Dhaka , Thursday, 1 October 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় নাম আসতেই পদত্যাগ করলেন এমপি মিষ্টি সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ড পরিদর্শনে আরিফুল হক চৌধুরী, জাহাজ ভাঙা শিল্পে সরকারি সহায়তার আশ্বাস মন্ত্রীর নোয়াখালীতে খাবার অপচয় রোধে মতবিনিময় সভা শ্রমিকদের আবাসন, সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে চট্টগ্রাম থেকেই কাজ শুরু হবে: আরিফুল হক চৌধুরী মাদকে জিরো টলারেন্স ও অপরাধমুক্ত নানিয়ারচর গড়তে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ অঙ্গীকার রাজনগরের ব্যবসায়ীকে ২০০ কোটি টাকার কয়েনের প্রলোভন, বক্স খুলে মিলল সাপ! শিক্ষাই বদলে দিতে পারে জীবনের গতিপথ: ফাহমিদা হক এমপি ক্রয়কৃত জমি বিক্রি ও চাষাবাদে বাধার অভিযোগ, মধুপুরে সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪; দুই মাদক কারবারির কারাদণ্ড পাইকগাছায় পুশবিরোধী অভিযানে জরিমানা; দেড় লাখ রেণু অবমুক্ত দীঘিনালায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শেষে ৪২ শিক্ষার্থীকে সনদ রামুর কচ্ছপিয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত পিডি গফুর’কে অব্যাহতি দিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন চালিয়ে বিশ্ব রেকর্ড চীনের মেসি এবার সত্যিই ‘ডক্টর’, মিলছে সম্মানসূচক ডক্টরেট পুঁজিবাজারকে ইনস্টিটিউশনাল ও পেপারলেস করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর যেভাবে ছাত্র রাজনীতি থেকে এমপি হন মিষ্টি এফবিএমএসএর নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন সভাপতি ডা. রশিদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ডা. গোলাম সারোয়ার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে পদত্যাগের প্রশ্নে যা বললেন এমপি মিষ্টি মির্জাপুরে দুর্গা মন্দিরে ৭ প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপন রাসেল আহমেদ সাগর মৌলভীবাজার শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি নির্বাচিত। ব্রাক ইউনিভার্সিটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইজিডির “রকি অ্যাওয়ার্ড”- মাঠপর্যায়ের কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি পদক পেলেন রামুর সাঈদ হোসাইন আকাশ রাউজানে পুলিশের দুঃসাহসিক অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেফতার সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদ্‌যাপন নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৮ রামুতে সাড়ে তিন মাসে হামের উপসর্গে ২১০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন পূর্বধলায় পশুর হাট ইজারা নিয়ে সংঘর্ষ: জামায়াতের ২৫ নেতা-কর্মী কারাগারে মধুপুর প্রেসক্লাবের দ্বিতল ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন স্কুল নাকি মাদ্রাসা—ডেমরায় ভিন্নধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ইনস্টিটিউট

শ্রমিকদের আবাসন, সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে চট্টগ্রাম থেকেই কাজ শুরু হবে: আরিফুল হক চৌধুরী

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:46:44 pm, Thursday, 1 October 2026
  • 4 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমিকদের কল্যাণ, আবাসন, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও শোভন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম থেকেই কার্যকর উদ্যোগ শুরু করা হবে। এ কাজে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিল্পমালিক ও শ্রমিক সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামে সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি, কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ বিষশক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের জন্য আবাসন, তাদের সন্তানদের লেখাপড়া এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক বিষয়গুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা কঠিন হলেও এক বা দুটি উদ্যোগ দিয়ে কাজ শুরু করা সম্ভব। একটি সফল উদ্যোগ অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাগুলোকে একই ধরনের কার্যক্রম গ্রহণে উৎসাহিত করবে।শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য শিল্পাঞ্চলের ভেতরে শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইন ও নীতিমালায় শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তিনি শিল্পমালিক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতি নিজ নিজ শিল্প এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমি আইজি সাহেবকে বলব, এখানে যারা সংশ্লিষ্ট আছেন তারা যেন অবিলম্বে শিল্পমালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। প্রয়োজনে সংসদ সদস্যরাও এ আলোচনায় অংশ নেবেন। দু-একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে শুরু করা গেলে ধীরে ধীরে অন্যরাও এগিয়ে আসবেন।

