Dhaka , Tuesday, 14 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রঙে-ঐতিহ্যে বর্ণিল কুড়িগ্রামে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হাতীবান্ধা ও নাগেশ্বরী সীমান্তে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অভিযানে পৌনে ২ লাখ টাকার মালামাল জব্দ মধুপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন রূপগঞ্জে বাংলা নববর্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি আনন্দ উৎসবে বোয়ালী ইউনিয়নে পহেলা বৈশাখ উদযাপন সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকল্প নেই:- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও বৈশ্বিক শক্তির টানাপোড়েন—নতুন বিশ্বব্যবস্থার আলোচনা জোরদার বিশ্ব আবারও এক অনিশ্চিত মোড়ে—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি কেবল সময়ের অপেক্ষা? রূপগঞ্জে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলে ডিএসসিসির বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ: পরিচ্ছন্ন ও তিলোত্তমা ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার নারায়ণগঞ্জে অবৈধ হকার উচ্ছেদ অভিযান রূপগঞ্জের দুর্ধর্ষ ডাকাতি, হাত পা বেধে স্বর্ণ ও টাকা লুট, জনমনে আতঙ্ক আমি ওয়াদা করেছিলাম রাঙ্গুনিয়ায় বালু ব্যবসা বন্ধ করে দেব:- হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি  কুড়িগ্রাম সীমান্তে ২ যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ: ফিরিয়ে আনতে বিজিবির তোড়জোড় বর্ণিল আয়োজনে নববর্ষ বরণে প্রস্তুত ছায়ানট; রমনা বটমূলে আজ উৎসবের আমেজ পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণে ধীরগতি,খাল নয় যেন ময়লা আবর্জনার ভাগাড় নারায়ণগঞ্জে নকল টিকা কার্ডে প্রতারণা: এক নারীর কারাদণ্ড লালমনিরহাটে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব: সতর্কবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগ, ঝুঁকিতে শিশুরা সাজা এড়াতে ৫ বছর আত্মগোপন: আদিতমারীতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নিখোঁজের ১১ দিনেও মিলেনি হিফজ ছাত্র তন্ময়ের খোঁজ, দিশেহারা পরিবার নলছিটিতে নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সড়কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত: অবৈধভাবে মাটি কাটায় সাতকানিয়ায় ইটভাটা মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা  মধ্যপ্রাচর যুদ্ধের প্রভাবে রূপগঞ্জে টেক্সটাইল খাতে ধসের আশঙ্কা, লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা পিএমকের উদ্যেগে রূপগঞ্জে বিনামূল্য স্বাস্থ্য ও চক্ষু সেবা, মেডিসিন, চসমা বিতরণ আড়াইহাজারে মামার বাড়ীতে ভাগনে খুন রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয়, শান্তিপূর্ণ বৈশাখের আশ্বাস শিক্ষার্থীদের জাতির সেবক হয়ে গড়ে উঠতে হবে: এমপি আবুল কালাম আজাদ ১২৫ বছরে মুড়াপাড়া সরকারি পাইলট মডেল হাই স্কুল: বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী উৎসবের ডাক

বিশ্ব আবারও এক অনিশ্চিত মোড়ে—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি কেবল সময়ের অপেক্ষা?

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:33:56 pm, Tuesday, 14 April 2026
  • 7 বার পড়া হয়েছে

জহিরুল ইসলাম খান, কলামিস্ট:

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

হচ্ছে না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ! খুব দ্রুতই আমেরিকা সটকে পড়ছে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে। ইরানের সব শর্তে রাজী হয়ে নাকে খদ দিয়ে পালাবে এক সপ্তাহের মধ্যে। আমেরিকা কিংবা ইসরায়েল কেউই পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করবে না ইরানের বিরুদ্ধে। তাহলে রাশিয়া চীন আমেরিকাকে সমূলে উৎখাতের এই সূবর্ন সুযোগ হাতছাড়া করবে না। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে এটা নিশ্চিত। তবে এর জন্য আরো কমপক্ষে ২০-৩০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাশক্তি হবে চীন।

আমেরিকার হিসেবে বড় ধরনের ভুল হয়ে গেছে এবার। সামান্য হরমুজ বন্ধেই ওদের ত্রাহী অবস্থা। হুথিরা বাব আল মানদেব বন্ধ করলে পথে বসতে হবে ওদের। কারন গতবছর হুথিরা এই প্রনালী বন্ধ করে দিলে আমেরিকা হুথিদের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হয়। হুথিরা শক্তিমত্তায় হিজবুল্লাহ থেকে শক্তিশালী। বলা হয়ে থাকে হুথিদের কাছে ব্যালাস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি আছে যা হিজবুল্লাহর কাছে নেই। তার উপর নিজ দেশেই লক্ষ লক্ষ জনতা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে রাস্তায় রাস্তায়। এই আমেরিকান জনগনকেই বা কি বলবো এত ভালোই যদি হবে ট্রাম্পের মত একটা মাথা মোটা গর্ধবকে দ্বিতীয়বার কেন ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়।

