
অরবিন্দ রায়,
নরসিংদীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নারীদের ব্যবহার করার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ দলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে নারীদের ব্যবহার করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল করে প্রতারণার ফাঁদে অর্থ হাতিয়ে নিতো।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক নির্দেশনায় পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জনাব এরশাদ উল্লাহ’র নেতৃত্বে এসআই শেখ মোঃ জসিম উদ্দিন ও এসআই আব্দুস সালাম এর সমন্নয়ে ডিবি একটি দল সদর থানার সাহেপ্রতাপ ও রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো: ১. শারমিন আক্তার ওরফে বৃষ্টি (২৪), পিতাঃ অহিদ মিয়া, সাং-জিনারদী, থানাঃ পলাশ। ২. স্মৃতি আক্তার (২০), পিতাঃ মৃত হিরন মিয়া, সাং-হাজীপুর, নরসিংদী সদর। ৩. মোঃ কাইয়ুম (২৫), পিতাঃ মৃত আরমান মিয়া, সাং-উত্তর বাগহাটা, নরসিংদী সদর। ৪. ফয়সাল মিয়া (৩৪), পিতাঃ জসিম মিয়া, সাং-খাটেহারা, নরসিংদী সদর। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ফয়সাল মিয়া বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। অভিযানকালে আসামি ফয়সালের কাছ থেকে ভিকটিম মোঃ পারভেজ হাসানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে নারীদের দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আসছিল। পরে দেখা করার কথা বলে তাদের নির্জন স্থানে নিয়ে অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিমকে বিবস্ত্র করে নারী সদস্যদের সাথে ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত এই চক্র। টাকা দিতে না পারলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হতো।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে স্মৃতি আক্তারের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, ফয়সাল মিয়ার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, মাদক এবং চুরিসহ নরসিংদী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অন্তত ৭টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে নরসিংদী মডেল থানার মামলা রুজু করা হয়েছে। জনস্বার্থে অপরাধ দমনে নরসিংদী জেলা পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
























