Dhaka , Tuesday, 4 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছা-কয়রাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবো-এমপি ফাহমিদা হক মতলব উত্তরে থামছেই না চুরি, এক রাতে উধাও আরও ৪ ট্রান্সফরমার বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল আশা সিমেন্ট গাজীপুরে রোটারি ক্লাব অব ভাওয়ালের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নোয়াখালীতে পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে অটোচালকের মৃত্যু নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পুকুর থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার  ইবিতে শহীদ আনাসের লেখা চিঠির স্মৃতিফলক উন্মোচন এমপি লুৎফুর রহমান কাজলের সঙ্গে রামু ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ কাউখালীতে গাঁজা-ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, কাউখালীতে ৩০ কেজি নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ জব্দ, এতিমখানায় বিতরণ বস্তুনিষ্ঠতাই সঠিক সাংবাদিকতার মানদণ্ড: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী হলেই জুলাই শহীদদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রে বড় আঘাত; আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগীসহ গ্রেফতার ০২, উদ্ধার বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি গ্যাসের স্বল্পচাপে উৎপাদন ব্যাহত, রান্নার চুলা নিভু নিভু টক্সিকে যশ–কিয়ারার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সমালোচনা, কড়া জবাব হুমা কুরেশির ভারতীয় দলে ডাক পাওয়া কে এই আকিব নবি জ্বালানির দাম বাড়তেই যুক্তরাজ্যে চুরির হিড়িক, প্রতিদিন উধাও ৩ কোটি টাকার তেল জনতাসহ সরকারি সব ব্যাংকে নিয়মিত পদোন্নতির দাবি বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল দুবাইয়ে বেনজীরের জামিন নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি; চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চন্দনাইশে মাদকসহ আটক দুই তরুণকে রাজনৈতিক মামলায় চালান ​পীরগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযান: মাদক ও যানবাহনসহ গ্রেফতার ১, পলাতকদের খোঁজে তৎপরতা মধুপুরের ব্যস্ততম সাথী সিনেমা হল সড়ক এখন মরণফাঁদ, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রামু গর্জনিয়াতে শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ করলেন ইউএনও জিল্লুর রহমান রামুতে ইট প্রস্তুতকারক সমিতির নতুন কমিটি গঠন; সভাপতি রফিক, সম্পাদক জামাল লোহাগাড়ায় সাদিয়া-ইভার প্রাইভেটকারে গোপন চেম্বারে তল্লাশি চালিয়ে ১৬ হাজার ইয়াবা; আটক ৪ রূপগঞ্জের নারী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র সহিতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে নতুন অধ্যক্ষের যোগদান

ত্যাগ সংগ্রাম ও সাহসের অনন্য দৃষ্টান্ত এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:33:08 pm, Saturday, 28 February 2026
  • 92 বার পড়া হয়েছে

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

রাজপথ আদালত ও মানবাধিকারের লড়াইয়ে আপোষহীন এক জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব এডভোকেট কানিজ কাউসার।

চট্টগ্রামের কাট্টলীর ঐতিহ্যবাহী নাজির বাড়ী শুধু একটি বসতভিটা নয়,এটি একটি ইতিহাস,একটি আদর্শিক ধারার উত্তরাধিকার।সেই পরিবারেরই কন্যা এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী আজ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অঙ্গনে সাহসী,দৃঢ়চেতা এবং আপসহীন এক কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।তিনি এমন এক পরিবারে জন্ম নিয়েছেন যেখানে রাজনীতি ছিল দায়বদ্ধতার নাম,দেশপ্রেম ছিল বিশ্বাসের ভিত্তি,আর সংগ্রাম ছিল প্রতিদিনের বাস্তবতা।ভাষা সৈনিক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ,সমাজসেবক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বদিউল আলম চৌধুরীর আদর্শিক উত্তরসূরি হিসেবে তিনি ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন কিভাবে অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে দাঁড়াতে হয়।তার মাতা মরহুমা লুৎফা বেগম সুরাইয়া চৌধুরী ছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ডেমুশিয়া জমিদার পরিবারের কন্যা, রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং দৃঢ়চেতা এক নারী। পারিবারিক ঐতিহ্য,রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে কানিজ কাউসার চৌধুরীর ব্যক্তিত্ব।

ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনজন সরাসরি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।বড় বোন ডঃ নাজনীন কাউসার চৌধুরী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন।বড় ভাই আহমেদ উল আলম চৌধুরী ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্বে আছেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।ছোট ভাই মাহমুদ উল আলম চৌধুরী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অর্থ সম্পাদক এবং মহানগর যুবদলের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।পরিবারটি কেবল রাজনৈতিকভাবে পরিচিত নয়,তারা প্রতিকূল সময়ে পরীক্ষিত,সংকটে অবিচল এবং আদর্শে দৃঢ়।