এই যুদ্ধের ব্যপ্তি বিশাল। প্রথমত আমেরিকার একক আধিপত্যের পতন হবে। সৃষ্টি হবে বহুমাত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা। যেখানে নেতৃত্ব দিবে চীন রাশিয়া আর মুসলিম বিশ্ব থেকে ইরান। অবাক লাগছে? অবাক হওয়ারই কথা। কারন আমরা আমেরিকার প্রভুত্ব দেখে অভ্যস্থ হয়ে গেছি। ওরা যখন যা খুশি করবে সেটাই আন্তর্জাতিক আইন। প্রথমে ওসামা বিন লাদেন, তারপর একে একে সাদ্দাম, ২০২১ সালে কাসেম সোলায়মানীকে হত্যা, শেষমেষ খামেনী। তবুও কি থামবে?

ইউরোপ, আমেরিকা, ইসরায়েল পারমানবিক শক্তিধর হতে পারবে। কিন্তু ইরানের বেলায় IEAE এর সদস্য হতে হবে। IEAE কে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে ইরানের ইউরেনিয়াম পরিশোধনের উপর যেন ঠিক ঠাক খবরদারী করতে পারে। তাতেও যদি রক্ষা হতো! সেই পুরনো বুলি ইরান আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পারমানবিক বোমা তৈরি করছে।

এই একই বাক্য জুনিয়র বুশ থেকে শুরু করে বর্তমান ট্রাম্প সবাই বলেছে। কিন্তু প্রমান? দরকার নাই! যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা মিডিয়া বড় হেডলাইন করবে। মিত্র দেশগুলো আহলান সাহলান বলে আমেরিকাকে ডেকে আনবে। প্রভু হয়ে ওদের রাজতন্ত্র রক্ষা করতে। এটাই হয়েছে বারবার। আফগানিস্তান যুদ্ধের সকল ব্যয়ভার বহন করেছে সৌদি আরব। আর ইরাক যুদ্ধের ব্যয় কাতার। শুধু তাই নয় পরবর্তীতে আইএসআইএস তৈরী করতে সব অর্থ দিয়ে ওবামাকে সাহায্য করেছে কাতার।

অনেকে ভাবতে পারেন কাতার ইসরায়েল পরিপন্থী হামাসের বন্ধু। আল-জাজিরা ২৪ ঘন্টা আমেরিকা বিরুধী বয়ান তৈরী করে ইত্যাদি। আফসোস। কাতার দুই ফ্রন্টের সমান খেলোয়াড়। যদি সত্যি ফিলিস্তিনের বন্ধু হতো তাহলে ইরানকে আর্থিকভাবে গোপনে সহযোগিতা করলেও ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়ে যেত। ২০২৫ এ কাতারের দোহায় আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার কথা বলে ওখানে ইসরায়েল কে দিয়ে বোম্বিং করিয়েছে। তখন সবাই মোবাইল রেখে নামাজে যাওয়ায় রক্ষা। নাহয় আজকে ইরানের হয়ে কথা বলার কেউ থাকত না।

সিরিয়া নিয়ে অনেকের ভুল ধারনা বর্তমান। বিশেষ করে বাশার আল আসাদ শীয়া তাই ওর বিরুধীতা করা সুন্নীদের জন্য ফরজ। পুতিন আর ইরান ওকে সাহায্য করে কারন তারা মুসলিম বিরুধী। অদ্ভুত! আসাদ বহুবছর থেকেই ইসরায়েল আর আমেরিকা বিরুধী। আসাদ গোপনে পরমানু বোমা তৈরির সব বন্দোবস্ত করেছিলো। কিন্তু আমাদের সুন্নী রাজতন্ত্র টেকানোর জন্য বেঈমানী করে তথ্য তুলে দিলো আমেরিকা আর ইজরায়েলের হাতে। ব্যাস! বোম্বিং করে পরমানু স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হলো।

তারপর শিয়া সুন্নীর ধোয়া তুলো দুই যুগ আসাদকে কোনঠাসা করা হলো। শেষমেশ আসাদ পালিয়ে বাচলো। সিরিয়ায় এই সুযোগে দুই দশক আমেরিকা ইসরায়েল তুরস্ক বোম্বিং করলো। তুরস্ক সরকার বিরুধী কুর্দিদের নির্বিচারে হত্যা করলো। পৃথিবীর কোথাও কোন মুসলিম আওয়াজ তুললো না। অথচ কুর্দিরা একটি স্বাধীন দেশের জন্য বহুবছর ধরে লড়াই করছে। গত রমজানে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ৭০ হাজার মুসলিমকে হত্যা করলো। এক ইরান ছাড়া কেউ আওয়াজ তুললো না। বাহ! সেই যুদ্ধের সব রসদ ইসরায়েলকে দিয়েছে তুরস্ক। বোকা মুসলিম! আর কবে ঘুম ভাংবে তোমাদের?

