Dhaka , Wednesday, 4 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রোহিঙ্গা পরিচয়ের অভিযোগে ফায়সালের ভুয়া এনআইডি-পাসপোর্ট, রাঙ্গুনিয়ায় আটক মাদক সেবনের দায়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলী আহম্মেদকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও বহিষ্কার কুড়িগ্রামে ১১৭০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার, একজনের বিরুদ্ধে ২০টি মাদক মামলা ‘এই পৃথিবীর জন্য বড্ড নরম মনের মানুষ আমি’: মেঘনা আলম পাইকগাছায় নাশকতা, জুয়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪ বি‌লে‌তের মা‌টি‌তে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ ও গুণীজন সম্মাননা ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষককে বিদায় সংবর্ধনা:: সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত, পুলিশের গাড়িতে আগুন, ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন সিলেট টেস্টে ব্যাটিং অর্ডারে রদবদলের ইঙ্গিত, তিনে নামতে পারেন অধিনায়ক ১৯ বছরেই এমবাপ্পেকে টপকে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ ‘মিথ্যা’: সংবাদ সম্মেলনে সেলিম উদ্দিন খাগড়াছড়িতে ৫৫তম পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত, ‘গিরিস্বপ্ন ২০২৬’-এর মোড়ক উন্মোচন রূপগঞ্জ পূর্বাচলের ৩০০ ফুটে প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি \ চালকসহ তিন জন গ্রেফতার সীতাকুণ্ডে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে সচিবকে ডিসির চিঠি, ২৪ ঘণ্টায় নানা পদক্ষেপ আসামে উচ্ছেদ অভিযানে গৃহহীন ৪ হাজার বাঙালি মুসলিম ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতের আহ্বান জিএম কাদেরের জয়পুরহাটে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান একনেক সভায় বিসিসির জন্য ৭০১ কোটি টাকা অনুমোদন : অবহেলিত থেকে গেল দক্ষিণাঞ্চল মধুপুরে সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের দাবিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিচ্ছে জাইকা, চট্টগ্রামে নির্মিত হবে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সাভারে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫০ ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ নারায়ণগঞ্জে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ কালিয়াকৈরে শ্রমিকের আন্দোলন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন নেত্রকোনার পূর্বধলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কাউখালীতে নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সম্ভাবনাময় সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র বাস্তবায়নে দ্রুত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দাবি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:07:24 pm, Friday, 8 May 2026
  • 127 বার পড়া হয়েছে

পলাশ সাহা নেত্রকোণা প্রতিনিধি:

সীমান্ত মানেই শুধু বিভাজন নয়-সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগে তা হতে পারে উন্নয়ন, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত। নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের রামনাথপুর–মহেষখোলা প্রস্তাবিত স্থলবন্দর সেই সম্ভাবনারই প্রতীক। তবে প্রায় ২৪ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে রামনাথপুর আমদানি-রপ্তানিকারক (অভ্যন্তরীণ) ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে সীমান্ত পিলার ১১৮৬/৫-এস ও ১১৮৬/৬-এস সংলগ্ন এলাকায় ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিষয়টি একাধিকবার পর্যালোচনা করেছে এবং সম্ভাবনার ইতিবাচক ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
মাঠ পর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত স্থানে স্থলবন্দর স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সম্ভাবনা বিদ্যমান।
উপজেলা সদর থেকে রামনাথপুর পর্যন্ত আংশিক পাকা সড়ক, নদীপথ ব্যবহারের সুযোগ এবং সীমান্তের ওপারে ভারতের মহেষখোলা এলাকায় কয়লা ও চুনাপাথরের সম্ভাব্য মজুদ- সব মিলিয়ে এলাকাটি বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে প্রায় ২৮ একর জমিতে ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে তারা নিজস্ব অর্থায়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রস্তুত। তাদের মতে, এই স্থলবন্দর চালু হলে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় সম্ভব।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত অঞ্চলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ নানা খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে চোরাচালান ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
রামনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মতিশ ম্রং বলেন, “স্থলবন্দর হলে আমাদের এলাকায় কাজের সুযোগ বাড়বে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।”
রামনাথপুর আমদানি-রপ্তানিকারক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন প্রয়োজন দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।”
রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল বলেন, “এই স্থলবন্দর বাস্তবায়ন হলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।”
কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, “বৈধ বাণিজ্য বাড়লে সরকার পাবে রাজস্ব, মানুষ পাবে কর্মসংস্থান-এটি একটি টেকসই উন্নয়ন মডেল হতে পারে।”
এদিকে নেত্রকোনা জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আলহাজ্ব সোহরাব উদ্দিন আকন্দ (খায়রুল) বলেন, “একটি দেশের উন্নয়ন মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের ওপর নির্ভরশীল। নেত্রকোণা জেলা ও কলমাকান্দা উপজেলায় শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এই স্থলবন্দর চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত থেকে কয়লা, চুনাপাথর, পাথর, বালু, কাঠসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে খাদ্যপণ্য, মাছ, গার্মেন্টস, পাট, চামড়া, প্লাস্টিক, সিরামিক ও ইলেকট্রনিক্সসহ নানা পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। এতে যৌথ বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপনের পথও উন্মুক্ত হবে।”
তিনি যোগ করেন, “সীমান্ত স্থলবন্দর চালু হলে অবৈধ চোরাচালান অনেকাংশে বন্ধ হবে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক ‘মৈত্রী বাজার’ চালু করা গেলে দুই দেশের সাধারণ ব্যবসায়ী, পর্যটক ও সীমান্তবর্তী জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।”
তবে দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগ এখনো প্রশাসনিক কিছু ধাপে আটকে আছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসন পর্যায়ের প্রতিবেদন ও সমন্বয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মিকাইল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।”
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সচেতন মহলের মতে, বর্তমান বাংলাদেশ–ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে রামনাথপুর স্থলবন্দর একটি ‘উইন-উইন’ প্রকল্প হতে পারে। এতে সীমান্তে বৈধ বাণিজ্য বাড়বে, আঞ্চলিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
সব মিলিয়ে, দুই যুগের বেশি সময় ধরে প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই পারে সীমান্তের এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে- যেখানে লাভবান হবে দুই দেশের জনগণ, শক্তিশালী হবে অর্থনীতি, আর উন্মোচিত হবে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা পরিচয়ের অভিযোগে ফায়সালের ভুয়া এনআইডি-পাসপোর্ট, রাঙ্গুনিয়ায় আটক

