Dhaka , Wednesday, 4 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান একনেক সভায় বিসিসির জন্য ৭০১ কোটি টাকা অনুমোদন : অবহেলিত থেকে গেল দক্ষিণাঞ্চল মধুপুরে সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের দাবিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিচ্ছে জাইকা, চট্টগ্রামে নির্মিত হবে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সাভারে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫০ ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ নারায়ণগঞ্জে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ কালিয়াকৈরে শ্রমিকের আন্দোলন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন নেত্রকোনার পূর্বধলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কাউখালীতে নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত স্পেনের ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ ইয়ামালের বাবার স্কুলে থাকতেই পাইলট, বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নাথালিয়ার স্বর্ণের চাহিদায় ভাটা, কমল বার ও কয়েন কেনার পূর্বাভাস শুধু ‘স্যরি’ বললেই কি মুছে যায় মনের কষ্ট? ‘ও আমাকে মা-বাবার চেয়েও বেশি বোঝে’ সরাইলে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারীসহ ৮ জন আহত, এলাকায় আতঙ্ক কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীতে বন্ধুদের সাথে সাতার কাটতে গিয়ে নিখোজ গার্মেন্টস শ্রমিকের লাশ উদ্ধার কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদ ইসলামের শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি রূপগঞ্জে গৃহবধূকে কুপিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই রূপগঞ্জে সিম গ্রুপের পোশাক কারখানায় ডায়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ টেকনাফের সাগরে মাছ ধরার নৌকায় বজ্রপাতের আঘাতে ১ জেলে নিহত! নবপ্রজন্মের মাঝে ইসলামের সৌন্দর্য ও শাশ্বত জীবনদর্শন তুলে ধরতে হবে – ইসলামী যুবসমাজ দুর্গাপুরে নাঈমুরের সাফল্যের হেট্রিক : টানা তিন পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে নতুন ইতিহাস মধুপুরে পর্নোগ্রাফি ও ইয়াবা কারবারের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, মোবাইল-ল্যাপটপ উদ্ধার পাইকগাছায় মরহুম শামসুর রহমানের স্মরণে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল ‎গাইবান্ধায় এলজিইডির বাস্তবায়নে খানাখন্দের রাস্তা ফিরে পেল প্রাণ ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

একনেক সভায় বিসিসির জন্য ৭০১ কোটি টাকা অনুমোদন : অবহেলিত থেকে গেল দক্ষিণাঞ্চল

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 03:58:34 pm, Wednesday, 4 November 2026
  • 0 বার পড়া হয়েছে

আরিফ আহমেদ,

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, খাল দখল, নাব্যতা সংকট ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের দুর্ভোগ থেকে বরিশাল নগরবাসীকে মুক্তি দিতে ৭০১ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প ঘিরে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বরিশালে। তবে পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের জন্য এবারও আসেনি কোনো সুখবর। ৪ নভেম্বর বুধবার অনুষ্ঠিত একনেক সভায় বরিশাল নগরীর বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ৭০১ কোটি ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৫৬১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি সরকারি অনুদান এবং ১৪০ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি সরকারি ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ ৮০ শতাংশ সরকারি অনুদান ও ২০ শতাংশ ঋণ। তবে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন বা বরাদ্দ হয়েছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত বলা যাচ্ছেনা। কেননা ইতিপূর্বেও বরিশাল সিটি করপোরেশনের জন্য এরকম ৮০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদন হয়েছিল। যা শেষ পর্যন্ত বিসিসি বুঝে পায়নি।
৪ নভেম্বর প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার, খালের দুই পাড়ে আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল ও ব্লক দিয়ে সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং সবুজায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরীর পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু এত বড় বরাদ্দের খবরের মধ্যেও অতীতের প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যর্থতা, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন বৈষম্যের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
কারণ বরিশালের মানুষের কাছে খাল পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার খাল খনন, সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নগরীর বাস্তব চিত্রে তার প্রত্যাশিত প্রতিফলন ঘটেনি। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে বিসিসির উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ না থাকার তথ্যের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে কেএফডব্লিউ প্রকল্পের আওতায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার কাজ চলমান থাকার তথ্য দিয়েছিল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগ। একই সময়ে নগরীর খাল খননের জন্য দুই হাজার কোটি টাকা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছিল। অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাননি বাসিন্দারা।
অতীতের খাল খনন প্রকল্পের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ সাতটি খাল পুনঃখননের ঘটনা। ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ড বরিশাল নগরীর সাতটি খাল খননের কাজ শুরু করে। আমানতগঞ্জ, জেল খাল, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী ও ভাটার খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ চলাকালেই অপরিকল্পিত খননের কারণে আটটি স্থানে সড়ক ভেঙে পড়ার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় না করেই খননকাজ পরিচালনা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, খননের দেড় বছর না যেতেই সাতটি খাল আবার ভরাট হয়ে গেছে। খালগুলোর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বিশেষ করে জেল খাল দিয়ে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে হাটখোলা, কলাপট্টি, ফড়িয়ারপট্টি, পেঁয়াজপট্টি ও পোর্ট রোডের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই প্রতিবেদনে বিসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, খাল পুনরুদ্ধারে ৭৫৯ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই প্রকল্প প্রস্তাবের ব্যয় পরিবর্তিত হয়ে ৭০১ কোটি ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় দাঁড়ায়।
খাল খননে বরাদ্দ পেয়েও অর্থ ফেরত দেওয়ার নজিরও রয়েছে। ২০২৬ সালের ২ আগস্ট এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বরিশাল সদর উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখননে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রায় পুরো অর্থই ফেরত গেছে। মরকখোলার পোল থেকে ঝড়ঝড়িয়াতলা বাজার হয়ে মাঝিবাড়ির ব্রিজ পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার খাল খননে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। কিন্তু সেখানে কোনো কাজই হয়নি। অন্যদিকে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের তিন কিলোমিটার খাল খননে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৪৬ টাকা। বাকি অর্থ ফেরত গেছে সরকারি কোষাগারে।
অর্থাৎ একদিকে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খননের পর দেড় বছরের মধ্যে আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বরাদ্দ পেয়েও খননকাজ সম্পন্ন না করে অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় প্রকল্প গ্রহণ, বাস্তবায়ন, তদারকি ও অর্থ ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, খাল দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে বরিশালের জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রকট হয়েছে। নগরীর অনেক খালের অস্তিত্ব সংকুচিত হয়ে এসেছে। কোথাও খালের জায়গা দখল, কোথাও পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত, আবার কোথাও খালের সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেনগুলোও কার্যকারিতা হারিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে শুধু খনন নয়, খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব গ্রহণের পর নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি তার খাল পুনরুদ্ধারে বেশকিছু পদক্ষেপ আটকে যায় বরাদ্দের অভাবে।
নতুন ৭০১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন তাই আশার সঞ্চার ঘটিয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ নগর চিন্তাবিদদের। নগর চিন্তাবিদদের একজন কাজী মিজানুর রহমান বলেন, কোন খালে কতটুকু খনন হবে, কত কিলোমিটার পাড় সংরক্ষণ করা হবে, কাজের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হবে এবং প্রকল্প শেষে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার ওপর থাকবে, এসব বিষয় স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও কাজের অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরার ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে জানান তিনি।
খালের সঙ্গে নদীর সংযোগ, জোয়ার-ভাটার পানিপ্রবাহ এবং নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া শুধু খনন ও পাড় বাঁধাই করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও মনে করেন অনেকে।
এদিকে বরিশালের উন্নয়ন চাহিদা শুধু নগরীর খাল পুনরুদ্ধারেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, শিল্পায়ন, কৃষি ও মৎস্য অবকাঠামো উন্নয়নের দীর্ঘদিনের দাবিও রয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়লেও সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর মতো সমন্বিত অবকাঠামো এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় গড়ে ওঠেনি।
বরিশাল-ভোলা- লক্ষ্মীপুর সড়ক যোগাযোগ, ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক, বরিশাল অঞ্চলের নদ-নদীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ এবং ভোলাকে সরাসরি মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার মতো প্রকল্পগুলো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ইতিপূর্বে এক বৈঠকে ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গত ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত এ রুটটি বেছে নেওয়া হয়। বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন সড়ক ও তিনটি ছোট সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তবে এটি এখনো একনেকে অনুমোদিত কোনো প্রকল্প নয় এবং ৪ নভেম্বর বৈঠকে এটি আর উপস্থাপন হয়নি।
অন্যদিকে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্পও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এ সড়ক বাস্তবায়িত হলে পদ্মা সেতুর সঙ্গে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পণ্য পরিবহন, শিল্পায়ন, পর্যটন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এসব বৃহৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীকে।
স্বাস্থ্য খাতেও বরিশাল অঞ্চলের বঞ্চনার চিত্র স্পষ্ট। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের লিফট অচল থাকা, চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকট এবং রোগীদের দুর্ভোগের মতো সমস্যাগুলোও সমাধানের অপেক্ষায়। একইভাবে নদীভাঙন, কৃষি ও মৎস্য অবকাঠামো এবং উপকূলীয় এলাকার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও বড় ধরনের সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রশ্নে তাই ৭০১ কোটি টাকার খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই সামগ্রিক উন্নয়নের চাহিদার সমাধান নয়। বরং এটি হতে পারে বরিশাল নগরীর দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে ওঠার একটি সুযোগ।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, নতুন প্রকল্পে শুধু বরাদ্দ ঘোষণা নয়, দৃশ্যমান ও টেকসই কাজের নিশ্চয়তা থাকবে। আগের প্রকল্পগুলোর অর্থ ব্যয়, বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং অনিয়ম বা ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে তারও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান

একনেক সভায় বিসিসির জন্য ৭০১ কোটি টাকা অনুমোদন : অবহেলিত থেকে গেল দক্ষিণাঞ্চল

আপডেট সময় : 03:58:34 pm, Wednesday, 4 November 2026

আরিফ আহমেদ,

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, খাল দখল, নাব্যতা সংকট ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের দুর্ভোগ থেকে বরিশাল নগরবাসীকে মুক্তি দিতে ৭০১ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প ঘিরে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বরিশালে। তবে পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের জন্য এবারও আসেনি কোনো সুখবর। ৪ নভেম্বর বুধবার অনুষ্ঠিত একনেক সভায় বরিশাল নগরীর বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ৭০১ কোটি ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৫৬১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি সরকারি অনুদান এবং ১৪০ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি সরকারি ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ ৮০ শতাংশ সরকারি অনুদান ও ২০ শতাংশ ঋণ। তবে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন বা বরাদ্দ হয়েছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত বলা যাচ্ছেনা। কেননা ইতিপূর্বেও বরিশাল সিটি করপোরেশনের জন্য এরকম ৮০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদন হয়েছিল। যা শেষ পর্যন্ত বিসিসি বুঝে পায়নি।
৪ নভেম্বর প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার, খালের দুই পাড়ে আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল ও ব্লক দিয়ে সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং সবুজায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরীর পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু এত বড় বরাদ্দের খবরের মধ্যেও অতীতের প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যর্থতা, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন বৈষম্যের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
কারণ বরিশালের মানুষের কাছে খাল পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার খাল খনন, সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নগরীর বাস্তব চিত্রে তার প্রত্যাশিত প্রতিফলন ঘটেনি। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে বিসিসির উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ না থাকার তথ্যের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে কেএফডব্লিউ প্রকল্পের আওতায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার কাজ চলমান থাকার তথ্য দিয়েছিল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগ। একই সময়ে নগরীর খাল খননের জন্য দুই হাজার কোটি টাকা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছিল। অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাননি বাসিন্দারা।
অতীতের খাল খনন প্রকল্পের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ সাতটি খাল পুনঃখননের ঘটনা। ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ড বরিশাল নগরীর সাতটি খাল খননের কাজ শুরু করে। আমানতগঞ্জ, জেল খাল, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী ও ভাটার খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ চলাকালেই অপরিকল্পিত খননের কারণে আটটি স্থানে সড়ক ভেঙে পড়ার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় না করেই খননকাজ পরিচালনা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, খননের দেড় বছর না যেতেই সাতটি খাল আবার ভরাট হয়ে গেছে। খালগুলোর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বিশেষ করে জেল খাল দিয়ে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে হাটখোলা, কলাপট্টি, ফড়িয়ারপট্টি, পেঁয়াজপট্টি ও পোর্ট রোডের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই প্রতিবেদনে বিসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, খাল পুনরুদ্ধারে ৭৫৯ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই প্রকল্প প্রস্তাবের ব্যয় পরিবর্তিত হয়ে ৭০১ কোটি ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় দাঁড়ায়।
খাল খননে বরাদ্দ পেয়েও অর্থ ফেরত দেওয়ার নজিরও রয়েছে। ২০২৬ সালের ২ আগস্ট এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বরিশাল সদর উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখননে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রায় পুরো অর্থই ফেরত গেছে। মরকখোলার পোল থেকে ঝড়ঝড়িয়াতলা বাজার হয়ে মাঝিবাড়ির ব্রিজ পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার খাল খননে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। কিন্তু সেখানে কোনো কাজই হয়নি। অন্যদিকে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের তিন কিলোমিটার খাল খননে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৪৬ টাকা। বাকি অর্থ ফেরত গেছে সরকারি কোষাগারে।