ধর্ম মানুষকে এক করতে পারে। তবে রাস্ট্র চালাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ভৌগোলিক জ্ঞান আর সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। যা যুদ্ধের ময়দানেও জয় পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমগন আরামে আয়াশে মত্ত। তাদের কানে সুদানের নারী শিশুর কান্না পৌছায় না। পোড়া লাশের গন্ধ তাদের ব্যবহৃত আতরের ঘ্রানে উবে যায়। সিরিয়ার শিশুদের মাটি আর ঘাস খেয়ে বেচে থাকা তাদের টনক নারাতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার। ফিলিস্তিনের নারী শিশুর চিৎকারে ওদের ঘুম ভাঙ্গে না। মিয়ানমারের লক্ষ লক্ষ মুসলিম হত্যার বিচার চেয়ে আরবরা আজও একটি বিবৃতি দিতে পারে না। কি লাভ এমন সংখ্যাধ্যিক্য মুসলিম হয়ে?

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রঙে-ঐতিহ্যে বর্ণিল কুড়িগ্রামে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত

বিশ্ব আবারও এক অনিশ্চিত মোড়ে—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি কেবল সময়ের অপেক্ষা?

আপডেট সময় : 01:33:56 pm, Tuesday, 14 April 2026

জহিরুল ইসলাম খান, কলামিস্ট:

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

হচ্ছে না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ! খুব দ্রুতই আমেরিকা সটকে পড়ছে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে। ইরানের সব শর্তে রাজী হয়ে নাকে খদ দিয়ে পালাবে এক সপ্তাহের মধ্যে। আমেরিকা কিংবা ইসরায়েল কেউই পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করবে না ইরানের বিরুদ্ধে। তাহলে রাশিয়া চীন আমেরিকাকে সমূলে উৎখাতের এই সূবর্ন সুযোগ হাতছাড়া করবে না। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে এটা নিশ্চিত। তবে এর জন্য আরো কমপক্ষে ২০-৩০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাশক্তি হবে চীন।

আমেরিকার হিসেবে বড় ধরনের ভুল হয়ে গেছে এবার। সামান্য হরমুজ বন্ধেই ওদের ত্রাহী অবস্থা। হুথিরা বাব আল মানদেব বন্ধ করলে পথে বসতে হবে ওদের। কারন গতবছর হুথিরা এই প্রনালী বন্ধ করে দিলে আমেরিকা হুথিদের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হয়। হুথিরা শক্তিমত্তায় হিজবুল্লাহ থেকে শক্তিশালী। বলা হয়ে থাকে হুথিদের কাছে ব্যালাস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি আছে যা হিজবুল্লাহর কাছে নেই। তার উপর নিজ দেশেই লক্ষ লক্ষ জনতা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে রাস্তায় রাস্তায়। এই আমেরিকান জনগনকেই বা কি বলবো এত ভালোই যদি হবে ট্রাম্পের মত একটা মাথা মোটা গর্ধবকে দ্বিতীয়বার কেন ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়।

এই যুদ্ধের ব্যপ্তি বিশাল। প্রথমত আমেরিকার একক আধিপত্যের পতন হবে। সৃষ্টি হবে বহুমাত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা। যেখানে নেতৃত্ব দিবে চীন রাশিয়া আর মুসলিম বিশ্ব থেকে ইরান। অবাক লাগছে? অবাক হওয়ারই কথা। কারন আমরা আমেরিকার প্রভুত্ব দেখে অভ্যস্থ হয়ে গেছি। ওরা যখন যা খুশি করবে সেটাই আন্তর্জাতিক আইন। প্রথমে ওসামা বিন লাদেন, তারপর একে একে সাদ্দাম, ২০২১ সালে কাসেম সোলায়মানীকে হত্যা, শেষমেষ খামেনী। তবুও কি থামবে?