শিক্ষাজীবনে এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী ছিলেন মেধাবী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ।১৯৯১ সালে সেন্ট স্কলাস্টিকা গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি,১৯৯৩ সালে সরকারি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি,১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন।২০০২ সালের ২৯ জানুয়ারি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে টানা ২৪ বছর ধরে আইন পেশায় সক্রিয় আছেন।

তিনি আদালতে এজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।আইন তার কাছে শুধু জীবিকা নয়,ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটি দৃঢ় হাতিয়ার।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন। চট্টগ্রাম আইন কলেজে ছাত্রদলের মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছাত্রদলের পক্ষে নির্বাচন করেন।১৯৯৫ সালে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন জিসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং চট্টগ্রাম মহানগর জিসাসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সংগঠন গড়ে তোলার কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় গণতন্ত্র মঞ্চে টানা পনের দিন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করেন। রাজনীতি তার কাছে ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, এটি বিশ্বাসের জায়গা, এটি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাথে তার সম্পৃক্ততা কেবল নামমাত্র নয়,কার্যকর ও দৃশ্যমান।গত সতের বছর ধরে রাজনৈতিক মামলা পরিচালনায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।২০০৬ সালে আইনজীবী ফোরামের প্যানেল থেকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং সর্বোচ্চ ভোটের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।১ ১১ পরিবর্তনের পর যখন বিএনপির ওপর দুঃসময়ের ছায়া নেমে আসে, তখন তিনি তার সিনিয়রের সহযোগী হিসেবে প্রতিটি রাজনৈতিক মামলায় সক্রিয় উপস্থিতি রাখেন।আদালত প্রাঙ্গণে ভয়ভীতি,চাপ,নজরদারি উপেক্ষা করে তিনি যুক্তি, আইনের ব্যাখ্যা এবং সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নেন।

২০১৭ সালে নয়াপল্টনে স্কাইপি সংলাপে অংশ নিতে যখন অনেকেই ভীত ছিলেন,তখন তার নেতৃত্বে চারজন মহিলা আইনজীবী সাহসিকতার সাথে অংশগ্রহণ করেন।২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেশনেত্রীর বেগম খালেদা জিয়া’র রায়ের দিন চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের বিক্ষোভে তিনি সম্মুখ সারিতে ছিলেন।গ্রেফতার হওয়া নেতাদের আইনি সহায়তায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মেয়র নির্বাচনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় একমাত্র মহিলা আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।রাজনৈতিক চাপের পরিবেশেও তিনি পিছু হটেননি।

জুলাই আন্দোলন তার জীবনের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রতিদিনের কর্মসূচিতে তিনি বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সম্মুখ সারিতে ছিলেন। ৩১ জুলাই মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচিতে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে আটজন আইনজীবী ব্যারিকেড তৈরি করেছিলেন, তিনি ছিলেন তাদের একজন। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে সারাদিন মাঠে ছিলেন। ৪ আগস্ট চট্টগ্রামে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ছাত্ররা যখন বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়,তখন আইনি সহায়তার তালিকায় তার নাম প্রথমে ছিল।তিনি উদ্যোগ নেন,সমন্বয় করেন,সহায়তা নিশ্চিত করেন।ঝুঁকি জেনেও পিছিয়ে যাননি।নিজের পরিবার বিপদে পড়তে পারে জেনেও দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। তার এই অবস্থান চট্টগ্রামের আইনজীবী সমাজ ও সাধারণ মানুষের কাছে গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি দুই শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মামলা বিনা ফিতে পরিচালনা করেছেন।লিগ্যাল এইড দিয়েছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করেছেন।মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির আজীবন সদস্য, চট্টগ্রাম কলেজ প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদের আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটার্স ফাউন্ডেশনের আকবর শাহ থানার সভাপতি, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিস সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য, চট্টগ্রাম কলেজ ফাউন্ডেশনের মানবাধিকার সম্পাদকসহ অসংখ্য সংগঠনে দায়িত্ব পালন করছেন।শিক্ষা, মানবাধিকার, সামাজিক উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

তিনি প্রমাণ করেছেন রাজনৈতিক পরিচয় মানে শুধু মিছিল নয়, দায়িত্বও। তিনি দেখিয়েছেন আইনজীবী মানে কেবল আদালত নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। তিনি দেখিয়েছেন নারীর নেতৃত্ব মানে প্রতীকী উপস্থিতি নয়, কার্যকর অবস্থান। দুর্দিনে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন না। ভীতির সময়ে তিনি নীরব ছিলেন না। চাপের সময়ে তিনি আপস করেননি। রাজপথে যেমন দৃঢ়, আদালতে তেমনি যুক্তিনির্ভর, অনলাইনে তেমনি স্পষ্টভাষী।

