Dhaka , Saturday, 5 September 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সংবাদ প্রকাশের পর সাথী সিনেমা হলের সড়কে ইউএনও, নিম্নমানের খোয়া সরানোর নির্দেশ নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১৩   নোয়াখালীতে জবাইকৃত হরিণ উদ্ধার কালিয়াকৈরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ চন্দনাইশে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে এলাকাবাসীর অভিযোগ মধুপুরে সড়কের ঢালাই কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ পাইকগাছায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানে মনিরুল হাসান বাপ্পী কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান হেফাজতের বক্তব্যের প্রতিবাদে শরীয়তপুরে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের যোগদান দুর্গাপুরে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত কানাডার বিনিয়োগকারীদের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের সমঝোতা, শুরু হচ্ছে ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প চুয়েট ছাত্রদল সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ সিরাজুল ইসলাম দেশে ও বিদেশে জাতীয়তাবাদী আদর্শের অগ্র সৈনিক পাইকগাছায় বিএনপির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন সাত দিনের মধ্যে ওসমানী হাসপাতালের সব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সিডও দিবস উপলক্ষে কাউখালীতে মহিলা পরিষদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে বোমা বানাতে গিয়ে বিকট বিস্ফোরণ, আহত ৬; আটক ১ ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা শেষে কেমন আছেন অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি উৎসবমুখর আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন শ্রীপুরের গোয়ালদাহ হাট পরিদর্শনে ইউএনও নাজমুল ইসলাম ‘গোট’ বিতর্কে মেসির পোস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শিক্ষাসনদ প্রকাশ করুন, মোদিকে চ্যালেঞ্জ ককরোচ জনতা পার্টির দীপকের কালচারাল লীগের রোগ অনেক আগেই ডায়াগনসিস করে গেছেন আবুল মনসুর: ফারুকী বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল, দেশে আরও বাড়বে চরভদ্রাসনে শিক্ষার মানউন্নয়ন, মাদক ও বাল্যবিবাহ রোধকল্পে অভিভাবক সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ নির্ধারণ কুড়িগ্রামে শিক্ষকদের নিয়ে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত মানিকগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহতের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ রামগঞ্জে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন সব জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধিই সরকারের মূল লক্ষ্য:- ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল

কক্সবাজার সৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব, লাখো পর্যটকের সমাগম

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:01:13 pm, Thursday, 2 October 2025
  • 124 বার পড়া হয়েছে
তৌহিদ বেলাল:
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়া দশমীতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এসময় প্রতিমা বিসর্জনের মহাযজ্ঞে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো সৈকত এলাকা। লাখো মানুষের পদচারণায় সৈকত এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুর দু’টোয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চে বিজয়া সম্মেলনের মাধ্যমে শুরু হয় দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জনের এই আয়োজন।
প্রতিমা বিসর্জনের বিশাল আয়োজন
কক্সবাজার জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা ট্রাকযোগে সৈকতে আনা হয়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকেও প্রতিমা নিয়ে আসা হয়। তবে চকরিয়া ও পেকুয়ার মণ্ডপগুলোর প্রতিমা মাতামুহুরী নদীতে বিসর্জন করা হয়।
কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু জানান, বিকেল পাঁচটায় মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে সাগরে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। তিনি বলেন, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এই বৃহৎ আয়োজন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই বিশেষ দিনে কক্সবাজারে সমবেত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকে সৈকত এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি টহল লক্ষ্য করা গেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের সমন্বিত কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক কাজ করেছে।
কক্সবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। সারা দেশ থেকে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতেও আমরা তৎপর।
পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়:
চারদিনের টানা ছুটি ও বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে কয়েকদিনে কয়েক লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, শতভাগ রুমের অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী কয়েকদিন হোটেলগুলোতে প্রচুর চাপ থাকবে। পর্যটকদের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত রুম ভাড়া না নেওয়ার জন্য হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে। প্রতিমা বিসর্জন সফল করতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা শুরু থেকেই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
বৈরি আবহাওয়ায় সতর্কতা:
বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে।
সি সেইফ লাইফ গার্ডের কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বৈরি আবহাওয়ায় সৈকতে গোসল ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যটকদের গুপ্তখালের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। লাইফগার্ড সদস্যরা নিরলসভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তবে পর্যটকদেরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের এই প্রাণবন্ত আয়োজন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয়দের আন্তরিকতায় এই উৎসব পর্যটকদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদ প্রকাশের পর সাথী সিনেমা হলের সড়কে ইউএনও, নিম্নমানের খোয়া সরানোর নির্দেশ

কক্সবাজার সৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব, লাখো পর্যটকের সমাগম

আপডেট সময় : 08:01:13 pm, Thursday, 2 October 2025
তৌহিদ বেলাল:
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়া দশমীতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এসময় প্রতিমা বিসর্জনের মহাযজ্ঞে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো সৈকত এলাকা। লাখো মানুষের পদচারণায় সৈকত এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুর দু’টোয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চে বিজয়া সম্মেলনের মাধ্যমে শুরু হয় দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জনের এই আয়োজন।
প্রতিমা বিসর্জনের বিশাল আয়োজন
কক্সবাজার জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা ট্রাকযোগে সৈকতে আনা হয়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকেও প্রতিমা নিয়ে আসা হয়। তবে চকরিয়া ও পেকুয়ার মণ্ডপগুলোর প্রতিমা মাতামুহুরী নদীতে বিসর্জন করা হয়।
কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু জানান, বিকেল পাঁচটায় মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে সাগরে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। তিনি বলেন, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এই বৃহৎ আয়োজন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই বিশেষ দিনে কক্সবাজারে সমবেত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকে সৈকত এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি টহল লক্ষ্য করা গেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের সমন্বিত কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক কাজ করেছে।
কক্সবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। সারা দেশ থেকে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতেও আমরা তৎপর।
পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়:
চারদিনের টানা ছুটি ও বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে কয়েকদিনে কয়েক লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, শতভাগ রুমের অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী কয়েকদিন হোটেলগুলোতে প্রচুর চাপ থাকবে। পর্যটকদের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত রুম ভাড়া না নেওয়ার জন্য হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে। প্রতিমা বিসর্জন সফল করতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা শুরু থেকেই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
বৈরি আবহাওয়ায় সতর্কতা:
বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে।
সি সেইফ লাইফ গার্ডের কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বৈরি আবহাওয়ায় সৈকতে গোসল ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যটকদের গুপ্তখালের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। লাইফগার্ড সদস্যরা নিরলসভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তবে পর্যটকদেরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের এই প্রাণবন্ত আয়োজন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয়দের আন্তরিকতায় এই উৎসব পর্যটকদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।