Dhaka , Thursday, 30 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন, পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনা লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের সফল অভিযান: সীমান্তে ১২ কেজি গাঁজা ও বিপুল সিরাপ জব্দ দিনাজপুরে র‍্যাবের বড় মাদক উদ্ধার: ঘর তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ মদ ও ফেন্সিডিল জব্দ, গ্রেপ্তার ১ নরসিংদী রাস্তায় পড়ে থাকা এসএসসি পরীক্ষার ২৬৮ টি উত্তর পএ উদ্ধার গাইয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ। পাইকগাছায় লাইসেন্সবিহীন করাতকল ও বেকারিকে জরিমানা শরীয়তপুরে জেলেদের বকনা বাছুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, মানহীন বিতরণে ক্ষুব্ধ জেলেরা মাদকে জিরো টলারেন্স ঘোষিত আড়াইহাজারে মাদক নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা পুলিশ ভবিষ্যতে মন্দিরের জন্য বরাদ্দ প্রদানে বিন্দুমাত্র অবহেলা করা হবে না,পুরোহিতদের সঙ্গে সাক্ষাতে ডেপুটি স্পিকার চট্টগ্রাম মা ও হাসপাতালে সন্তান সম্ভবা চিকিৎসকসহ কর্তব্যরত চিকিৎসকদের উপর রোগীর স্বজনদের হামলার ঘটনায় ড্যাব চট্টগ্রাম এর প্রতিবাদ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটি গঠন রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় আহত মৎস্য খামারির মৃত্যু ৩৪৪ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক: সারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যানের ৫ বছরের জেল রামুতে বন্যহাতির আক্রমনে মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু র‍্যাব ৭’র অভিযান এক লাখ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় কমিটি করবে সরকার:- প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রবাসীদের জন্য প্রথম অনলাইন গণশুনানি, সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশ দিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সদরপুরে হত্যা চেষ্টা মামলায় বিতর্ক, আসামি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র রূপগঞ্জে মাদকসেবীদের হামলায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যালয়ের চাল উড়ে গেল, পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক ইউপি সদস্যসহ ২ জন কারাগারে ভারতের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জনের সাথে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ পাইকগাছায় রাতে দোকান খোলা রাখায় জরিমানা পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত গাজীপুরে ৬৪ কেজি গাঁজা ও ১২ বোতল বিদেশি মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা: গৃহশিক্ষকের ফাঁসির আদেশ গণসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে শব্দদূষণ প্রতিরোধ সম্ভব : বিভাগীয় কমিশনার নরসিংদী বৃষ্টির মধ্যে হাঁটু পানির নিচে সড়ক ঢালাই, এলাকাবাসীর ক্ষোভ শিট না আনায় ক্লাস থেকে বের করে দেয় শিক্ষক, প্যানিক অ্যাটাকে মেডিকেলে এক শিক্ষার্থী নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে রামু থেকে ৩২ লাখ টাকা চুরি ও অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

শরীয়তপুরে জেলেদের বকনা বাছুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, মানহীন বিতরণে ক্ষুব্ধ জেলেরা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:15:55 pm, Thursday, 30 April 2026
  • 4 বার পড়া হয়েছে

মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের জাজিরায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণে গুরুতর অনিয়মের
অভিযোগ উঠেছে। বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির নামে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে প্রকৃত জেলেদের পাশাপাশি অজেলে ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং নিম্নমানের বাছুর সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ শে এপ্রিল) দুপুরে জাজিরা উপজেলা চত্বরে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণের সময় এঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ২০২৫ থেকে ২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার ৬০ জন নিবন্ধিত দরিদ্র জেলের মাঝে ৬০টি বকনা বাছুর বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে উপজেলা মৎস্য অফিস। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী প্রতিটি বাছুরের ওজন কমপক্ষে ৬০-৬৫ কেজি এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই শর্তের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাদের প্রকৃত জেলে হওয়ার কথা, তাদের পাশাপাশি এমন অনেক ব্যক্তি বাছুর নিতে উপস্থিত হয়েছেন, যারা কোনোভাবেই এই পেশার সঙ্গে জড়িত নন। কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চালক, কেউ দোকানদার এমনকি একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন যারা জেলে নন বলেও স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। এতে করে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ আরও গুরুতর হয়েছে বাছুরের মান নিয়ে। অনেক জেলে জানান, বিতরণ করা অধিকাংশ বাছুরই নির্ধারিত ওজনের তুলনায় অনেক কম। বেশিরভাগ বাছুরের উজন পঞ্চাশ কেজির কম। কিছু বাছুর এতটাই দুর্বল ও অসুস্থ যে সেগুলো পালন করতে গিয়ে বাড়তি খরচ ও ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। যেসব সহায়তা তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার কথা ছিল, তা এখন তাদের জন্য আর্থিক চাপের নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগী জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহায়তা তাদের জীবনের একটি বড় আশার জায়গা ছিল। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে তারা এই প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। কিন্তু নিম্নমানের বাছুর হাতে পেয়ে সেই আশাই এখন ভেঙে পড়েছে।