চট্টগ্রামে শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, বড় ধরনের স্থায়ী ভবন নির্মাণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী স্টিল স্ট্রাকচারভিত্তিক অবকাঠামোর মাধ্যমে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। এতে কয়েক মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সেবা চালু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে শ্রমিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমের জন্য জায়গা বরাদ্দের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। জায়গা পাওয়া গেলে দ্রুত স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণের পরই তিনি বিমান মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জায়গা বরাদ্দের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রামে শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা যদি চট্টগ্রাম থেকে শুরু করতে পারি, তাহলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। আমাদের উদ্দেশ্য যদি পরিষ্কার থাকে এবং সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করি, তাহলে ইনশাআল্লাহ কাজ বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে না।
তিনি সংশ্লিষ্ট শিল্পমালিক, শ্রমিক সংগঠন ও অংশীজনদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কল্যাণে যেসব বিষয় অন্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, মানুষকে আমরা অনেক আশা দিয়েছি। মানুষের অনেক প্রত্যাশা আমাদের ওপর। এখন শুধু কথায় নয়, বাস্তবে কাজ করে মানুষকে দেখাতে হবে। সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। তাই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই শ্রমিক কল্যাণে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু স্বপ্ন দেখব না, কল্পনার মধ্যে থাকব না—স্বপ্ন ও কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ আমরা একটি সুন্দর ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, শ্রমিক শ্রেণীর ভাগ্য উন্নয়নে দুটি বিষয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একটি হচ্ছে শ্রমিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। যে শ্রমিকরা তাঁদের শ্রম ও ঘামে দেশের অর্থনীতি নির্মাণ করেন, তাঁদের জন্য যদি সুচিকিৎসার পর্যাপ্ত বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়, তাহলে তাঁরা আরও বেশি কর্মস্পৃহা পাবেন, নিরাপদ বোধ করবেন এবং তাঁদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারলে, তাঁরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে যেতে পারবেন। এতে তাঁদের কর্মদক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তালুকদার, চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান,চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম জেলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগমসহ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং শ্রম শিল্পের প্রতিনিধিসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ মন্ত্রী মতবিনিময় সভার পূর্বে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চট্টগ্রামে অভ্যান্তরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনের জন্য ট্রলি কার্যক্রমের উদ্বোধন ও প্রবাসী কল্যাণ ডেক্স পরিদর্শন করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় নাম আসতেই পদত্যাগ করলেন এমপি মিষ্টি

শ্রমিকদের আবাসন, সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে চট্টগ্রাম থেকেই কাজ শুরু হবে: আরিফুল হক চৌধুরী

আপডেট সময় : 08:46:44 pm, Thursday, 1 October 2026

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমিকদের কল্যাণ, আবাসন, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও শোভন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম থেকেই কার্যকর উদ্যোগ শুরু করা হবে। এ কাজে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিল্পমালিক ও শ্রমিক সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামে সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি, কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ বিষশক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের জন্য আবাসন, তাদের সন্তানদের লেখাপড়া এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক বিষয়গুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা কঠিন হলেও এক বা দুটি উদ্যোগ দিয়ে কাজ শুরু করা সম্ভব। একটি সফল উদ্যোগ অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাগুলোকে একই ধরনের কার্যক্রম গ্রহণে উৎসাহিত করবে।শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য শিল্পাঞ্চলের ভেতরে শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইন ও নীতিমালায় শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তিনি শিল্পমালিক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতি নিজ নিজ শিল্প এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমি আইজি সাহেবকে বলব, এখানে যারা সংশ্লিষ্ট আছেন তারা যেন অবিলম্বে শিল্পমালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। প্রয়োজনে সংসদ সদস্যরাও এ আলোচনায় অংশ নেবেন। দু-একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে শুরু করা গেলে ধীরে ধীরে অন্যরাও এগিয়ে আসবেন।

চট্টগ্রামে শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, বড় ধরনের স্থায়ী ভবন নির্মাণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী স্টিল স্ট্রাকচারভিত্তিক অবকাঠামোর মাধ্যমে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। এতে কয়েক মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সেবা চালু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে শ্রমিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমের জন্য জায়গা বরাদ্দের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। জায়গা পাওয়া গেলে দ্রুত স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণের পরই তিনি বিমান মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জায়গা বরাদ্দের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রামে শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা যদি চট্টগ্রাম থেকে শুরু করতে পারি, তাহলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। আমাদের উদ্দেশ্য যদি পরিষ্কার থাকে এবং সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করি, তাহলে ইনশাআল্লাহ কাজ বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে না।
তিনি সংশ্লিষ্ট শিল্পমালিক, শ্রমিক সংগঠন ও অংশীজনদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কল্যাণে যেসব বিষয় অন্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, মানুষকে আমরা অনেক আশা দিয়েছি। মানুষের অনেক প্রত্যাশা আমাদের ওপর। এখন শুধু কথায় নয়, বাস্তবে কাজ করে মানুষকে দেখাতে হবে। সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। তাই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই শ্রমিক কল্যাণে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু স্বপ্ন দেখব না, কল্পনার মধ্যে থাকব না—স্বপ্ন ও কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ আমরা একটি সুন্দর ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, শ্রমিক শ্রেণীর ভাগ্য উন্নয়নে দুটি বিষয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একটি হচ্ছে শ্রমিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। যে শ্রমিকরা তাঁদের শ্রম ও ঘামে দেশের অর্থনীতি নির্মাণ করেন, তাঁদের জন্য যদি সুচিকিৎসার পর্যাপ্ত বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়, তাহলে তাঁরা আরও বেশি কর্মস্পৃহা পাবেন, নিরাপদ বোধ করবেন এবং তাঁদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারলে, তাঁরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে যেতে পারবেন। এতে তাঁদের কর্মদক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তালুকদার, চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান,চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম জেলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগমসহ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং শ্রম শিল্পের প্রতিনিধিসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ মন্ত্রী মতবিনিময় সভার পূর্বে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চট্টগ্রামে অভ্যান্তরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনের জন্য ট্রলি কার্যক্রমের উদ্বোধন ও প্রবাসী কল্যাণ ডেক্স পরিদর্শন করেন।