Dhaka , Saturday, 9 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার চাঁদাবাজি মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার পাইকগাছায় বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস পালন সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: লালমনিরহাটে ১৫ বিজিবির বিশেষ সতর্কতা ও মাইকিং মাহমুদ ক্যালিগ্রাফি সেন্টারের আয়োজনে হয়ে গেলো ব্যতিক্রমধর্মী ক্যালিগ্রাফি আর্ট ক্যাম্প যুদ্ধ থামলে বদলে যাবে বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ: নতুন বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত রূপগঞ্জে রংতুলি ব্লাড ফাউন্ডেশনের ফ্রি ব্লাড গ্রুপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা ক্যাম্পিং চট্টগ্রামের মহেশখালীতে আশ বাজারের ১৬তম আউটলেট উদ্বোধন কে সি দে ইনস্টিটিউট অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় সাধারণ সম্পাদক হলেন সাবেক জেলা নাজির জামাল উদ্দিন জনগণই দেশের মালিক, তাদের সেবা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য:- প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি পদ পদবী নয়, দলের আদর্শ ধারণ করে জনগণের সেবাই প্রকৃত রাজনীতি:- ডা. শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীতে ৪২ বোতল বিদেশি মদসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেপ্তার স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন কুড়িগ্রামের তরুণীর চিকিৎসার নামে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার পলাশে ইয়াবাসহ যুবক আটক চবির ঐতিহ্যবাহী আলাওল হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক জামালুল আকবর চৌধুরী দুর্গাপুরে ‘মুসলিম হজ ট্যুরস’-এর হজযাত্রীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও উপহার প্রদান সম্ভাবনাময় সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র বাস্তবায়নে দ্রুত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দাবি সম্পূর্ণ কুতুবপুর ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি ও অবস্থান কর্মসূচি ফতুল্লায় পুলিশের অভিযানে বিপুল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ১ মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গুলাবারুদসহ ৪ জলদস্যু আটক চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দেড় হাজার মানুষের বিশাল যোগদান চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম’র দায়িত্বভার গ্রহণ রূপগঞ্জে খাল পুনঃখননের দাবিতে কৃষক-গ্রামবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ লালমনিরহাট সীমান্তে ১৫ বিজিবির অভিযানে মাদকসহ নারী কারবারি আটক রংপুর বিভাগের দুই জেলায় র‍্যাবের মাদকবিরোধী অভিযান: ৯৪ কেজি গাঁজা ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ ইসরাইলি বোমা হামলায় লেবাননে- নিহত দিপালীর লাশ নিজ বাড়ীতে- জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন। লক্ষ্মীপুরে বজ্রপাতে কোরআনে হাফেজার মৃত্যু সৌদি আরবে নিহত দুর্গাপুরের শ্রমিক আল আমিনের মরদেহ দেশে আনতে উদ্যোগ নিলেন ডেপুটি স্পিকার পাইকগাছায় খালে অবৈধ নেট পাটা অপসারণে প্রশাসনের অভিযান চট্টগ্রামের কর্মমুখী শিক্ষার মান উন্নয়নে কসোভোর সাথে কাজ করতে চান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত

আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর এখন চবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:41:14 pm, Thursday, 29 January 2026
  • 43 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রহমানকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে জারি করা এক আদেশ নোটিশে জানানো হয়, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ডিন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রহমান উক্ত অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে তার এই দায়িত্বভার কে কেন্দ্র করে জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থী সহ বিশ্ববিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্ট সচেতন ব্যক্তিত্বদের মাঝে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তথ্য রয়েছে, ২০১৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দলীয় প্রভাবের কারণে অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রহমানকে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন বলেও জানা গেছে।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও পদগুলো দলীয় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও অনুগতদের মধ্যেই বণ্টন করা হতো। অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রহমানও সেই ঘনিষ্ঠতার সূত্রে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের পরিচালকের মতো বড় দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা শিক্ষার্থীরা সহ অন্যান্য সচেতন মহল।

এছাড়াও, অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রহমান আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলেও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নানান ক্রিয়াশীল সংগঠন এবং জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। পূর্বে তিনি আওয়ামী পন্থী শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ভিন্নমতের শিক্ষকদের ওপর নানা ধরনের প্রভাব খাটাতেন বলেও দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাথে সংশ্লিষ্টরা।

সর্বোপরি, রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির দায়িত্ব গ্রহণকে মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দুইজন শিক্ষার্থী (শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন ও শহীদ হৃদয় চন্দ্র তড়ুয়া) শহীদ হন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন করে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এমন বাস্তবতায় একজন আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসরকে অনুষদের শীর্ষ দায়িত্বে বসানো কতটা যৌক্তিক তা প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়াও অনেকেই বলেছেন, যদি এখনো আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসররা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দখল করে নেন তাহলে জুলাই অভ্যুত্থানের মূল্য কোথায়!