জেলে কুদ্দুস মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম ভালো মানের বাছুর পেয়ে সংসারের অবস্থার কিছুটা উন্নতি করতে পারবো। কিন্তু যেগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই ছোট, দুর্বল এবং কিছু অসুস্থ। এতে লাভের বদলে আমাদেরই খরচ বাড়বে। দ্রুত সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

অন্য জেলেরাও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, এভাবে আগেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেওবদৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা তাদের হতাশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রকৃত জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এমন অনিয়ম ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ফাতেমা তুজ জোহরাকে বলতে শোনা যায় নিলে নেন আর নয়তো রেখে যান। পরে তার বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্পের নির্ধারিত মান বজায় রেখে বাছুর বিতরণের নির্দেশনা ছিল। কোথাও যদি অনিয়ম হয়ে থাকে বা নিম্নমানের বাছুর দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপকারভোগীদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা সবসময়ই কাজ করছি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন, পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনা

শরীয়তপুরে জেলেদের বকনা বাছুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, মানহীন বিতরণে ক্ষুব্ধ জেলেরা

আপডেট সময় : 08:15:55 pm, Thursday, 30 April 2026

মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের জাজিরায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণে গুরুতর অনিয়মের
অভিযোগ উঠেছে। বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির নামে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে প্রকৃত জেলেদের পাশাপাশি অজেলে ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং নিম্নমানের বাছুর সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ শে এপ্রিল) দুপুরে জাজিরা উপজেলা চত্বরে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণের সময় এঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ২০২৫ থেকে ২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার ৬০ জন নিবন্ধিত দরিদ্র জেলের মাঝে ৬০টি বকনা বাছুর বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে উপজেলা মৎস্য অফিস। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী প্রতিটি বাছুরের ওজন কমপক্ষে ৬০-৬৫ কেজি এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই শর্তের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাদের প্রকৃত জেলে হওয়ার কথা, তাদের পাশাপাশি এমন অনেক ব্যক্তি বাছুর নিতে উপস্থিত হয়েছেন, যারা কোনোভাবেই এই পেশার সঙ্গে জড়িত নন। কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চালক, কেউ দোকানদার এমনকি একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন যারা জেলে নন বলেও স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। এতে করে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ আরও গুরুতর হয়েছে বাছুরের মান নিয়ে। অনেক জেলে জানান, বিতরণ করা অধিকাংশ বাছুরই নির্ধারিত ওজনের তুলনায় অনেক কম। বেশিরভাগ বাছুরের উজন পঞ্চাশ কেজির কম। কিছু বাছুর এতটাই দুর্বল ও অসুস্থ যে সেগুলো পালন করতে গিয়ে বাড়তি খরচ ও ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। যেসব সহায়তা তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার কথা ছিল, তা এখন তাদের জন্য আর্থিক চাপের নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগী জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহায়তা তাদের জীবনের একটি বড় আশার জায়গা ছিল। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে তারা এই প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। কিন্তু নিম্নমানের বাছুর হাতে পেয়ে সেই আশাই এখন ভেঙে পড়েছে।

জেলে কুদ্দুস মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম ভালো মানের বাছুর পেয়ে সংসারের অবস্থার কিছুটা উন্নতি করতে পারবো। কিন্তু যেগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই ছোট, দুর্বল এবং কিছু অসুস্থ। এতে লাভের বদলে আমাদেরই খরচ বাড়বে। দ্রুত সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

অন্য জেলেরাও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, এভাবে আগেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেওবদৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা তাদের হতাশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রকৃত জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এমন অনিয়ম ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ফাতেমা তুজ জোহরাকে বলতে শোনা যায় নিলে নেন আর নয়তো রেখে যান। পরে তার বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্পের নির্ধারিত মান বজায় রেখে বাছুর বিতরণের নির্দেশনা ছিল। কোথাও যদি অনিয়ম হয়ে থাকে বা নিম্নমানের বাছুর দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপকারভোগীদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা সবসময়ই কাজ করছি।