Dhaka , Friday, 8 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ৪২ বোতল বিদেশি মদসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেপ্তার স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন কুড়িগ্রামের তরুণীর চিকিৎসার নামে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার পলাশে ইয়াবাসহ যুবক আটক চবির ঐতিহ্যবাহী আলাওল হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক জামালুল আকবর চৌধুরী দুর্গাপুরে ‘মুসলিম হজ ট্যুরস’-এর হজযাত্রীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও উপহার প্রদান সম্ভাবনাময় সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র বাস্তবায়নে দ্রুত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দাবি সম্পূর্ণ কুতুবপুর ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি ও অবস্থান কর্মসূচি ফতুল্লায় পুলিশের অভিযানে বিপুল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ১ মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গুলাবারুদসহ ৪ জলদস্যু আটক চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দেড় হাজার মানুষের বিশাল যোগদান চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম’র দায়িত্বভার গ্রহণ রূপগঞ্জে খাল পুনঃখননের দাবিতে কৃষক-গ্রামবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ লালমনিরহাট সীমান্তে ১৫ বিজিবির অভিযানে মাদকসহ নারী কারবারি আটক রংপুর বিভাগের দুই জেলায় র‍্যাবের মাদকবিরোধী অভিযান: ৯৪ কেজি গাঁজা ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ ইসরাইলি বোমা হামলায় লেবাননে- নিহত দিপালীর লাশ নিজ বাড়ীতে- জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন। লক্ষ্মীপুরে বজ্রপাতে কোরআনে হাফেজার মৃত্যু সৌদি আরবে নিহত দুর্গাপুরের শ্রমিক আল আমিনের মরদেহ দেশে আনতে উদ্যোগ নিলেন ডেপুটি স্পিকার পাইকগাছায় খালে অবৈধ নেট পাটা অপসারণে প্রশাসনের অভিযান চট্টগ্রামের কর্মমুখী শিক্ষার মান উন্নয়নে কসোভোর সাথে কাজ করতে চান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত এসডিএফ-এ চরম অস্থিরতা: চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগ দাবিতে কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বনখেকুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ রামুর খুনিয়া পালংয়ের মাদককারবারী আরিফ চট্টগ্রাম শহরে ইয়াবাসহ আটক পাঁচবিবির নবাগত ইউএনওর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেল অপরিষ্কার ও খাল ভরাটের কারণে রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ও টেক্সটাইল মালিক। কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৫ বিজিবি’র বড় সাফল্য: জব্দকৃত প্যান্ট পিসের বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা কালীগঞ্জ ও তারাগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান: পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটায় র‍্যাবের হানা রূপগঞ্জে নিরাপদ খাদ্য রপ্তানির লক্ষ্যে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি সদরে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসা নিয়েছে ৭৩, বাড়ছে নতুন ভর্তি স্মার্টফোনে জুয়া খেলায় যুবকের জেল-জরিমানা

কক্সবাজার সৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব, লাখো পর্যটকের সমাগম

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:01:13 pm, Thursday, 2 October 2025
  • 100 বার পড়া হয়েছে
তৌহিদ বেলাল:
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়া দশমীতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এসময় প্রতিমা বিসর্জনের মহাযজ্ঞে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো সৈকত এলাকা। লাখো মানুষের পদচারণায় সৈকত এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুর দু’টোয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চে বিজয়া সম্মেলনের মাধ্যমে শুরু হয় দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জনের এই আয়োজন।
প্রতিমা বিসর্জনের বিশাল আয়োজন
কক্সবাজার জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা ট্রাকযোগে সৈকতে আনা হয়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকেও প্রতিমা নিয়ে আসা হয়। তবে চকরিয়া ও পেকুয়ার মণ্ডপগুলোর প্রতিমা মাতামুহুরী নদীতে বিসর্জন করা হয়।
কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু জানান, বিকেল পাঁচটায় মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে সাগরে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। তিনি বলেন, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এই বৃহৎ আয়োজন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই বিশেষ দিনে কক্সবাজারে সমবেত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকে সৈকত এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি টহল লক্ষ্য করা গেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের সমন্বিত কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক কাজ করেছে।
কক্সবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। সারা দেশ থেকে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতেও আমরা তৎপর।
পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়:
চারদিনের টানা ছুটি ও বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে কয়েকদিনে কয়েক লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, শতভাগ রুমের অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী কয়েকদিন হোটেলগুলোতে প্রচুর চাপ থাকবে। পর্যটকদের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত রুম ভাড়া না নেওয়ার জন্য হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে। প্রতিমা বিসর্জন সফল করতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা শুরু থেকেই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
বৈরি আবহাওয়ায় সতর্কতা:
বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে।
সি সেইফ লাইফ গার্ডের কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বৈরি আবহাওয়ায় সৈকতে গোসল ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যটকদের গুপ্তখালের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। লাইফগার্ড সদস্যরা নিরলসভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তবে পর্যটকদেরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের এই প্রাণবন্ত আয়োজন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয়দের আন্তরিকতায় এই উৎসব পর্যটকদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ৪২ বোতল বিদেশি মদসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

কক্সবাজার সৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব, লাখো পর্যটকের সমাগম

আপডেট সময় : 08:01:13 pm, Thursday, 2 October 2025
তৌহিদ বেলাল:
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়া দশমীতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এসময় প্রতিমা বিসর্জনের মহাযজ্ঞে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো সৈকত এলাকা। লাখো মানুষের পদচারণায় সৈকত এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুর দু’টোয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চে বিজয়া সম্মেলনের মাধ্যমে শুরু হয় দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জনের এই আয়োজন।
প্রতিমা বিসর্জনের বিশাল আয়োজন
কক্সবাজার জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা ট্রাকযোগে সৈকতে আনা হয়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকেও প্রতিমা নিয়ে আসা হয়। তবে চকরিয়া ও পেকুয়ার মণ্ডপগুলোর প্রতিমা মাতামুহুরী নদীতে বিসর্জন করা হয়।
কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু জানান, বিকেল পাঁচটায় মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে সাগরে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। তিনি বলেন, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এই বৃহৎ আয়োজন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই বিশেষ দিনে কক্সবাজারে সমবেত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকে সৈকত এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি টহল লক্ষ্য করা গেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের সমন্বিত কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক কাজ করেছে।
কক্সবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। সারা দেশ থেকে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতেও আমরা তৎপর।
পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়:
চারদিনের টানা ছুটি ও বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে কয়েকদিনে কয়েক লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, শতভাগ রুমের অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী কয়েকদিন হোটেলগুলোতে প্রচুর চাপ থাকবে। পর্যটকদের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত রুম ভাড়া না নেওয়ার জন্য হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে। প্রতিমা বিসর্জন সফল করতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা শুরু থেকেই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
বৈরি আবহাওয়ায় সতর্কতা:
বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে।
সি সেইফ লাইফ গার্ডের কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বৈরি আবহাওয়ায় সৈকতে গোসল ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যটকদের গুপ্তখালের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। লাইফগার্ড সদস্যরা নিরলসভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তবে পর্যটকদেরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের এই প্রাণবন্ত আয়োজন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয়দের আন্তরিকতায় এই উৎসব পর্যটকদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।