Dhaka , Friday, 29 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রূপগঞ্জে ৮সহস্রাধিক গার্মেন্টস কর্মী ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ রূপগঞ্জে ৮সহস্রাধিক গার্মেন্টস কর্মী ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ রেড মিট ঝুঁকি কমিয়ে স্বাস্থ্যকরভাবে খাবার পরামর্শ রূপগঞ্জে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে লালমনিরহাটে একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন টিকিটের টাকা নিয়ে উধাও বাস মালিকরা, নারায়ণগঞ্জে যাত্রীদের বিক্ষোভ জনদুর্ভোগে এগিয়ে এলেন ছাত্রদল নেতা নাছির, নিজ টাকায় সড়ক মেরামত রামগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি জঙ্গল সলিমপুরে ‘ইয়াসিন-ফারুক সাম্রাজ্য’! পাহাড়ের গুহায় অস্ত্র কারখানা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতির অভিযোগ আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্তে কঠোর অবস্থানে ১৫ বিজিবি: ফুলবাড়ীতে মাদক স্পটে অভিযানে ৬০ বোতল ইস্কাপ সিরাপ জব্দ ‘হাটগুলোতে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে’: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত জমিয়তুল ফালাহ ময়দান: চসিক মেয়র ঈদের ছুটিতে একসঙ্গে ফিরছিলেন বাড়ি, এবার পাশাপাশি কবরে শায়িত তারা কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: একদিন আগেও ছিল ঘর, আজ ফ্লাইওভারের নিচেই তাদের ঠিকানা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে ঈদুল আজহার জামাত রায়পুরায় দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা নোয়াখালীতে নসিমন উল্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু মির্জাপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের মৃত্যু হাজরাপুর ইউনিয়নে তরুণদের আস্থার প্রতীক চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাইমুম সিরাজ শোয়ার আগে যে কাজটি করতে ভোলেন না ক্যাটরিনা ইউরো জেতানো অধিনায়ককে ছাড়াই স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা আঘাত বা ক্ষত যখন ক্যানসারে রূপ নেয়, যেসব লক্ষণ অবহেলা করা যাবে না গাছের তাল পাড়তে নিষেধ করায় প্রতিবেশীর বর্বরোচিত হামলা, বৃদ্ধ গুরুতর আহত ৬ ঘন্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, নগরজুড়ে তদারকিতে থাকবেন মেয়র ডা. শাহাদাত রূপগঞ্জে ফল ব্যবসায়ী হত্যার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল পাইকগাছায় অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন; আইনগত ব্যবস্থার দাবি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে অপপ্রচারের প্রতিবাদে রূপগঞ্জে যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন নদীর তীরে হাঁটতে গিয়ে পেলেন ২০ কেজির কোরাল মাছ পাইকগাছায় কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ঢাকা-৫ এর জলাবদ্ধতা নিরসনে এমপি কামাল হোসেন এর দ্রুত হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী

বিশ্ব আবারও এক অনিশ্চিত মোড়ে—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি কেবল সময়ের অপেক্ষা?

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:33:56 pm, Tuesday, 14 April 2026
  • 175 বার পড়া হয়েছে

জহিরুল ইসলাম খান, কলামিস্ট:

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

হচ্ছে না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ! খুব দ্রুতই আমেরিকা সটকে পড়ছে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে। ইরানের সব শর্তে রাজী হয়ে নাকে খদ দিয়ে পালাবে এক সপ্তাহের মধ্যে। আমেরিকা কিংবা ইসরায়েল কেউই পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করবে না ইরানের বিরুদ্ধে। তাহলে রাশিয়া চীন আমেরিকাকে সমূলে উৎখাতের এই সূবর্ন সুযোগ হাতছাড়া করবে না। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে এটা নিশ্চিত। তবে এর জন্য আরো কমপক্ষে ২০-৩০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাশক্তি হবে চীন।

আমেরিকার হিসেবে বড় ধরনের ভুল হয়ে গেছে এবার। সামান্য হরমুজ বন্ধেই ওদের ত্রাহী অবস্থা। হুথিরা বাব আল মানদেব বন্ধ করলে পথে বসতে হবে ওদের। কারন গতবছর হুথিরা এই প্রনালী বন্ধ করে দিলে আমেরিকা হুথিদের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হয়। হুথিরা শক্তিমত্তায় হিজবুল্লাহ থেকে শক্তিশালী। বলা হয়ে থাকে হুথিদের কাছে ব্যালাস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি আছে যা হিজবুল্লাহর কাছে নেই। তার উপর নিজ দেশেই লক্ষ লক্ষ জনতা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে রাস্তায় রাস্তায়। এই আমেরিকান জনগনকেই বা কি বলবো এত ভালোই যদি হবে ট্রাম্পের মত একটা মাথা মোটা গর্ধবকে দ্বিতীয়বার কেন ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়।