ইউরোপ, আমেরিকা, ইসরায়েল পারমানবিক শক্তিধর হতে পারবে। কিন্তু ইরানের বেলায় IEAE এর সদস্য হতে হবে। IEAE কে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে ইরানের ইউরেনিয়াম পরিশোধনের উপর যেন ঠিক ঠাক খবরদারী করতে পারে। তাতেও যদি রক্ষা হতো! সেই পুরনো বুলি ইরান আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পারমানবিক বোমা তৈরি করছে।

এই একই বাক্য জুনিয়র বুশ থেকে শুরু করে বর্তমান ট্রাম্প সবাই বলেছে। কিন্তু প্রমান? দরকার নাই! যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা মিডিয়া বড় হেডলাইন করবে। মিত্র দেশগুলো আহলান সাহলান বলে আমেরিকাকে ডেকে আনবে। প্রভু হয়ে ওদের রাজতন্ত্র রক্ষা করতে। এটাই হয়েছে বারবার। আফগানিস্তান যুদ্ধের সকল ব্যয়ভার বহন করেছে সৌদি আরব। আর ইরাক যুদ্ধের ব্যয় কাতার। শুধু তাই নয় পরবর্তীতে আইএসআইএস তৈরী করতে সব অর্থ দিয়ে ওবামাকে সাহায্য করেছে কাতার।

অনেকে ভাবতে পারেন কাতার ইসরায়েল পরিপন্থী হামাসের বন্ধু। আল-জাজিরা ২৪ ঘন্টা আমেরিকা বিরুধী বয়ান তৈরী করে ইত্যাদি। আফসোস। কাতার দুই ফ্রন্টের সমান খেলোয়াড়। যদি সত্যি ফিলিস্তিনের বন্ধু হতো তাহলে ইরানকে আর্থিকভাবে গোপনে সহযোগিতা করলেও ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়ে যেত। ২০২৫ এ কাতারের দোহায় আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার কথা বলে ওখানে ইসরায়েল কে দিয়ে বোম্বিং করিয়েছে। তখন সবাই মোবাইল রেখে নামাজে যাওয়ায় রক্ষা। নাহয় আজকে ইরানের হয়ে কথা বলার কেউ থাকত না।

সিরিয়া নিয়ে অনেকের ভুল ধারনা বর্তমান। বিশেষ করে বাশার আল আসাদ শীয়া তাই ওর বিরুধীতা করা সুন্নীদের জন্য ফরজ। পুতিন আর ইরান ওকে সাহায্য করে কারন তারা মুসলিম বিরুধী। অদ্ভুত! আসাদ বহুবছর থেকেই ইসরায়েল আর আমেরিকা বিরুধী। আসাদ গোপনে পরমানু বোমা তৈরির সব বন্দোবস্ত করেছিলো। কিন্তু আমাদের সুন্নী রাজতন্ত্র টেকানোর জন্য বেঈমানী করে তথ্য তুলে দিলো আমেরিকা আর ইজরায়েলের হাতে। ব্যাস! বোম্বিং করে পরমানু স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হলো।

তারপর শিয়া সুন্নীর ধোয়া তুলো দুই যুগ আসাদকে কোনঠাসা করা হলো। শেষমেশ আসাদ পালিয়ে বাচলো। সিরিয়ায় এই সুযোগে দুই দশক আমেরিকা ইসরায়েল তুরস্ক বোম্বিং করলো। তুরস্ক সরকার বিরুধী কুর্দিদের নির্বিচারে হত্যা করলো। পৃথিবীর কোথাও কোন মুসলিম আওয়াজ তুললো না। অথচ কুর্দিরা একটি স্বাধীন দেশের জন্য বহুবছর ধরে লড়াই করছে। গত রমজানে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ৭০ হাজার মুসলিমকে হত্যা করলো। এক ইরান ছাড়া কেউ আওয়াজ তুললো না। বাহ! সেই যুদ্ধের সব রসদ ইসরায়েলকে দিয়েছে তুরস্ক। বোকা মুসলিম! আর কবে ঘুম ভাংবে তোমাদের?

ধর্ম মানুষকে এক করতে পারে। তবে রাস্ট্র চালাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ভৌগোলিক জ্ঞান আর সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। যা যুদ্ধের ময়দানেও জয় পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমগন আরামে আয়াশে মত্ত। তাদের কানে সুদানের নারী শিশুর কান্না পৌছায় না। পোড়া লাশের গন্ধ তাদের ব্যবহৃত আতরের ঘ্রানে উবে যায়। সিরিয়ার শিশুদের মাটি আর ঘাস খেয়ে বেচে থাকা তাদের টনক নারাতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার। ফিলিস্তিনের নারী শিশুর চিৎকারে ওদের ঘুম ভাঙ্গে না। মিয়ানমারের লক্ষ লক্ষ মুসলিম হত্যার বিচার চেয়ে আরবরা আজও একটি বিবৃতি দিতে পারে না। কি লাভ এমন সংখ্যাধ্যিক্য মুসলিম হয়ে?