
রাশেদ আহমেদ, মৌলভীবাজার,
মৌলভীবাজার-৩ (রাজনগর–কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমানের বরাদ্দ থেকে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৮ নম্বর মনসুরনগর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত ও পানিবন্দী ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইউনিয়নের মালিকোনা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় প্রেমনগর, মালিকোনা আশ্রয়কেন্দ্র, শ্বাসমহল, বর্ষীকোনা এবং আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল ও প্রস্তুতকৃত ভুনা খিচুড়ি। বন্যার কারণে কয়েক দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে থাকা অসহায় পরিবারগুলোর খাদ্যসংকট নিরসনে এ সহায়তা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনসুরনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। পানিবন্দী পরিবারগুলো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইউপি সদস্য কাজী আপ্তাব রুহুল, ফজলুর রহমান, কার্তিক দেব, রুশনা আক্তার এবং সুফিয়া বেগম। তারা উপকারভোগীদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন এবং বন্যাকবলিত মানুষের খোঁজখবর নেন।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।
ত্রাণ পেয়ে উপকারভোগীরা সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বন্যার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া অনেক পরিবারের জন্য এ সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।
স্থানীয়দের মতে, বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আরও সময় লাগবে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও পুনর্বাসন সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

























