
ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম,
ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ৭ বছর বয়সী শিশু নেয়ামুলকে অমানবিকভাবে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর মামলায় ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন (আমৃত্যু) কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিচার সম্পন্ন হওয়ায় এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে উন্নত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়া ভিকটিম নেয়ামুলকে তার পিতার জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১) জানায়, ২০১০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় শিশু নেয়ামুলকে অপহরণ করে শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান আলীসহ ৫ জন। পরে তাকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ধারালো ব্লেড দিয়ে তার গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্নসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মো. উমেদ আলী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে র্যাব-১ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তকালে প্রধান আসামিসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হয় এবং তিনজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
র্যাব-১ ২০১১ সালের ১৫ মে মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ মামলার রায় ঘোষণা করে ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এদিকে, ঘটনার ভয়াবহতা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হলে ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম CNN-এর সহযোগিতায় এবং মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগে নেয়ামুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুই মাস চিকিৎসা শেষে সে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসে।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল আদালত ভিকটিমকে তার পিতার জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী ৫ মে র্যাব-১-এর তত্ত্বাবধানে এবং মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নেয়ামুলকে তার পিতা মো. উমেদ আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব-১ জানায়, এ ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
























