
ইবি প্রতিনিধি,
নাগরিক সমাজের বড় দায়িত্ব হলো সরকারকে বাধ্য করা, যেন পুলিশ জনগণের বন্ধু হিসেবে কাজ করতে পারে।
একই কথা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমরা স্বাধীন দুদকের কথা বলি, কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে এক দিনের জন্যও দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করেনি। দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা আজ জন-আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের গণন হরকরা গ্যালারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন গ্রীণ ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন-আকাঙ্ক্ষা, অর্জন ও পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে ‘চব্বিশের জুলাই: জন-আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় রাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, “আজকের বাংলাদেশে থানায় এক দলের লোক যে সহযোগিতা পাবে, অন্য দলের লোক কি সেই একই সহযোগিতা পাবেন? তাহলে আপনারা কোন আইনের শাসনের গল্প আমাদের শোনাচ্ছেন? এই জায়গাটা যতক্ষণ পরিষ্কার না হয়, ততক্ষণ আইনের শাসনের গল্প কেবলই গল্প। আইনের শাসনের প্রশ্ন এলে আমরা প্রথমেই কাদের কথা বলি? আমরা পুলিশ বিভাগের কথা বলি। পুলিশ বিভাগের সংস্কারের জন্য বহু কথা হয়েছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। পুলিশ সম্পর্কে আমাদের জনগণের, বিশেষ করে গত ১৭ বছরের যে অভিজ্ঞতা, তা মোটেও ইতিবাচক নয়। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেখেছি, পুলিশ বিভাগে অত্যন্ত মেধাবী ও সত্যিকার অর্থে ভালো মানুষও রয়েছেন। তাদের কাজের সঠিক পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারে কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সেই নেতৃত্বের জায়গায় মৌলিক পরিবর্তন না এলে পুলিশ বিভাগে ফেরেশতা বসিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না।”
এসময় তিনি আরো বলেন,” নাগরিক সমাজের বড় দায়িত্ব হলো সরকারকে বাধ্য করা, যেন পুলিশ জনগণের বন্ধু হিসেবে কাজ করতে পারে।
একই কথা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমরা স্বাধীন দুদকের কথা বলি, কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে এক দিনের জন্যও দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করেনি। দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা আজ জন-আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে। এসব পদক্ষেপ যেন নেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার। এখন চুপ করে থাকার সময় নেই। এই রাষ্ট্রের যদি একটি ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হয়, তবে রাষ্ট্রকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। দাড়িওয়ালা, দাড়ি ছাড়া, আস্তিক কিংবা নাস্তিক—সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের নাগরিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভেদাভেদ করার কোনো অধিকার রাষ্ট্রের নেই। মানুষের অধিকারের প্রশ্নে আমার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ যাই থাকুক না কেন, আমার অবস্থান যেন সবসময় একই রকম থাকে।”
এসময় সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রীণ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ্জ হোসেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এসময় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান।


























