Dhaka , Wednesday, 16 September 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছায় স্বাস্থ্যসেবায় গতিশীলতা আনতে সমন্বয় সভা চন্দনাইশ থানায় সাফল্যের স্বীকৃতি, বিশেষ পুরস্কার পেলেন ওসি দিদারুল রূপগঞ্জে কৃষকদলের খসড়া কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদ জেলা কৃষক দলের সংবাদ সম্মেলন সিডিএর ভবিষ্যৎ প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগের আগ্রহ মাতারবাড়ী বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও টেকসই নগর উন্নয়নেও অংশীদারত্বের সম্ভাবনা স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে পানিবন্দী মানুষের পাশে খাদ্য সহায়তা নিয়ে এমপি সাঈদ আসলাম পাইকগাছায় মাপে চাল কম দেওয়ায় দুই ডিলারকে জরিমানা ‘ঝাড়ুদারের চাকরি পাওয়ারও যোগ্যতা নেই তোমার’— রাখি সাওয়ান্তকে কঙ্গনা দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন? বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর ট্রাম্পের কঠোর নীতি আটকে দিলেন আদালত রাউজান থানা এলাকা হতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ০১ টি দেশীয় তৈরি এলজি শুটার গান ও ০২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় স্বর্ণ, বাড়বে দাম? ‘জন্ম বাংলাদেশে, তবুও তাদের মন কেন পাকিস্তান পাকিস্তান করে?’ হেলপার চালাচ্ছিল বাস, খাদে পড়ে আহত ১০ মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের এসএসসির খাতা দেখায় গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী “দলমত নির্বিশেষে আমরা জনগণের সেবক- মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা” এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল। ইবিতে অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ ও সিট বরাদ্দে শিবিরের ৮ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন আমড়া বিক্রি করে জীবিকা ও পড়ার খরচ জুগিয়ে নজর কাড়ছে ধর্মপাশার দুই শিশু গাজীপুরের সিনিয়র আইনজীবী আতাউর রহমান আকাশ আর নেই ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে সিলেট সিটি অনলাইন প্রেসক্লাবের আনন্দ ভ্রমণ মধুপুরে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রাজনগরে বিএনপির ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি, আনন্দ র‍্যালি ও মিষ্টি বিতরণ শ্রীপুরে মহিলা এমপি’র মতবিনিময় ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ হাতিয়ায় ফের শ্রেণি কক্ষে অসুস্থ ২১ শিক্ষার্থী বেতাগীতে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শর্টসার্কিটে আগুন আতঙ্ক, ১৫ শিক্ষার্থী আহত মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়: যুবকদের খেলার মাঠে ফেরাতে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগ মধুপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে বাড়ির আঙিনায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী রূপগঞ্জে ১৮৪ বোতল স্কাফসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

বিশ্ব আবারও এক অনিশ্চিত মোড়ে—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি কেবল সময়ের অপেক্ষা?

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:33:56 pm, Tuesday, 14 April 2026
  • 271 বার পড়া হয়েছে

জহিরুল ইসলাম খান, কলামিস্ট:

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

হচ্ছে না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ! খুব দ্রুতই আমেরিকা সটকে পড়ছে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে। ইরানের সব শর্তে রাজী হয়ে নাকে খদ দিয়ে পালাবে এক সপ্তাহের মধ্যে। আমেরিকা কিংবা ইসরায়েল কেউই পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করবে না ইরানের বিরুদ্ধে। তাহলে রাশিয়া চীন আমেরিকাকে সমূলে উৎখাতের এই সূবর্ন সুযোগ হাতছাড়া করবে না। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে এটা নিশ্চিত। তবে এর জন্য আরো কমপক্ষে ২০-৩০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাশক্তি হবে চীন।

আমেরিকার হিসেবে বড় ধরনের ভুল হয়ে গেছে এবার। সামান্য হরমুজ বন্ধেই ওদের ত্রাহী অবস্থা। হুথিরা বাব আল মানদেব বন্ধ করলে পথে বসতে হবে ওদের। কারন গতবছর হুথিরা এই প্রনালী বন্ধ করে দিলে আমেরিকা হুথিদের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হয়। হুথিরা শক্তিমত্তায় হিজবুল্লাহ থেকে শক্তিশালী। বলা হয়ে থাকে হুথিদের কাছে ব্যালাস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি আছে যা হিজবুল্লাহর কাছে নেই। তার উপর নিজ দেশেই লক্ষ লক্ষ জনতা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে রাস্তায় রাস্তায়। এই আমেরিকান জনগনকেই বা কি বলবো এত ভালোই যদি হবে ট্রাম্পের মত একটা মাথা মোটা গর্ধবকে দ্বিতীয়বার কেন ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়।