এই যুদ্ধের ব্যপ্তি বিশাল। প্রথমত আমেরিকার একক আধিপত্যের পতন হবে। সৃষ্টি হবে বহুমাত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা। যেখানে নেতৃত্ব দিবে চীন রাশিয়া আর মুসলিম বিশ্ব থেকে ইরান। অবাক লাগছে? অবাক হওয়ারই কথা। কারন আমরা আমেরিকার প্রভুত্ব দেখে অভ্যস্থ হয়ে গেছি। ওরা যখন যা খুশি করবে সেটাই আন্তর্জাতিক আইন। প্রথমে ওসামা বিন লাদেন, তারপর একে একে সাদ্দাম, ২০২১ সালে কাসেম সোলায়মানীকে হত্যা, শেষমেষ খামেনী। তবুও কি থামবে?

ইউরোপ, আমেরিকা, ইসরায়েল পারমানবিক শক্তিধর হতে পারবে। কিন্তু ইরানের বেলায় IEAE এর সদস্য হতে হবে। IEAE কে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে ইরানের ইউরেনিয়াম পরিশোধনের উপর যেন ঠিক ঠাক খবরদারী করতে পারে। তাতেও যদি রক্ষা হতো! সেই পুরনো বুলি ইরান আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পারমানবিক বোমা তৈরি করছে।

এই একই বাক্য জুনিয়র বুশ থেকে শুরু করে বর্তমান ট্রাম্প সবাই বলেছে। কিন্তু প্রমান? দরকার নাই! যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা মিডিয়া বড় হেডলাইন করবে। মিত্র দেশগুলো আহলান সাহলান বলে আমেরিকাকে ডেকে আনবে। প্রভু হয়ে ওদের রাজতন্ত্র রক্ষা করতে। এটাই হয়েছে বারবার। আফগানিস্তান যুদ্ধের সকল ব্যয়ভার বহন করেছে সৌদি আরব। আর ইরাক যুদ্ধের ব্যয় কাতার। শুধু তাই নয় পরবর্তীতে আইএসআইএস তৈরী করতে সব অর্থ দিয়ে ওবামাকে সাহায্য করেছে কাতার।

অনেকে ভাবতে পারেন কাতার ইসরায়েল পরিপন্থী হামাসের বন্ধু। আল-জাজিরা ২৪ ঘন্টা আমেরিকা বিরুধী বয়ান তৈরী করে ইত্যাদি। আফসোস। কাতার দুই ফ্রন্টের সমান খেলোয়াড়। যদি সত্যি ফিলিস্তিনের বন্ধু হতো তাহলে ইরানকে আর্থিকভাবে গোপনে সহযোগিতা করলেও ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়ে যেত। ২০২৫ এ কাতারের দোহায় আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার কথা বলে ওখানে ইসরায়েল কে দিয়ে বোম্বিং করিয়েছে। তখন সবাই মোবাইল রেখে নামাজে যাওয়ায় রক্ষা। নাহয় আজকে ইরানের হয়ে কথা বলার কেউ থাকত না।

সিরিয়া নিয়ে অনেকের ভুল ধারনা বর্তমান। বিশেষ করে বাশার আল আসাদ শীয়া তাই ওর বিরুধীতা করা সুন্নীদের জন্য ফরজ। পুতিন আর ইরান ওকে সাহায্য করে কারন তারা মুসলিম বিরুধী। অদ্ভুত! আসাদ বহুবছর থেকেই ইসরায়েল আর আমেরিকা বিরুধী। আসাদ গোপনে পরমানু বোমা তৈরির সব বন্দোবস্ত করেছিলো। কিন্তু আমাদের সুন্নী রাজতন্ত্র টেকানোর জন্য বেঈমানী করে তথ্য তুলে দিলো আমেরিকা আর ইজরায়েলের হাতে। ব্যাস! বোম্বিং করে পরমানু স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হলো।

তারপর শিয়া সুন্নীর ধোয়া তুলো দুই যুগ আসাদকে কোনঠাসা করা হলো। শেষমেশ আসাদ পালিয়ে বাচলো। সিরিয়ায় এই সুযোগে দুই দশক আমেরিকা ইসরায়েল তুরস্ক বোম্বিং করলো। তুরস্ক সরকার বিরুধী কুর্দিদের নির্বিচারে হত্যা করলো। পৃথিবীর কোথাও কোন মুসলিম আওয়াজ তুললো না। অথচ কুর্দিরা একটি স্বাধীন দেশের জন্য বহুবছর ধরে লড়াই করছে। গত রমজানে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ৭০ হাজার মুসলিমকে হত্যা করলো। এক ইরান ছাড়া কেউ আওয়াজ তুললো না। বাহ! সেই যুদ্ধের সব রসদ ইসরায়েলকে দিয়েছে তুরস্ক। বোকা মুসলিম! আর কবে ঘুম ভাংবে তোমাদের?

ধর্ম মানুষকে এক করতে পারে। তবে রাস্ট্র চালাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ভৌগোলিক জ্ঞান আর সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। যা যুদ্ধের ময়দানেও জয় পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমগন আরামে আয়াশে মত্ত। তাদের কানে সুদানের নারী শিশুর কান্না পৌছায় না। পোড়া লাশের গন্ধ তাদের ব্যবহৃত আতরের ঘ্রানে উবে যায়। সিরিয়ার শিশুদের মাটি আর ঘাস খেয়ে বেচে থাকা তাদের টনক নারাতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার। ফিলিস্তিনের নারী শিশুর চিৎকারে ওদের ঘুম ভাঙ্গে না। মিয়ানমারের লক্ষ লক্ষ মুসলিম হত্যার বিচার চেয়ে আরবরা আজও একটি বিবৃতি দিতে পারে না। কি লাভ এমন সংখ্যাধ্যিক্য মুসলিম হয়ে?

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে ৮সহস্রাধিক গার্মেন্টস কর্মী ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ

বিশ্ব আবারও এক অনিশ্চিত মোড়ে—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি কেবল সময়ের অপেক্ষা?

আপডেট সময় : 01:33:56 pm, Tuesday, 14 April 2026

জহিরুল ইসলাম খান, কলামিস্ট:

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

হচ্ছে না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ! খুব দ্রুতই আমেরিকা সটকে পড়ছে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে। ইরানের সব শর্তে রাজী হয়ে নাকে খদ দিয়ে পালাবে এক সপ্তাহের মধ্যে। আমেরিকা কিংবা ইসরায়েল কেউই পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করবে না ইরানের বিরুদ্ধে। তাহলে রাশিয়া চীন আমেরিকাকে সমূলে উৎখাতের এই সূবর্ন সুযোগ হাতছাড়া করবে না। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে এটা নিশ্চিত। তবে এর জন্য আরো কমপক্ষে ২০-৩০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাশক্তি হবে চীন।

আমেরিকার হিসেবে বড় ধরনের ভুল হয়ে গেছে এবার। সামান্য হরমুজ বন্ধেই ওদের ত্রাহী অবস্থা। হুথিরা বাব আল মানদেব বন্ধ করলে পথে বসতে হবে ওদের। কারন গতবছর হুথিরা এই প্রনালী বন্ধ করে দিলে আমেরিকা হুথিদের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হয়। হুথিরা শক্তিমত্তায় হিজবুল্লাহ থেকে শক্তিশালী। বলা হয়ে থাকে হুথিদের কাছে ব্যালাস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি আছে যা হিজবুল্লাহর কাছে নেই। তার উপর নিজ দেশেই লক্ষ লক্ষ জনতা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে রাস্তায় রাস্তায়। এই আমেরিকান জনগনকেই বা কি বলবো এত ভালোই যদি হবে ট্রাম্পের মত একটা মাথা মোটা গর্ধবকে দ্বিতীয়বার কেন ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়।

এই যুদ্ধের ব্যপ্তি বিশাল। প্রথমত আমেরিকার একক আধিপত্যের পতন হবে। সৃষ্টি হবে বহুমাত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা। যেখানে নেতৃত্ব দিবে চীন রাশিয়া আর মুসলিম বিশ্ব থেকে ইরান। অবাক লাগছে? অবাক হওয়ারই কথা। কারন আমরা আমেরিকার প্রভুত্ব দেখে অভ্যস্থ হয়ে গেছি। ওরা যখন যা খুশি করবে সেটাই আন্তর্জাতিক আইন। প্রথমে ওসামা বিন লাদেন, তারপর একে একে সাদ্দাম, ২০২১ সালে কাসেম সোলায়মানীকে হত্যা, শেষমেষ খামেনী। তবুও কি থামবে?