এমতাবস্থায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিয়োগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রহমান অতীতের স্বৈরশাসনের একজন সমর্থক ও আদর্শিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের দাবি, তাকে ডিন পদে নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শিক দাপট আরও শক্তিশালী হবে এবং ভিন্নমত দমনের অপচেষ্টা সংহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়াও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের পক্ষ থেকে এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, সততা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও মুক্ত পরিবেশ রক্ষায় সব ধরনের দলীয় ও মতাদর্শিক দখলদারিত্ব বন্ধ করার দাবিসহ তারা মোট তিনটি দাবি উত্থাপন করেন।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমে জানান, ২০১৬ সালের পর তিনি সেখানে চাকরিতে আছেন কি না এ বিষয়ে সঠিক তথ্য আমার কাছে নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না কোনো ফ্যাসিবাদী মানসিকতার কেউ দায়িত্বে থাকুক। তবে তিনি ফ্যাসিবাদী সমর্থক কি না, রেজিস্ট্রার হিসেবে আমি তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. আবদুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর ছিলাম শিপিং কর্পোরেশনের। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন আমি কোনো দল করি কি না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মক্ষেত্রেই ছিলাম, কোথাও যাইনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান এ বিষয়ে বলেন, বর্তমান প্রশাসন কার্যত আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। তিনি জানান, ছাত্রদলের লক্ষ্য হলো ক্যাম্পাসসহ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে আওয়ামী লীগের দোসরমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ দাবিতে তারা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার চাঁদাবাজি মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর এখন চবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন

আপডেট সময় : 08:41:14 pm, Thursday, 29 January 2026

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রহমানকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে জারি করা এক আদেশ নোটিশে জানানো হয়, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ডিন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রহমান উক্ত অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে তার এই দায়িত্বভার কে কেন্দ্র করে জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থী সহ বিশ্ববিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্ট সচেতন ব্যক্তিত্বদের মাঝে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তথ্য রয়েছে, ২০১৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দলীয় প্রভাবের কারণে অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রহমানকে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন বলেও জানা গেছে।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও পদগুলো দলীয় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও অনুগতদের মধ্যেই বণ্টন করা হতো। অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রহমানও সেই ঘনিষ্ঠতার সূত্রে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের পরিচালকের মতো বড় দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা শিক্ষার্থীরা সহ অন্যান্য সচেতন মহল।

এছাড়াও, অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রহমান আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলেও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নানান ক্রিয়াশীল সংগঠন এবং জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। পূর্বে তিনি আওয়ামী পন্থী শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ভিন্নমতের শিক্ষকদের ওপর নানা ধরনের প্রভাব খাটাতেন বলেও দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাথে সংশ্লিষ্টরা।

সর্বোপরি, রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির দায়িত্ব গ্রহণকে মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দুইজন শিক্ষার্থী (শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন ও শহীদ হৃদয় চন্দ্র তড়ুয়া) শহীদ হন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন করে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এমন বাস্তবতায় একজন আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসরকে অনুষদের শীর্ষ দায়িত্বে বসানো কতটা যৌক্তিক তা প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়াও অনেকেই বলেছেন, যদি এখনো আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসররা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দখল করে নেন তাহলে জুলাই অভ্যুত্থানের মূল্য কোথায়!

এমতাবস্থায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিয়োগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রহমান অতীতের স্বৈরশাসনের একজন সমর্থক ও আদর্শিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের দাবি, তাকে ডিন পদে নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শিক দাপট আরও শক্তিশালী হবে এবং ভিন্নমত দমনের অপচেষ্টা সংহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়াও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের পক্ষ থেকে এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, সততা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও মুক্ত পরিবেশ রক্ষায় সব ধরনের দলীয় ও মতাদর্শিক দখলদারিত্ব বন্ধ করার দাবিসহ তারা মোট তিনটি দাবি উত্থাপন করেন।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমে জানান, ২০১৬ সালের পর তিনি সেখানে চাকরিতে আছেন কি না এ বিষয়ে সঠিক তথ্য আমার কাছে নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না কোনো ফ্যাসিবাদী মানসিকতার কেউ দায়িত্বে থাকুক। তবে তিনি ফ্যাসিবাদী সমর্থক কি না, রেজিস্ট্রার হিসেবে আমি তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. আবদুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর ছিলাম শিপিং কর্পোরেশনের। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন আমি কোনো দল করি কি না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মক্ষেত্রেই ছিলাম, কোথাও যাইনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান এ বিষয়ে বলেন, বর্তমান প্রশাসন কার্যত আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। তিনি জানান, ছাত্রদলের লক্ষ্য হলো ক্যাম্পাসসহ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে আওয়ামী লীগের দোসরমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ দাবিতে তারা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।