
মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের জাজিরায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণে গুরুতর অনিয়মের
অভিযোগ উঠেছে। বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির নামে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে প্রকৃত জেলেদের পাশাপাশি অজেলে ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং নিম্নমানের বাছুর সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ শে এপ্রিল) দুপুরে জাজিরা উপজেলা চত্বরে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণের সময় এঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ২০২৫ থেকে ২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার ৬০ জন নিবন্ধিত দরিদ্র জেলের মাঝে ৬০টি বকনা বাছুর বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে উপজেলা মৎস্য অফিস। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী প্রতিটি বাছুরের ওজন কমপক্ষে ৬০-৬৫ কেজি এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই শর্তের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাদের প্রকৃত জেলে হওয়ার কথা, তাদের পাশাপাশি এমন অনেক ব্যক্তি বাছুর নিতে উপস্থিত হয়েছেন, যারা কোনোভাবেই এই পেশার সঙ্গে জড়িত নন। কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চালক, কেউ দোকানদার এমনকি একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন যারা জেলে নন বলেও স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। এতে করে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ আরও গুরুতর হয়েছে বাছুরের মান নিয়ে। অনেক জেলে জানান, বিতরণ করা অধিকাংশ বাছুরই নির্ধারিত ওজনের তুলনায় অনেক কম। বেশিরভাগ বাছুরের উজন পঞ্চাশ কেজির কম। কিছু বাছুর এতটাই দুর্বল ও অসুস্থ যে সেগুলো পালন করতে গিয়ে বাড়তি খরচ ও ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। যেসব সহায়তা তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার কথা ছিল, তা এখন তাদের জন্য আর্থিক চাপের নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহায়তা তাদের জীবনের একটি বড় আশার জায়গা ছিল। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে তারা এই প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। কিন্তু নিম্নমানের বাছুর হাতে পেয়ে সেই আশাই এখন ভেঙে পড়েছে।
জেলে কুদ্দুস মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম ভালো মানের বাছুর পেয়ে সংসারের অবস্থার কিছুটা উন্নতি করতে পারবো। কিন্তু যেগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই ছোট, দুর্বল এবং কিছু অসুস্থ। এতে লাভের বদলে আমাদেরই খরচ বাড়বে। দ্রুত সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
অন্য জেলেরাও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, এভাবে আগেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেওবদৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা তাদের হতাশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রকৃত জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এমন অনিয়ম ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ফাতেমা তুজ জোহরাকে বলতে শোনা যায় নিলে নেন আর নয়তো রেখে যান। পরে তার বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্পের নির্ধারিত মান বজায় রেখে বাছুর বিতরণের নির্দেশনা ছিল। কোথাও যদি অনিয়ম হয়ে থাকে বা নিম্নমানের বাছুর দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপকারভোগীদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা সবসময়ই কাজ করছি।
