সম্ভাবনাময় সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র বাস্তবায়নে দ্রুত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দাবি

আপডেট সময় : 07:07:24 pm, Friday, 8 May 2026

পলাশ সাহা নেত্রকোণা প্রতিনিধি:

সীমান্ত মানেই শুধু বিভাজন নয়-সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগে তা হতে পারে উন্নয়ন, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত। নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের রামনাথপুর–মহেষখোলা প্রস্তাবিত স্থলবন্দর সেই সম্ভাবনারই প্রতীক। তবে প্রায় ২৪ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে রামনাথপুর আমদানি-রপ্তানিকারক (অভ্যন্তরীণ) ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে সীমান্ত পিলার ১১৮৬/৫-এস ও ১১৮৬/৬-এস সংলগ্ন এলাকায় ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিষয়টি একাধিকবার পর্যালোচনা করেছে এবং সম্ভাবনার ইতিবাচক ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
মাঠ পর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত স্থানে স্থলবন্দর স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সম্ভাবনা বিদ্যমান।
উপজেলা সদর থেকে রামনাথপুর পর্যন্ত আংশিক পাকা সড়ক, নদীপথ ব্যবহারের সুযোগ এবং সীমান্তের ওপারে ভারতের মহেষখোলা এলাকায় কয়লা ও চুনাপাথরের সম্ভাব্য মজুদ- সব মিলিয়ে এলাকাটি বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে প্রায় ২৮ একর জমিতে ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে তারা নিজস্ব অর্থায়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রস্তুত। তাদের মতে, এই স্থলবন্দর চালু হলে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় সম্ভব।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত অঞ্চলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ নানা খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে চোরাচালান ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
রামনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মতিশ ম্রং বলেন, “স্থলবন্দর হলে আমাদের এলাকায় কাজের সুযোগ বাড়বে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।”
রামনাথপুর আমদানি-রপ্তানিকারক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন প্রয়োজন দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।”
রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল বলেন, “এই স্থলবন্দর বাস্তবায়ন হলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।”
কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, “বৈধ বাণিজ্য বাড়লে সরকার পাবে রাজস্ব, মানুষ পাবে কর্মসংস্থান-এটি একটি টেকসই উন্নয়ন মডেল হতে পারে।”
এদিকে নেত্রকোনা জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আলহাজ্ব সোহরাব উদ্দিন আকন্দ (খায়রুল) বলেন, “একটি দেশের উন্নয়ন মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের ওপর নির্ভরশীল। নেত্রকোণা জেলা ও কলমাকান্দা উপজেলায় শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এই স্থলবন্দর চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত থেকে কয়লা, চুনাপাথর, পাথর, বালু, কাঠসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে খাদ্যপণ্য, মাছ, গার্মেন্টস, পাট, চামড়া, প্লাস্টিক, সিরামিক ও ইলেকট্রনিক্সসহ নানা পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। এতে যৌথ বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপনের পথও উন্মুক্ত হবে।”
তিনি যোগ করেন, “সীমান্ত স্থলবন্দর চালু হলে অবৈধ চোরাচালান অনেকাংশে বন্ধ হবে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক ‘মৈত্রী বাজার’ চালু করা গেলে দুই দেশের সাধারণ ব্যবসায়ী, পর্যটক ও সীমান্তবর্তী জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।”
তবে দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগ এখনো প্রশাসনিক কিছু ধাপে আটকে আছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসন পর্যায়ের প্রতিবেদন ও সমন্বয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মিকাইল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।”
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সচেতন মহলের মতে, বর্তমান বাংলাদেশ–ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে রামনাথপুর স্থলবন্দর একটি ‘উইন-উইন’ প্রকল্প হতে পারে। এতে সীমান্তে বৈধ বাণিজ্য বাড়বে, আঞ্চলিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
সব মিলিয়ে, দুই যুগের বেশি সময় ধরে প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই পারে সীমান্তের এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে- যেখানে লাভবান হবে দুই দেশের জনগণ, শক্তিশালী হবে অর্থনীতি, আর উন্মোচিত হবে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত।