয়া প্রেম করেছেন সাত বছর। নিয়মিত করেছেন দৈহিক মেলামেশা। অবশেষে স্বামীকে তালাক দিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন পরকীয়া প্রেমিকের সাথে। কিন্তু সে বিয়ে স্থায়ী হয়নি। বিয়ের এক মাস পেরুতে না পেরোতেই তালাক দিয়েছেন পরকীয়া প্রেমিক থেকে স্বামী বনে যাওয়া নাসির উদ্দিন।
নাসির উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো: আফজাল হোসেনের পিএস, ২০২০ সালে ছিলেন পাকশির বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা। তার সাথে কোনো এক মাধ্যমে পরিচয় হয় পাবনা সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা শবনমের। শবনম তখন পাবনা সদর উপজেলার লাইব্রেরি বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো: তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘরে দশ বছরের কন্যা সুইটি ( প্রতিকী নাম)। বেশ সুখের সংসার ছিলো তৌহিদুল – শবনমের। কিন্তু সেই সীমিত সুখ তৃপ্তি দিতে পারেনি শবনমকে। অতৃপ্ত বাসনা চরিতার্থ করতে সে অবৈধ সম্পর্কে জড়ায় তৎকালীন বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দিনের সাথে। শুরু হয় তাদের অবৈধ মেলামেশা। বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, বিভিন্ন রিসোর্ট, আত্মীয় স্বজনের বাসা, বিনোদন কেন্দ্র, এমনকি চলন্ত ট্রেনের কেবিনেও চলতো তাদের অবৈধ মেলামেশা। শুধু তাই নয়, তৌহিদুলের অনুপস্থিতিতে তার শোবার ঘরেই শবনমের সাথে রাত্রি যাপন করতে থাকে নাসির। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই তাদের পরকীয়া প্রেমের কথা জানাজানি হয়ে যায়। তাছাড়া শবনম – তৌহিদুলের কন্যা সুইটি মায়ের এই অনৈতিক কর্মকান্ডে ত্যক্ত বিরক্ত হতে থাকে। মায়ের সাথে এ নিয়ে তার বাক বিতন্ডাও হয় বেশ কয়েকবার। এক পর্যায়ে মায়ের পরকীয়া প্রেমের কথা সে তার বাবা তৌহিদুলকে জানায়। তৌহিদুল নিজে থেকেও ততদিনে স্ত্রীর পরকীয়ার কথা জেনে গেছে। কিন্তু সন্তান আর সংসারের কথা ভেবে কি করবেন ঠিক করতে পারছিলেন না। পরে সেই সন্তানই যখন তার কাছে মায়ের পরকীয়ার কথা জানায়, তখন তৌহিদুল তার করনীয় ঠিক করে ফেলে।
সে অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্ত্রীকে সাবধান করে দেয়। এমনকি নাসিরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে না পারলে সে শবনমকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেয়। শুরু হয় তাদের পারিবারিক কলহ। এরপর নাসিরকে নিয়ে তাদের সংসারে ঝগড়া মারামারি হতে থাকে নিয়মিত। ঝগড়াঝাটির কারনে তাদের একমাত্র সন্তান সুইটির জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। কিন্তু শবনম কিছুতেই নাসিরকে ছাড়তে পারেনি অথবা চায়নি।
এক পর্যায়ে তৌহিদুল চরম সিদ্ধান্তে উপনীত হয় এবং সে তার স্ত্রী শবনমকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে এবং সে চলে যাওয়ার পর তালাকনামা পাঠিয়ে দিবে বলে জানায়।
তৌহিদুলের তালাকের সিদ্ধান্তে বিচলিত হয়ে পড়ে শবনম। সে তখন নাসিরকে চাপ দেয় তাকে বিয়ে করার জন্য। উল্লেখ্য যে এতোকিছুর মাঝেও নাসিরের সাথে তার দৈহিক মেলামেশা চলতো নিয়মিত।
বিয়ের প্রস্তাবে নাসির আপত্তি জানায়নি। সে শবনমকে বলে তৌহিদুলকে তালাক দিয়ে তার কাছে চলে আসতে। শবনম নাসিরের কথামতো গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ তৌহিদুলকে তালাক দেয় এবং নাসিরকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। শবনমের চাপে নাসির গত ১ জুন ২০২৬ তারিখ পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে শবনমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের সম্পর্ক স্থাপন, মেলামেশা এবং বিয়ে সবকিছুতে অনুঘটকের কাজ করে শবনমের আরেক সহকর্মী নূর মোহাম্মদ। নূর মোহাম্মদ কর্মরত আছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে।