এই যুদ্ধের ব্যপ্তি বিশাল। প্রথমত আমেরিকার একক আধিপত্যের পতন হবে। সৃষ্টি হবে বহুমাত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা। যেখানে নেতৃত্ব দিবে চীন রাশিয়া আর মুসলিম বিশ্ব থেকে ইরান। অবাক লাগছে? অবাক হওয়ারই কথা। কারন আমরা আমেরিকার প্রভুত্ব দেখে অভ্যস্থ হয়ে গেছি। ওরা যখন যা খুশি করবে সেটাই আন্তর্জাতিক আইন। প্রথমে ওসামা বিন লাদেন, তারপর একে একে সাদ্দাম, ২০২১ সালে কাসেম সোলায়মানীকে হত্যা, শেষমেষ খামেনী। তবুও কি থামবে?

ইউরোপ, আমেরিকা, ইসরায়েল পারমানবিক শক্তিধর হতে পারবে। কিন্তু ইরানের বেলায় IEAE এর সদস্য হতে হবে। IEAE কে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে ইরানের ইউরেনিয়াম পরিশোধনের উপর যেন ঠিক ঠাক খবরদারী করতে পারে। তাতেও যদি রক্ষা হতো! সেই পুরনো বুলি ইরান আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পারমানবিক বোমা তৈরি করছে।

এই একই বাক্য জুনিয়র বুশ থেকে শুরু করে বর্তমান ট্রাম্প সবাই বলেছে। কিন্তু প্রমান? দরকার নাই! যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা মিডিয়া বড় হেডলাইন করবে। মিত্র দেশগুলো আহলান সাহলান বলে আমেরিকাকে ডেকে আনবে। প্রভু হয়ে ওদের রাজতন্ত্র রক্ষা করতে। এটাই হয়েছে বারবার। আফগানিস্তান যুদ্ধের সকল ব্যয়ভার বহন করেছে সৌদি আরব। আর ইরাক যুদ্ধের ব্যয় কাতার। শুধু তাই নয় পরবর্তীতে আইএসআইএস তৈরী করতে সব অর্থ দিয়ে ওবামাকে সাহায্য করেছে কাতার।

অনেকে ভাবতে পারেন কাতার ইসরায়েল পরিপন্থী হামাসের বন্ধু। আল-জাজিরা ২৪ ঘন্টা আমেরিকা বিরুধী বয়ান তৈরী করে ইত্যাদি। আফসোস। কাতার দুই ফ্রন্টের সমান খেলোয়াড়। যদি সত্যি ফিলিস্তিনের বন্ধু হতো তাহলে ইরানকে আর্থিকভাবে গোপনে সহযোগিতা করলেও ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়ে যেত। ২০২৫ এ কাতারের দোহায় আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার কথা বলে ওখানে ইসরায়েল কে দিয়ে বোম্বিং করিয়েছে। তখন সবাই মোবাইল রেখে নামাজে যাওয়ায় রক্ষা। নাহয় আজকে ইরানের হয়ে কথা বলার কেউ থাকত না।

সিরিয়া নিয়ে অনেকের ভুল ধারনা বর্তমান। বিশেষ করে বাশার আল আসাদ শীয়া তাই ওর বিরুধীতা করা সুন্নীদের জন্য ফরজ। পুতিন আর ইরান ওকে সাহায্য করে কারন তারা মুসলিম বিরুধী। অদ্ভুত! আসাদ বহুবছর থেকেই ইসরায়েল আর আমেরিকা বিরুধী। আসাদ গোপনে পরমানু বোমা তৈরির সব বন্দোবস্ত করেছিলো। কিন্তু আমাদের সুন্নী রাজতন্ত্র টেকানোর জন্য বেঈমানী করে তথ্য তুলে দিলো আমেরিকা আর ইজরায়েলের হাতে। ব্যাস! বোম্বিং করে পরমানু স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হলো।

তারপর শিয়া সুন্নীর ধোয়া তুলো দুই যুগ আসাদকে কোনঠাসা করা হলো। শেষমেশ আসাদ পালিয়ে বাচলো। সিরিয়ায় এই সুযোগে দুই দশক আমেরিকা ইসরায়েল তুরস্ক বোম্বিং করলো। তুরস্ক সরকার বিরুধী কুর্দিদের নির্বিচারে হত্যা করলো। পৃথিবীর কোথাও কোন মুসলিম আওয়াজ তুললো না। অথচ কুর্দিরা একটি স্বাধীন দেশের জন্য বহুবছর ধরে লড়াই করছে। গত রমজানে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ৭০ হাজার মুসলিমকে হত্যা করলো। এক ইরান ছাড়া কেউ আওয়াজ তুললো না। বাহ! সেই যুদ্ধের সব রসদ ইসরায়েলকে দিয়েছে তুরস্ক। বোকা মুসলিম! আর কবে ঘুম ভাংবে তোমাদের?

ধর্ম মানুষকে এক করতে পারে। তবে রাস্ট্র চালাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ভৌগোলিক জ্ঞান আর সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। যা যুদ্ধের ময়দানেও জয় পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমগন আরামে আয়াশে মত্ত। তাদের কানে সুদানের নারী শিশুর কান্না পৌছায় না। পোড়া লাশের গন্ধ তাদের ব্যবহৃত আতরের ঘ্রানে উবে যায়। সিরিয়ার শিশুদের মাটি আর ঘাস খেয়ে বেচে থাকা তাদের টনক নারাতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার। ফিলিস্তিনের নারী শিশুর চিৎকারে ওদের ঘুম ভাঙ্গে না। মিয়ানমারের লক্ষ লক্ষ মুসলিম হত্যার বিচার চেয়ে আরবরা আজও একটি বিবৃতি দিতে পারে না। কি লাভ এমন সংখ্যাধ্যিক্য মুসলিম হয়ে?

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় স্বাস্থ্যসেবায় গতিশীলতা আনতে সমন্বয় সভা

বিশ্ব আবারও এক অনিশ্চিত মোড়ে—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি কেবল সময়ের অপেক্ষা?

আপডেট সময় : 01:33:56 pm, Tuesday, 14 April 2026

জহিরুল ইসলাম খান, কলামিস্ট:

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

হচ্ছে না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ! খুব দ্রুতই আমেরিকা সটকে পড়ছে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে। ইরানের সব শর্তে রাজী হয়ে নাকে খদ দিয়ে পালাবে এক সপ্তাহের মধ্যে। আমেরিকা কিংবা ইসরায়েল কেউই পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করবে না ইরানের বিরুদ্ধে। তাহলে রাশিয়া চীন আমেরিকাকে সমূলে উৎখাতের এই সূবর্ন সুযোগ হাতছাড়া করবে না। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে এটা নিশ্চিত। তবে এর জন্য আরো কমপক্ষে ২০-৩০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাশক্তি হবে চীন।

আমেরিকার হিসেবে বড় ধরনের ভুল হয়ে গেছে এবার। সামান্য হরমুজ বন্ধেই ওদের ত্রাহী অবস্থা। হুথিরা বাব আল মানদেব বন্ধ করলে পথে বসতে হবে ওদের। কারন গতবছর হুথিরা এই প্রনালী বন্ধ করে দিলে আমেরিকা হুথিদের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হয়। হুথিরা শক্তিমত্তায় হিজবুল্লাহ থেকে শক্তিশালী। বলা হয়ে থাকে হুথিদের কাছে ব্যালাস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি আছে যা হিজবুল্লাহর কাছে নেই। তার উপর নিজ দেশেই লক্ষ লক্ষ জনতা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে রাস্তায় রাস্তায়। এই আমেরিকান জনগনকেই বা কি বলবো এত ভালোই যদি হবে ট্রাম্পের মত একটা মাথা মোটা গর্ধবকে দ্বিতীয়বার কেন ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়।

এই যুদ্ধের ব্যপ্তি বিশাল। প্রথমত আমেরিকার একক আধিপত্যের পতন হবে। সৃষ্টি হবে বহুমাত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা। যেখানে নেতৃত্ব দিবে চীন রাশিয়া আর মুসলিম বিশ্ব থেকে ইরান। অবাক লাগছে? অবাক হওয়ারই কথা। কারন আমরা আমেরিকার প্রভুত্ব দেখে অভ্যস্থ হয়ে গেছি। ওরা যখন যা খুশি করবে সেটাই আন্তর্জাতিক আইন। প্রথমে ওসামা বিন লাদেন, তারপর একে একে সাদ্দাম, ২০২১ সালে কাসেম সোলায়মানীকে হত্যা, শেষমেষ খামেনী। তবুও কি থামবে?