তার এবং তার পরিবারের ত্যাগ নিছক দাবি নয়, এটি প্রমাণিত ইতিহাস। বহুবার রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। নজরদারি, চাপ, ভয়ভীতি সবকিছুর মধ্যেও অবস্থান বদলাননি। তিনি জানেন আদর্শের পথ সহজ নয়। তবু তিনি সে পথেই হাঁটছেন। কারণ তার কাছে রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়, বিশ্বাস। তার কাছে আইন মানে সুবিধা নয়, ন্যায়। তার কাছে সংগ্রাম মানে প্রদর্শন নয়, দায়িত্ব।

আজ সময় এসেছে এই ত্যাগী, সাহসী, পরীক্ষিত নেতৃত্বের যথাযথ মূল্যায়ন করার। তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী নন, তিনি একটি ধারার প্রতিনিধি। তিনি এমন এক প্রজন্মের মুখ, যারা ভীতির সংস্কৃতি মানে না, অন্যায়ের সাথে আপস করে না, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে নীরব থাকে না।ইতিহাস যখন এই সময়কে মূল্যায়ন করবে,তখন প্রতিকূল সময়ে যারা সামনে দাঁড়িয়েছিল তাদের তালিকায় এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরীর নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।তিনি লড়েছেন,লড়ছেন এবং আদর্শের প্রশ্নে আপোষহীন থেকে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছা-কয়রাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবো-এমপি ফাহমিদা হক

ত্যাগ সংগ্রাম ও সাহসের অনন্য দৃষ্টান্ত এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী

আপডেট সময় : 01:33:08 pm, Saturday, 28 February 2026

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

রাজপথ আদালত ও মানবাধিকারের লড়াইয়ে আপোষহীন এক জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব এডভোকেট কানিজ কাউসার।

চট্টগ্রামের কাট্টলীর ঐতিহ্যবাহী নাজির বাড়ী শুধু একটি বসতভিটা নয়,এটি একটি ইতিহাস,একটি আদর্শিক ধারার উত্তরাধিকার।সেই পরিবারেরই কন্যা এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী আজ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অঙ্গনে সাহসী,দৃঢ়চেতা এবং আপসহীন এক কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।তিনি এমন এক পরিবারে জন্ম নিয়েছেন যেখানে রাজনীতি ছিল দায়বদ্ধতার নাম,দেশপ্রেম ছিল বিশ্বাসের ভিত্তি,আর সংগ্রাম ছিল প্রতিদিনের বাস্তবতা।ভাষা সৈনিক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ,সমাজসেবক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বদিউল আলম চৌধুরীর আদর্শিক উত্তরসূরি হিসেবে তিনি ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন কিভাবে অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে দাঁড়াতে হয়।তার মাতা মরহুমা লুৎফা বেগম সুরাইয়া চৌধুরী ছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ডেমুশিয়া জমিদার পরিবারের কন্যা, রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং দৃঢ়চেতা এক নারী। পারিবারিক ঐতিহ্য,রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে কানিজ কাউসার চৌধুরীর ব্যক্তিত্ব।

ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনজন সরাসরি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।বড় বোন ডঃ নাজনীন কাউসার চৌধুরী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন।বড় ভাই আহমেদ উল আলম চৌধুরী ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্বে আছেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।ছোট ভাই মাহমুদ উল আলম চৌধুরী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অর্থ সম্পাদক এবং মহানগর যুবদলের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।পরিবারটি কেবল রাজনৈতিকভাবে পরিচিত নয়,তারা প্রতিকূল সময়ে পরীক্ষিত,সংকটে অবিচল এবং আদর্শে দৃঢ়।

শিক্ষাজীবনে এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী ছিলেন মেধাবী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ।১৯৯১ সালে সেন্ট স্কলাস্টিকা গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি,১৯৯৩ সালে সরকারি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি,১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন।২০০২ সালের ২৯ জানুয়ারি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে টানা ২৪ বছর ধরে আইন পেশায় সক্রিয় আছেন।

তিনি আদালতে এজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।আইন তার কাছে শুধু জীবিকা নয়,ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটি দৃঢ় হাতিয়ার।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন। চট্টগ্রাম আইন কলেজে ছাত্রদলের মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছাত্রদলের পক্ষে নির্বাচন করেন।১৯৯৫ সালে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন জিসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং চট্টগ্রাম মহানগর জিসাসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সংগঠন গড়ে তোলার কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় গণতন্ত্র মঞ্চে টানা পনের দিন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করেন। রাজনীতি তার কাছে ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, এটি বিশ্বাসের জায়গা, এটি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাথে তার সম্পৃক্ততা কেবল নামমাত্র নয়,কার্যকর ও দৃশ্যমান।গত সতের বছর ধরে রাজনৈতিক মামলা পরিচালনায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।২০০৬ সালে আইনজীবী ফোরামের প্যানেল থেকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং সর্বোচ্চ ভোটের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।১ ১১ পরিবর্তনের পর যখন বিএনপির ওপর দুঃসময়ের ছায়া নেমে আসে, তখন তিনি তার সিনিয়রের সহযোগী হিসেবে প্রতিটি রাজনৈতিক মামলায় সক্রিয় উপস্থিতি রাখেন।আদালত প্রাঙ্গণে ভয়ভীতি,চাপ,নজরদারি উপেক্ষা করে তিনি যুক্তি, আইনের ব্যাখ্যা এবং সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নেন।