বিয়ের এক মাস পূর্ণ হতেই নাসির গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখ শবনমকে তালাক দেয়। একই সাথে সে শবনমের সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে শবনম পড়ে উভয় সংকটে। একদিকে নাসিরকে ভালোবেসে সে তৌহিদুলের সংসার ভেঙ্গেছে। অন্যদিকে কিছু না জানিয়ে নাসির তার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে এবং তাকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছে। এখন শবনম না পারছে তৌহিদুলের সংসারে ফিরে যেতে, না পারছে তার পরকীয়া প্রেমিক থেকে স্বামী বনে যাওয়া নাসিরের সাথে সংসার সাজাতে। নাসিরের কাছ থেকে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে এখন সে পথে পথে ঘুরছে।
সম্প্রতি সে নাসিরের স্ত্রী হিসেবে তার প্রাপ্য অধিকার পেতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছে। আবেদনে সে স্ত্রীর অধিকার না দিলে নাসিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছে। এদিকে তৎকালীন পাকশির বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দিন এখন রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেনের পিএস। নাসিরের স্ত্রীর মর্যাদা পেতে মরিয়া শবনম রেল ভবনে ডিজির কাছেও নালিশ করতে গিয়েছিল। ব্যস্ততার অযুহাতে ডিজি সেদিন সময় দেননি শবনমকে।
বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে একসাথে দুই পুরুষকে সঙ্গ দেওয়া, একসাথে দুই পুরুষকে তৃপ্তি দেওয়া শবনম এখন পুরুষের সঙ্গবিহীন, স্বামীহীন, সংসারহারা উদভ্রান্ত এক নারী। মেয়ে এখন সাবালক, নিজের শারিরীক চাহিদাও ফুরিয়ে যায়নি। একদিকে মেয়ের ভবিষ্যৎ, তাকে লেখাপড়া শেখানো, পাত্রস্থ করার চিন্তা, অন্যদিকে নিজের একটা সংসারের চিন্তা। সে না পারছে সন্তানের ঠিকঠাক দেখাশোনা করতে, না পারছে নিজে গুছিয়ে একটা সংসার করতে। তাছাড়া মেয়ে যে তার কর্মকান্ডে তাকে ঘৃণা করে এটাও তাকে মনোকষ্টে রেখেছে চরমভাবে।
নাসির রেলওয়ে ক্যাডারের ৩০ ব্যাচের কর্মকর্তা। তার প্রথম স্ত্রী তার বেপরোয়া জীবনযাপনে আপত্তি করলে তাকে সে তালাক দেয় বিনা উস্কানিতে। দ্বিতীয় স্ত্রী অত্যন্ত গরীব ঘরের মেয়ে। নিয়মিত ভাত-কাপড়ের সংস্থানই হয়না তার বাবার বাড়ীতে। তাই সে মুখ বুঁজে সব সহ্য করে নাসিরের সাথে সংসার করছে এক প্রকার বাধ্য হয়ে। তৃতীয় বিয়ে সাঈদা শবনমের সাথে সাত বছর পরকীয়া প্রেমের পর।
প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের নিকট শবনমের দরখাস্তের কাউন্টার হিসেবে নাসির প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি বরাবর প্রতারণার অভিযোগে সাঈদা শবনম ও নূর মোহাম্মদের বিরূদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানিয়েছেন। একইসাথে অফিসে এসে সিন ক্রিয়েট করা, মোবাইল ফোনে হুমকি ধমকি দেওয়া এবং মোটা অংকের টাকা দাবী করার অভিযোগে মামলা করার জন্য উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে নাসির। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে দুজনের কেউই মিডিয়ার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন।
দুজন সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক অধঃপতন ও চারিত্রিক স্খলন উৎসুক জনতার আলোচনার খোরাক হয়েছে বলে জানা যায়। এ নিয়ে রেল ভবন, পাবনা জেলা সদর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সবার মুখে মুখে আলোচনা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কালীগঞ্জ-ঢাকা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন

শিক্ষা কর্মকর্তার হলো উচিৎ শিক্ষা।

আপডেট সময় : 01:56:47 pm, Tuesday, 4 August 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক,