অর্থাৎ একদিকে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খননের পর দেড় বছরের মধ্যে আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বরাদ্দ পেয়েও খননকাজ সম্পন্ন না করে অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় প্রকল্প গ্রহণ, বাস্তবায়ন, তদারকি ও অর্থ ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, খাল দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে বরিশালের জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রকট হয়েছে। নগরীর অনেক খালের অস্তিত্ব সংকুচিত হয়ে এসেছে। কোথাও খালের জায়গা দখল, কোথাও পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত, আবার কোথাও খালের সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেনগুলোও কার্যকারিতা হারিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে শুধু খনন নয়, খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব গ্রহণের পর নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি তার খাল পুনরুদ্ধারে বেশকিছু পদক্ষেপ আটকে যায় বরাদ্দের অভাবে।
নতুন ৭০১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন তাই আশার সঞ্চার ঘটিয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ নগর চিন্তাবিদদের। নগর চিন্তাবিদদের একজন কাজী মিজানুর রহমান বলেন, কোন খালে কতটুকু খনন হবে, কত কিলোমিটার পাড় সংরক্ষণ করা হবে, কাজের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হবে এবং প্রকল্প শেষে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার ওপর থাকবে, এসব বিষয় স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও কাজের অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরার ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে জানান তিনি।
খালের সঙ্গে নদীর সংযোগ, জোয়ার-ভাটার পানিপ্রবাহ এবং নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া শুধু খনন ও পাড় বাঁধাই করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও মনে করেন অনেকে।
এদিকে বরিশালের উন্নয়ন চাহিদা শুধু নগরীর খাল পুনরুদ্ধারেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, শিল্পায়ন, কৃষি ও মৎস্য অবকাঠামো উন্নয়নের দীর্ঘদিনের দাবিও রয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়লেও সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর মতো সমন্বিত অবকাঠামো এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় গড়ে ওঠেনি।
বরিশাল-ভোলা- লক্ষ্মীপুর সড়ক যোগাযোগ, ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক, বরিশাল অঞ্চলের নদ-নদীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ এবং ভোলাকে সরাসরি মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার মতো প্রকল্পগুলো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ইতিপূর্বে এক বৈঠকে ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গত ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত এ রুটটি বেছে নেওয়া হয়। বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন সড়ক ও তিনটি ছোট সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তবে এটি এখনো একনেকে অনুমোদিত কোনো প্রকল্প নয় এবং ৪ নভেম্বর বৈঠকে এটি আর উপস্থাপন হয়নি।
অন্যদিকে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্পও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এ সড়ক বাস্তবায়িত হলে পদ্মা সেতুর সঙ্গে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পণ্য পরিবহন, শিল্পায়ন, পর্যটন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এসব বৃহৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীকে।
স্বাস্থ্য খাতেও বরিশাল অঞ্চলের বঞ্চনার চিত্র স্পষ্ট। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের লিফট অচল থাকা, চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকট এবং রোগীদের দুর্ভোগের মতো সমস্যাগুলোও সমাধানের অপেক্ষায়। একইভাবে নদীভাঙন, কৃষি ও মৎস্য অবকাঠামো এবং উপকূলীয় এলাকার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও বড় ধরনের সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রশ্নে তাই ৭০১ কোটি টাকার খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই সামগ্রিক উন্নয়নের চাহিদার সমাধান নয়। বরং এটি হতে পারে বরিশাল নগরীর দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে ওঠার একটি সুযোগ।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, নতুন প্রকল্পে শুধু বরাদ্দ ঘোষণা নয়, দৃশ্যমান ও টেকসই কাজের নিশ্চয়তা থাকবে। আগের প্রকল্পগুলোর অর্থ ব্যয়, বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং অনিয়ম বা ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে তারও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।