
মাকসুদুল হোসেন তুষার,
কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির বৃষ্টিপাত এর কারনে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিচু এলাকার মানুষ ও কারখানা মালিক। প্রভাবশালীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেল ও সরকারি খাল ভরাটের কারণেই এ জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সকলে।
যত বড়ই প্রভাবশালী হোক না কেন দখল হওয়া সরকারি ক্যানেল ও খাল উদ্ধার করে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন দাবি জানান সরকারের কাছে।
সরজমিনে ঘুরে জানা যায়, উপজেলার অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জলাবদ্ধতা। প্রতিবছর এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হলেই উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকার ঘর বাড়িসহ বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন এবং মিল ফ্যাক্টরিগুলোতে পানি ঢুকে বন্ধের দিকে চলে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন কর্মজীবী সাধারণ মানুষ। গত কিছুদিনের বৃষ্টির পানিতে বেরিবাধের ভেতরের বরপা,মৈকুলী, খাদুন, মোগরাকুল, পবনকুল, মাসাবো, গোলাকান্দাইল, কর্ণগোপ ও ৫ নম্বর ক্যানেল, বরপা, তাড়াবো এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা ও মিল ফ্যাক্টরি সকলে দুর্ভোগে পড়েছেন। সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকা, এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়েছেন।মিল ফ্যাক্টরিগুলোতে তারা পৌরসভার পারমিশন নিয়ে দুটি করে মটর স্থাপন করেন। পানি নিষ্কাশনের জন্য কিন্তু খাল গুলো অপরিষ্কার এবং ভরাট থাকার কারণে মোটরে চালিত পানি গুলো খাল বা ক্যানেল দিয়ে যেতে পারছে না।ফলে এলাকার কিছু বাড়ি পানিতে তলিয়ে যায় তাই মটর করে রাখতে হয়। মটর গুলো চালাতে না পেরে আমি বন্দি হয়ে পড়ে সাত থেকে আটটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কারখানা। বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেটকার, রিক্সা ও সিএনজি চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে । কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে যেতে পারছেন না, শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, খাল দখল ও ভরাটের কারণেই সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রভাবশালীরা বিভিন্ন ক্যানেল ও সরকারি খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এতে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়েছে। অনেকে এলাকায় খাল না থাকার কারণে পানি আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাড়িঘরে পানি ঢুকছে। জলা বদ্ধতার কারণে প্রায় এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না।
শ্রমিকরা জানান, সামনে ঈদুল আযহা তাদের বেতন বোনাস দেওয়া হবে। এই চলার মত তার কারণে তাদের মিলগুলো বন্ধের পথে। যদি মিলগুলো বন্ধ হয়ে যায় তারা তাদের পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারবেন। তারা চান দ্রুত যেন এই খালের এবং কেনাল উদ্ধার করে পানির লাইনের ব্যবস্থা করে দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল গুলো খননের কথা বলেছেন। সেটা পর্যায়ক্রমে হচ্ছে । বর্ষার আগে আপাতত পানির চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পৌরসভাসহ অন্যান্য এলাকা গুলোতে ক্যানেল ও খালগুলো পরিষ্কার করে রাখা সে কাজগুলো আমরা করছি। তাহলে জনদুর্ভোগ অনেকটা কমে আসবে।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খাল পুনরুদ্ধার করে খাল খনন করা হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। রূপগঞ্জবাসীর এবং শ্রমিক ও কারখানার মালিকদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হবে।
