স্বামীকে তালাক দিয়ে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করে উচিৎ শিক্ষা পেয়েছেন পাবনা সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা শবনম।
স্বামীর সংসারে থেকে পরকীয়া প্রেম করেছেন সাত বছর। নিয়মিত করেছেন দৈহিক মেলামেশা। অবশেষে স্বামীকে তালাক দিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন পরকীয়া প্রেমিকের সাথে। কিন্তু সে বিয়ে স্থায়ী হয়নি। বিয়ের এক মাস পেরুতে না পেরোতেই তালাক দিয়েছেন পরকীয়া প্রেমিক থেকে স্বামী বনে যাওয়া নাসির উদ্দিন।
নাসির উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো: আফজাল হোসেনের পিএস, ২০২০ সালে ছিলেন পাকশির বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা। তার সাথে কোনো এক মাধ্যমে পরিচয় হয় পাবনা সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা শবনমের। শবনম তখন পাবনা সদর উপজেলার লাইব্রেরি বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো: তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘরে দশ বছরের কন্যা সুইটি ( প্রতিকী নাম)। বেশ সুখের সংসার ছিলো তৌহিদুল – শবনমের। কিন্তু সেই সীমিত সুখ তৃপ্তি দিতে পারেনি শবনমকে। অতৃপ্ত বাসনা চরিতার্থ করতে সে অবৈধ সম্পর্কে জড়ায় তৎকালীন বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দিনের সাথে। শুরু হয় তাদের অবৈধ মেলামেশা। বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, বিভিন্ন রিসোর্ট, আত্মীয় স্বজনের বাসা, বিনোদন কেন্দ্র, এমনকি চলন্ত ট্রেনের কেবিনেও চলতো তাদের অবৈধ মেলামেশা। শুধু তাই নয়, তৌহিদুলের অনুপস্থিতিতে তার শোবার ঘরেই শবনমের সাথে রাত্রি যাপন করতে থাকে নাসির। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই তাদের পরকীয়া প্রেমের কথা জানাজানি হয়ে যায়। তাছাড়া শবনম – তৌহিদুলের কন্যা সুইটি মায়ের এই অনৈতিক কর্মকান্ডে ত্যক্ত বিরক্ত হতে থাকে। মায়ের সাথে এ নিয়ে তার বাক বিতন্ডাও হয় বেশ কয়েকবার। এক পর্যায়ে মায়ের পরকীয়া প্রেমের কথা সে তার বাবা তৌহিদুলকে জানায়। তৌহিদুল নিজে থেকেও ততদিনে স্ত্রীর পরকীয়ার কথা জেনে গেছে। কিন্তু সন্তান আর সংসারের কথা ভেবে কি করবেন ঠিক করতে পারছিলেন না। পরে সেই সন্তানই যখন তার কাছে মায়ের পরকীয়ার কথা জানায়, তখন তৌহিদুল তার করনীয় ঠিক করে ফেলে।
সে অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্ত্রীকে সাবধান করে দেয়। এমনকি নাসিরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে না পারলে সে শবনমকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেয়। শুরু হয় তাদের পারিবারিক কলহ। এরপর নাসিরকে নিয়ে তাদের সংসারে ঝগড়া মারামারি হতে থাকে নিয়মিত। ঝগড়াঝাটির কারনে তাদের একমাত্র সন্তান সুইটির জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। কিন্তু শবনম কিছুতেই নাসিরকে ছাড়তে পারেনি অথবা চায়নি।
এক পর্যায়ে তৌহিদুল চরম সিদ্ধান্তে উপনীত হয় এবং সে তার স্ত্রী শবনমকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে এবং সে চলে যাওয়ার পর তালাকনামা পাঠিয়ে দিবে বলে জানায়।
তৌহিদুলের তালাকের সিদ্ধান্তে বিচলিত হয়ে পড়ে শবনম। সে তখন নাসিরকে চাপ দেয় তাকে বিয়ে করার জন্য। উল্লেখ্য যে এতোকিছুর মাঝেও নাসিরের সাথে তার দৈহিক মেলামেশা চলতো নিয়মিত।