ইউরোপ, আমেরিকা, ইসরায়েল পারমানবিক শক্তিধর হতে পারবে। কিন্তু ইরানের বেলায় IEAE এর সদস্য হতে হবে। IEAE কে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে ইরানের ইউরেনিয়াম পরিশোধনের উপর যেন ঠিক ঠাক খবরদারী করতে পারে। তাতেও যদি রক্ষা হতো! সেই পুরনো বুলি ইরান আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পারমানবিক বোমা তৈরি করছে।

এই একই বাক্য জুনিয়র বুশ থেকে শুরু করে বর্তমান ট্রাম্প সবাই বলেছে। কিন্তু প্রমান? দরকার নাই! যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা মিডিয়া বড় হেডলাইন করবে। মিত্র দেশগুলো আহলান সাহলান বলে আমেরিকাকে ডেকে আনবে। প্রভু হয়ে ওদের রাজতন্ত্র রক্ষা করতে। এটাই হয়েছে বারবার। আফগানিস্তান যুদ্ধের সকল ব্যয়ভার বহন করেছে সৌদি আরব। আর ইরাক যুদ্ধের ব্যয় কাতার। শুধু তাই নয় পরবর্তীতে আইএসআইএস তৈরী করতে সব অর্থ দিয়ে ওবামাকে সাহায্য করেছে কাতার।

অনেকে ভাবতে পারেন কাতার ইসরায়েল পরিপন্থী হামাসের বন্ধু। আল-জাজিরা ২৪ ঘন্টা আমেরিকা বিরুধী বয়ান তৈরী করে ইত্যাদি। আফসোস। কাতার দুই ফ্রন্টের সমান খেলোয়াড়। যদি সত্যি ফিলিস্তিনের বন্ধু হতো তাহলে ইরানকে আর্থিকভাবে গোপনে সহযোগিতা করলেও ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়ে যেত। ২০২৫ এ কাতারের দোহায় আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার কথা বলে ওখানে ইসরায়েল কে দিয়ে বোম্বিং করিয়েছে। তখন সবাই মোবাইল রেখে নামাজে যাওয়ায় রক্ষা। নাহয় আজকে ইরানের হয়ে কথা বলার কেউ থাকত না।

সিরিয়া নিয়ে অনেকের ভুল ধারনা বর্তমান। বিশেষ করে বাশার আল আসাদ শীয়া তাই ওর বিরুধীতা করা সুন্নীদের জন্য ফরজ। পুতিন আর ইরান ওকে সাহায্য করে কারন তারা মুসলিম বিরুধী। অদ্ভুত! আসাদ বহুবছর থেকেই ইসরায়েল আর আমেরিকা বিরুধী। আসাদ গোপনে পরমানু বোমা তৈরির সব বন্দোবস্ত করেছিলো। কিন্তু আমাদের সুন্নী রাজতন্ত্র টেকানোর জন্য বেঈমানী করে তথ্য তুলে দিলো আমেরিকা আর ইজরায়েলের হাতে। ব্যাস! বোম্বিং করে পরমানু স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হলো।

তারপর শিয়া সুন্নীর ধোয়া তুলো দুই যুগ আসাদকে কোনঠাসা করা হলো। শেষমেশ আসাদ পালিয়ে বাচলো। সিরিয়ায় এই সুযোগে দুই দশক আমেরিকা ইসরায়েল তুরস্ক বোম্বিং করলো। তুরস্ক সরকার বিরুধী কুর্দিদের নির্বিচারে হত্যা করলো। পৃথিবীর কোথাও কোন মুসলিম আওয়াজ তুললো না। অথচ কুর্দিরা একটি স্বাধীন দেশের জন্য বহুবছর ধরে লড়াই করছে। গত রমজানে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ৭০ হাজার মুসলিমকে হত্যা করলো। এক ইরান ছাড়া কেউ আওয়াজ তুললো না। বাহ! সেই যুদ্ধের সব রসদ ইসরায়েলকে দিয়েছে তুরস্ক। বোকা মুসলিম! আর কবে ঘুম ভাংবে তোমাদের?

ধর্ম মানুষকে এক করতে পারে। তবে রাস্ট্র চালাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ভৌগোলিক জ্ঞান আর সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। যা যুদ্ধের ময়দানেও জয় পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমগন আরামে আয়াশে মত্ত। তাদের কানে সুদানের নারী শিশুর কান্না পৌছায় না। পোড়া লাশের গন্ধ তাদের ব্যবহৃত আতরের ঘ্রানে উবে যায়। সিরিয়ার শিশুদের মাটি আর ঘাস খেয়ে বেচে থাকা তাদের টনক নারাতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার। ফিলিস্তিনের নারী শিশুর চিৎকারে ওদের ঘুম ভাঙ্গে না। মিয়ানমারের লক্ষ লক্ষ মুসলিম হত্যার বিচার চেয়ে আরবরা আজও একটি বিবৃতি দিতে পারে না। কি লাভ এমন সংখ্যাধ্যিক্য মুসলিম হয়ে?