২০১৭ সালে নয়াপল্টনে স্কাইপি সংলাপে অংশ নিতে যখন অনেকেই ভীত ছিলেন,তখন তার নেতৃত্বে চারজন মহিলা আইনজীবী সাহসিকতার সাথে অংশগ্রহণ করেন।২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেশনেত্রীর বেগম খালেদা জিয়া’র রায়ের দিন চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের বিক্ষোভে তিনি সম্মুখ সারিতে ছিলেন।গ্রেফতার হওয়া নেতাদের আইনি সহায়তায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মেয়র নির্বাচনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় একমাত্র মহিলা আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।রাজনৈতিক চাপের পরিবেশেও তিনি পিছু হটেননি।

জুলাই আন্দোলন তার জীবনের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রতিদিনের কর্মসূচিতে তিনি বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সম্মুখ সারিতে ছিলেন। ৩১ জুলাই মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচিতে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে আটজন আইনজীবী ব্যারিকেড তৈরি করেছিলেন, তিনি ছিলেন তাদের একজন। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে সারাদিন মাঠে ছিলেন। ৪ আগস্ট চট্টগ্রামে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ছাত্ররা যখন বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়,তখন আইনি সহায়তার তালিকায় তার নাম প্রথমে ছিল।তিনি উদ্যোগ নেন,সমন্বয় করেন,সহায়তা নিশ্চিত করেন।ঝুঁকি জেনেও পিছিয়ে যাননি।নিজের পরিবার বিপদে পড়তে পারে জেনেও দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। তার এই অবস্থান চট্টগ্রামের আইনজীবী সমাজ ও সাধারণ মানুষের কাছে গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি দুই শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মামলা বিনা ফিতে পরিচালনা করেছেন।লিগ্যাল এইড দিয়েছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করেছেন।মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির আজীবন সদস্য, চট্টগ্রাম কলেজ প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদের আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটার্স ফাউন্ডেশনের আকবর শাহ থানার সভাপতি, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিস সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য, চট্টগ্রাম কলেজ ফাউন্ডেশনের মানবাধিকার সম্পাদকসহ অসংখ্য সংগঠনে দায়িত্ব পালন করছেন।শিক্ষা, মানবাধিকার, সামাজিক উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

তিনি প্রমাণ করেছেন রাজনৈতিক পরিচয় মানে শুধু মিছিল নয়, দায়িত্বও। তিনি দেখিয়েছেন আইনজীবী মানে কেবল আদালত নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। তিনি দেখিয়েছেন নারীর নেতৃত্ব মানে প্রতীকী উপস্থিতি নয়, কার্যকর অবস্থান। দুর্দিনে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন না। ভীতির সময়ে তিনি নীরব ছিলেন না। চাপের সময়ে তিনি আপস করেননি। রাজপথে যেমন দৃঢ়, আদালতে তেমনি যুক্তিনির্ভর, অনলাইনে তেমনি স্পষ্টভাষী।

তার এবং তার পরিবারের ত্যাগ নিছক দাবি নয়, এটি প্রমাণিত ইতিহাস। বহুবার রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। নজরদারি, চাপ, ভয়ভীতি সবকিছুর মধ্যেও অবস্থান বদলাননি। তিনি জানেন আদর্শের পথ সহজ নয়। তবু তিনি সে পথেই হাঁটছেন। কারণ তার কাছে রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়, বিশ্বাস। তার কাছে আইন মানে সুবিধা নয়, ন্যায়। তার কাছে সংগ্রাম মানে প্রদর্শন নয়, দায়িত্ব।

আজ সময় এসেছে এই ত্যাগী, সাহসী, পরীক্ষিত নেতৃত্বের যথাযথ মূল্যায়ন করার। তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী নন, তিনি একটি ধারার প্রতিনিধি। তিনি এমন এক প্রজন্মের মুখ, যারা ভীতির সংস্কৃতি মানে না, অন্যায়ের সাথে আপস করে না, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে নীরব থাকে না।ইতিহাস যখন এই সময়কে মূল্যায়ন করবে,তখন প্রতিকূল সময়ে যারা সামনে দাঁড়িয়েছিল তাদের তালিকায় এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরীর নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।তিনি লড়েছেন,লড়ছেন এবং আদর্শের প্রশ্নে আপোষহীন থেকে লড়াই চালিয়ে যাবেন।