বিয়ের প্রস্তাবে নাসির আপত্তি জানায়নি। সে শবনমকে বলে তৌহিদুলকে তালাক দিয়ে তার কাছে চলে আসতে। শবনম নাসিরের কথামতো গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ তৌহিদুলকে তালাক দেয় এবং নাসিরকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। শবনমের চাপে নাসির গত ১ জুন ২০২৬ তারিখ পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে শবনমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের সম্পর্ক স্থাপন, মেলামেশা এবং বিয়ে সবকিছুতে অনুঘটকের কাজ করে শবনমের আরেক সহকর্মী নূর মোহাম্মদ। নূর মোহাম্মদ কর্মরত আছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে।

বিয়ের এক মাস পূর্ণ হতেই নাসির গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখ শবনমকে তালাক দেয়। একই সাথে সে শবনমের সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে শবনম পড়ে উভয় সংকটে। একদিকে নাসিরকে ভালোবেসে সে তৌহিদুলের সংসার ভেঙ্গেছে। অন্যদিকে কিছু না জানিয়ে নাসির তার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে এবং তাকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছে। এখন শবনম না পারছে তৌহিদুলের সংসারে ফিরে যেতে, না পারছে তার পরকীয়া প্রেমিক থেকে স্বামী বনে যাওয়া নাসিরের সাথে সংসার সাজাতে। নাসিরের কাছ থেকে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে এখন সে পথে পথে ঘুরছে।
সম্প্রতি সে নাসিরের স্ত্রী হিসেবে তার প্রাপ্য অধিকার পেতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছে। আবেদনে সে স্ত্রীর অধিকার না দিলে নাসিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছে। এদিকে তৎকালীন পাকশির বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দিন এখন রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেনের পিএস। নাসিরের স্ত্রীর মর্যাদা পেতে মরিয়া শবনম রেল ভবনে ডিজির কাছেও নালিশ করতে গিয়েছিল। ব্যস্ততার অযুহাতে ডিজি সেদিন সময় দেননি শবনমকে।
বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে একসাথে দুই পুরুষকে সঙ্গ দেওয়া, একসাথে দুই পুরুষকে তৃপ্তি দেওয়া শবনম এখন পুরুষের সঙ্গবিহীন, স্বামীহীন, সংসারহারা উদভ্রান্ত এক নারী। মেয়ে এখন সাবালক, নিজের শারিরীক চাহিদাও ফুরিয়ে যায়নি। একদিকে মেয়ের ভবিষ্যৎ, তাকে লেখাপড়া শেখানো, পাত্রস্থ করার চিন্তা, অন্যদিকে নিজের একটা সংসারের চিন্তা। সে না পারছে সন্তানের ঠিকঠাক দেখাশোনা করতে, না পারছে নিজে গুছিয়ে একটা সংসার করতে। তাছাড়া মেয়ে যে তার কর্মকান্ডে তাকে ঘৃণা করে এটাও তাকে মনোকষ্টে রেখেছে চরমভাবে।
নাসির রেলওয়ে ক্যাডারের ৩০ ব্যাচের কর্মকর্তা। তার প্রথম স্ত্রী তার বেপরোয়া জীবনযাপনে আপত্তি করলে তাকে সে তালাক দেয় বিনা উস্কানিতে। দ্বিতীয় স্ত্রী অত্যন্ত গরীব ঘরের মেয়ে। নিয়মিত ভাত-কাপড়ের সংস্থানই হয়না তার বাবার বাড়ীতে। তাই সে মুখ বুঁজে সব সহ্য করে নাসিরের সাথে সংসার করছে এক প্রকার বাধ্য হয়ে। তৃতীয় বিয়ে সাঈদা শবনমের সাথে সাত বছর পরকীয়া প্রেমের পর।
প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের নিকট শবনমের দরখাস্তের কাউন্টার হিসেবে নাসির প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি বরাবর প্রতারণার অভিযোগে সাঈদা শবনম ও নূর মোহাম্মদের বিরূদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানিয়েছেন। একইসাথে অফিসে এসে সিন ক্রিয়েট করা, মোবাইল ফোনে হুমকি ধমকি দেওয়া এবং মোটা অংকের টাকা দাবী করার অভিযোগে মামলা করার জন্য উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে নাসির। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে দুজনের কেউই মিডিয়ার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন।
দুজন সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক অধঃপতন ও চারিত্রিক স্খলন উৎসুক জনতার আলোচনার খোরাক হয়েছে বলে জানা যায়। এ নিয়ে রেল ভবন, পাবনা জেলা সদর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সবার মুখে মুখে আলোচনা চলছে।