Dhaka , Tuesday, 9 June 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম মডেল সফল, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া হবে নির্ধারিত ও স্বচ্ছ:- মেয়র ডা. শাহাদাত রূপগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক গ্রেফতার ৪ কোটি টাকা মূল্যের ৮০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক, জব্দ প্রাইভেটকার চিরকুটে যুবকের নাম লিখে নবম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা বাজেট বাস্তবায়ন ও ককাস গঠনে চিফ হুইপের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তার সাক্ষাৎ শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পেপারবুক প্রস্তুত, শুনানি শিগগিরই ৭ বছর পর উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, লালগালিচা সংবর্ধনা কিমের বাংলাদেশ সিরিজ চ্যালেঞ্জিং হবে : অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার বার পরিষ্কার করা হয় মসজিদে নববী নোয়াখালীতে ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ ও সমাবেশ রূপগঞ্জে পানি শোধনাগার প্রকল্প চালু হলে দিনে ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকা শহরে সরবরাহ করা যাবে- মির্জা ফখরুল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল: নোয়াখালীতে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৪৭ কালীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে ৫ বছর পর সচল কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সোলার প্যানেল পুলিশ প্রটোকল ও সরকারি দেহরক্ষী ছাড়াই ব্যক্তিগত গাড়িতে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আমিনবাজার ও আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল আকস্মিক পরিদর্শন জঙ্গল হতে কাতার প্রবাসী চুয়েট প্রকৌশলী অপহরনের দুই ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার, ৪ অপহরণকারীকে আটক করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে ১৪২ কেজি জেলি মিশ্রিত চিংড়ি জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা লালমনিরহাটে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মানববন্ধন: নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ও পরিবেশ আইন সংশোধনের দাবি রামুর খুনিয়াপালংয়ে ছেলের গুলিতে আহত পিতা আয়াছের মৃত্যু জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশ সুপারে’র শিক্ষা, স্বপ্ন ও নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লক্ষ গাছ:- মেয়র ডা. শাহাদাত রূপগঞ্জে এনসিপির অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রাম পুরুষ শূন্য, গ্রেফতার ২ দুই দশকের মধ্যে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপের বাকি ৪ দিন : ভাইদের গোলের কীর্তি ব্যাংক সংস্কারে রাজনৈতিক সুশাসন জরুরি : তথ্যমন্ত্রী বিএসএফের ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ যুবককে পুশ ইনের চেষ্টা উচ্চ আদালতে রামিসার মামলার শুনানি এগিয়ে আনতে সুপারিশ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ, আহত ৬

চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করে উল্টো অর্থ দাবির অভিযোগ কোরাল রীফের বিরুদ্ধে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:38:06 pm, Wednesday, 22 April 2026
  • 24 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কোরাল রীফ প্রপার্টিজ লিমিটেডের নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় নির্মিত একটি প্রকল্পে জমির মালিকদের প্রাপ্য ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে, একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে জাল কাগজপত্র ও জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। শুধু চট্টগ্রামে নয়, কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রকল্পে একই কৌশল করে একাধিক জমির মালিকের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দায়ের করা মামলার তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তবে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দায়ের করা পাল্টা মামলায় ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার আমানত খান সড়কের খান বাড়ির ১৬ হাজার ৫৩৩ বর্গফুট জমিতে ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য জমির মালিক ৩০ জন ওয়ারিশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন কোরাল রীফ প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম। চুক্তি অনুযায়ী, তিন বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে প্রায় ৮ বছর অতিবাহিত করে। চুক্তিতে অতিরিক্ত ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছিল। প্রকল্পে মোট ৮৯টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়, যার মধ্যে ৫০ শতাংশ জমির মালিক এবং বাকি ৫০ শতাংশ ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কথা ছিল। ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে ডেভেলপারকে জমির মালিকদের প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা। সে হিসেবে মামলার বাদী প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা পাওয়ার অধিকারী।

তবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোনো অর্থ পরিশোধ না করে বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে রাখে কোরাল রীফ প্রপার্টিজ। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের জুন মাসে জমির অন্যতম মালিক মো. আমজাদ খানের ছেলে সামিউল খান আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, কোরাল রীফ প্রপার্টিজকে বারবার চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বৈঠকে ডাকা হলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি, বরং অন্যান্য ভূমি মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সমঝোতা চুক্তি ও আমোক্তারনামা সম্পাদন না করে ২০১২ সালের মূল চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করতে থাকে। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আগ্রাবাদ ভূমি অফিসে জমির মালিক সামিউল খান, আসিফ খান ও আমজাদ খান আপত্তি দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই ভবনের নামজারি কার্যক্রম স্থগিত করেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৩ জুন খান বাড়িতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কোরাল রীফ প্রপার্টিজের লোকজন জমির মালিক সামিউল খান ও তার বাবা আমজাদ খানকে মারধর করে। একইসঙ্গে ওই বৈঠকে চুক্তিপত্র অস্বীকার করে কোনো ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। এমনকি পরে ফ্ল্যাট বুঝে নিতে চাইলে জমির মালিকদের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬ এ দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সিএমপির ডিবি বন্দর-পশ্চিম বিভাগ। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন রুবেল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাদী সামিউল খান কোরাল রীফ প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ জামাল উদ্দিনসহ তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের মূল চুক্তির পাশাপাশি ২০১৯ ও ২০২০ সালে জমির মালিকদের সঙ্গে কোরাল রীফের দুটি সম্পূরক চুক্তি হলেও তাতে জমির মালিক আমজাদ খান, আসিফ খান ও আসাদ খানের কোনো স্বাক্ষর ছিল না। তবুও তাদের নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি ফ্ল্যাট, পার্কিংসহ বিভিন্ন সম্পত্তি হস্তান্তর অব্যাহত রাখে। একই সঙ্গে উল্লিখিত তিন মালিককে তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ডিজিটাল জরিপে দেখা গেছে, একেকটি ফ্ল্যাটের আকার ভিন্ন ভিন্ন এবং চুক্তিতে দোকানের উল্লেখ না থাকলেও সেখানে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া বাদী ও তার পিতাকে মারধরের অভিযোগেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, কোরাল রীফ প্রপার্টিজও জমির পাঁচজন মালিককে বিবাদী করে পৃথক একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্তেও সিএমপির ডিবি (বন্দর-পশ্চিম) বিভাগ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬ এ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে দায়ের করা ওই মামলায় কোরাল রীফের পক্ষ থেকে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ১৫টি ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ আনা হলেও তদন্তে তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং তদন্তে উল্টো প্রমাণ মিলেছে যে, কোরাল রীফ প্রপার্টিজ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেড় কোটি টাকা পরিশোধের বিষয়ে গড়িমসি করেছে। এ ছাড়া আবাসিক ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও সেখানে ‘হোটেল অ্যান্ড সুইটমিট’ হিসেবে পরিকল্পনা অনুমোদন নেওয়া হয়েছে ও দোকান, পার্কিংসহ একাধিক ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সামিউল খান বলেন, আমাদের ভবনের প্রায় প্রতিটি ফ্ল্যাটেই কোরাল রীফ প্রপার্টিজ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে পরে লাপাত্তা হয়ে যায়। তারা অনেক ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছে। আমাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ তো দেয়ইনি, বরং পুরো ভবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, কক্সবাজারের বেস্ট ওয়েস্টার্ন হ্যারিটেজ হোটেলে দুটি ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে আমার বাবার কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। সেখানেও তারা মূল্য নিয়ে প্রতারণা করেছে। কোনো মুনাফা তো দূরের কথা, মূল টাকাটিও ফেরত দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সিডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলে সংস্থাটি একটি নোটিশ জারি করে। তবে পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোরাল রীফ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম মডেল সফল, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া হবে নির্ধারিত ও স্বচ্ছ:- মেয়র ডা. শাহাদাত

চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করে উল্টো অর্থ দাবির অভিযোগ কোরাল রীফের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : 04:38:06 pm, Wednesday, 22 April 2026

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কোরাল রীফ প্রপার্টিজ লিমিটেডের নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় নির্মিত একটি প্রকল্পে জমির মালিকদের প্রাপ্য ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে, একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে জাল কাগজপত্র ও জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। শুধু চট্টগ্রামে নয়, কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রকল্পে একই কৌশল করে একাধিক জমির মালিকের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দায়ের করা মামলার তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তবে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দায়ের করা পাল্টা মামলায় ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার আমানত খান সড়কের খান বাড়ির ১৬ হাজার ৫৩৩ বর্গফুট জমিতে ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য জমির মালিক ৩০ জন ওয়ারিশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন কোরাল রীফ প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম। চুক্তি অনুযায়ী, তিন বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে প্রায় ৮ বছর অতিবাহিত করে। চুক্তিতে অতিরিক্ত ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছিল। প্রকল্পে মোট ৮৯টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়, যার মধ্যে ৫০ শতাংশ জমির মালিক এবং বাকি ৫০ শতাংশ ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কথা ছিল। ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে ডেভেলপারকে জমির মালিকদের প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা। সে হিসেবে মামলার বাদী প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা পাওয়ার অধিকারী।

তবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোনো অর্থ পরিশোধ না করে বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে রাখে কোরাল রীফ প্রপার্টিজ। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের জুন মাসে জমির অন্যতম মালিক মো. আমজাদ খানের ছেলে সামিউল খান আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, কোরাল রীফ প্রপার্টিজকে বারবার চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বৈঠকে ডাকা হলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি, বরং অন্যান্য ভূমি মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সমঝোতা চুক্তি ও আমোক্তারনামা সম্পাদন না করে ২০১২ সালের মূল চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করতে থাকে। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আগ্রাবাদ ভূমি অফিসে জমির মালিক সামিউল খান, আসিফ খান ও আমজাদ খান আপত্তি দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই ভবনের নামজারি কার্যক্রম স্থগিত করেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৩ জুন খান বাড়িতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কোরাল রীফ প্রপার্টিজের লোকজন জমির মালিক সামিউল খান ও তার বাবা আমজাদ খানকে মারধর করে। একইসঙ্গে ওই বৈঠকে চুক্তিপত্র অস্বীকার করে কোনো ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। এমনকি পরে ফ্ল্যাট বুঝে নিতে চাইলে জমির মালিকদের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬ এ দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সিএমপির ডিবি বন্দর-পশ্চিম বিভাগ। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন রুবেল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাদী সামিউল খান কোরাল রীফ প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ জামাল উদ্দিনসহ তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের মূল চুক্তির পাশাপাশি ২০১৯ ও ২০২০ সালে জমির মালিকদের সঙ্গে কোরাল রীফের দুটি সম্পূরক চুক্তি হলেও তাতে জমির মালিক আমজাদ খান, আসিফ খান ও আসাদ খানের কোনো স্বাক্ষর ছিল না। তবুও তাদের নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি ফ্ল্যাট, পার্কিংসহ বিভিন্ন সম্পত্তি হস্তান্তর অব্যাহত রাখে। একই সঙ্গে উল্লিখিত তিন মালিককে তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ডিজিটাল জরিপে দেখা গেছে, একেকটি ফ্ল্যাটের আকার ভিন্ন ভিন্ন এবং চুক্তিতে দোকানের উল্লেখ না থাকলেও সেখানে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া বাদী ও তার পিতাকে মারধরের অভিযোগেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, কোরাল রীফ প্রপার্টিজও জমির পাঁচজন মালিককে বিবাদী করে পৃথক একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্তেও সিএমপির ডিবি (বন্দর-পশ্চিম) বিভাগ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬ এ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে দায়ের করা ওই মামলায় কোরাল রীফের পক্ষ থেকে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ১৫টি ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ আনা হলেও তদন্তে তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং তদন্তে উল্টো প্রমাণ মিলেছে যে, কোরাল রীফ প্রপার্টিজ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেড় কোটি টাকা পরিশোধের বিষয়ে গড়িমসি করেছে। এ ছাড়া আবাসিক ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও সেখানে ‘হোটেল অ্যান্ড সুইটমিট’ হিসেবে পরিকল্পনা অনুমোদন নেওয়া হয়েছে ও দোকান, পার্কিংসহ একাধিক ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সামিউল খান বলেন, আমাদের ভবনের প্রায় প্রতিটি ফ্ল্যাটেই কোরাল রীফ প্রপার্টিজ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে পরে লাপাত্তা হয়ে যায়। তারা অনেক ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছে। আমাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ তো দেয়ইনি, বরং পুরো ভবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, কক্সবাজারের বেস্ট ওয়েস্টার্ন হ্যারিটেজ হোটেলে দুটি ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে আমার বাবার কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। সেখানেও তারা মূল্য নিয়ে প্রতারণা করেছে। কোনো মুনাফা তো দূরের কথা, মূল টাকাটিও ফেরত দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সিডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলে সংস্থাটি একটি নোটিশ জারি করে। তবে পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোরাল রীফ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।