ইউরোপ, আমেরিকা, ইসরায়েল পারমানবিক শক্তিধর হতে পারবে। কিন্তু ইরানের বেলায় IEAE এর সদস্য হতে হবে। IEAE কে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে ইরানের ইউরেনিয়াম পরিশোধনের উপর যেন ঠিক ঠাক খবরদারী করতে পারে। তাতেও যদি রক্ষা হতো! সেই পুরনো বুলি ইরান আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পারমানবিক বোমা তৈরি করছে।

এই একই বাক্য জুনিয়র বুশ থেকে শুরু করে বর্তমান ট্রাম্প সবাই বলেছে। কিন্তু প্রমান? দরকার নাই! যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা মিডিয়া বড় হেডলাইন করবে। মিত্র দেশগুলো আহলান সাহলান বলে আমেরিকাকে ডেকে আনবে। প্রভু হয়ে ওদের রাজতন্ত্র রক্ষা করতে। এটাই হয়েছে বারবার। আফগানিস্তান যুদ্ধের সকল ব্যয়ভার বহন করেছে সৌদি আরব। আর ইরাক যুদ্ধের ব্যয় কাতার। শুধু তাই নয় পরবর্তীতে আইএসআইএস তৈরী করতে সব অর্থ দিয়ে ওবামাকে সাহায্য করেছে কাতার।

অনেকে ভাবতে পারেন কাতার ইসরায়েল পরিপন্থী হামাসের বন্ধু। আল-জাজিরা ২৪ ঘন্টা আমেরিকা বিরুধী বয়ান তৈরী করে ইত্যাদি। আফসোস। কাতার দুই ফ্রন্টের সমান খেলোয়াড়। যদি সত্যি ফিলিস্তিনের বন্ধু হতো তাহলে ইরানকে আর্থিকভাবে গোপনে সহযোগিতা করলেও ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়ে যেত। ২০২৫ এ কাতারের দোহায় আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার কথা বলে ওখানে ইসরায়েল কে দিয়ে বোম্বিং করিয়েছে। তখন সবাই মোবাইল রেখে নামাজে যাওয়ায় রক্ষা। নাহয় আজকে ইরানের হয়ে কথা বলার কেউ থাকত না।

সিরিয়া নিয়ে অনেকের ভুল ধারনা বর্তমান। বিশেষ করে বাশার আল আসাদ শীয়া তাই ওর বিরুধীতা করা সুন্নীদের জন্য ফরজ। পুতিন আর ইরান ওকে সাহায্য করে কারন তারা মুসলিম বিরুধী। অদ্ভুত! আসাদ বহুবছর থেকেই ইসরায়েল আর আমেরিকা বিরুধী। আসাদ গোপনে পরমানু বোমা তৈরির সব বন্দোবস্ত করেছিলো। কিন্তু আমাদের সুন্নী রাজতন্ত্র টেকানোর জন্য বেঈমানী করে তথ্য তুলে দিলো আমেরিকা আর ইজরায়েলের হাতে। ব্যাস! বোম্বিং করে পরমানু স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হলো।

তারপর শিয়া সুন্নীর ধোয়া তুলো দুই যুগ আসাদকে কোনঠাসা করা হলো। শেষমেশ আসাদ পালিয়ে বাচলো। সিরিয়ায় এই সুযোগে দুই দশক আমেরিকা ইসরায়েল তুরস্ক বোম্বিং করলো। তুরস্ক সরকার বিরুধী কুর্দিদের নির্বিচারে হত্যা করলো। পৃথিবীর কোথাও কোন মুসলিম আওয়াজ তুললো না। অথচ কুর্দিরা একটি স্বাধীন দেশের জন্য বহুবছর ধরে লড়াই করছে। গত রমজানে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ৭০ হাজার মুসলিমকে হত্যা করলো। এক ইরান ছাড়া কেউ আওয়াজ তুললো না। বাহ! সেই যুদ্ধের সব রসদ ইসরায়েলকে দিয়েছে তুরস্ক। বোকা মুসলিম! আর কবে ঘুম ভাংবে তোমাদের?

ধর্ম মানুষকে এক করতে পারে। তবে রাস্ট্র চালাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ভৌগোলিক জ্ঞান আর সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। যা যুদ্ধের ময়দানেও জয় পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমগন আরামে আয়াশে মত্ত। তাদের কানে সুদানের নারী শিশুর কান্না পৌছায় না। পোড়া লাশের গন্ধ তাদের ব্যবহৃত আতরের ঘ্রানে উবে যায়। সিরিয়ার শিশুদের মাটি আর ঘাস খেয়ে বেচে থাকা তাদের টনক নারাতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার। ফিলিস্তিনের নারী শিশুর চিৎকারে ওদের ঘুম ভাঙ্গে না। মিয়ানমারের লক্ষ লক্ষ মুসলিম হত্যার বিচার চেয়ে আরবরা আজও একটি বিবৃতি দিতে পারে না। কি লাভ এমন সংখ্যাধ্যিক্য মুসলিম হয়ে?